Monday, 5 October 2020

রমা

 রমা 

আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদের স্কুলে আমাদের পড়িয়েছেন দশম ক্লাস পর্যন্ত । ক্লাস ৪ থাকতেই খুব সহজে মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন টেন্স । প্রথম দিন ৪ তা রুল এমন করে ৩ দিনে পুরো টেন্স মাথার ভিতর । হটাত হটাত করে বলবে এই রুলস তা লিখে দাও না হলে ৫ মার্ক্স কাটা । ছোট মাথায় ডুকিয়ে দিলেন প্রথম ভালবাসার মত টেন্স কে ।  উনি আমাদের ধর্ম স্যার না  আসলে ক্লাস নিতেন , প্রতি জন পরে পরে বুজাবে সে কি বুজছে ! ক্লাসে পড়া খতম । ক্লাসে পিন পন নিরবতা থাকতো মেম এর ক্লাসে কারন কে যে কখন ধরা খাবে এর মুরগী বানাবে তাই আগে থেকে পড়া ও মন যোগ এক সাথে দিতে হত । আমাদের তখন ই শিখিয়েছেন শৃঙ্খলা , একসাথে চলা , ন্যায় , অন্যায় ,আবে্‌ ধর্ম ,সামাজিকতা , আর নিজেকে জানা । প্রতিদিন ভাবতাম মেম বুজি আজ ময়মন্সিং নিয়ে কথা বলবে ! যেখানে গল্প গুলার ভিতর থাকতো রাজা রানী অলৌকিক কাহিনী অথবা কি কি দারুণ সব জায়গা আছে ওখানে । আমরা ছোট বেলাতেই ভেবে রেখেছি যাব তো যাব ওই ময়মন্সিং । 

আমরা ক্লাস ৫ এ উঠলাম , মেম বদলে গেলেন । চরম হার্ড লাইন । এইবার তোদের কিছু করতেই হবে । ক্লাস শেষে আবার কোচিং । এর আন্সার এই ভাবে দিবে । অটাকে ঘুরিয়ে দিলে এই আন্সার । কত পরিশ্রম যে করত আমাদের পিছনে । তোমার আন্সার এত খারাপ হল কেন ? ভাষা টা ঘুরিয়ে বললে কত সুন্দর হত আন্সার । মেম একটা শিট লিখেছিলেন আমাদের জন্নে এত সুন্দর করে লিখাটা আজ ও মনে হয় চোখে ভাষে । একটা পাখি ছিল সেই ডাইরির পাতায়।  মেম শুধু পথ দেখাতেন আর আমরা সেই পথে দৌড় দিতাম । ক্লাস ৫ এ থাকতে আমাদের দিয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা বলাতেন , আর উনি গান শুনাতেন । উদবট উদ্ভট গল্প শুনাতেন, আমরা হাসতাম , হাঁসতে হাঁসতে পারলে বেঞ্চ থেকে নিচে পড়ে যেতাম । 

ক্লাস ৬ এ উঠলাম , মেম বললেন , এই বার নাটক করবি । এই গল্প আয় রিহাসেল করি । দল বেধে আমরা সারা বছর রিহারসেল করলাম । কোন কিছুই কারো লিখা নাই , মুখে মুখে লাইন , মুখে মুখে গান , মুখে মুখে ছন্দ । আমরা তো করতাম আর হাসতাম আমাদের ক্লাসের প্রত্যেকটা মেয়ে ছেলে তারাও আজ আমার মত বলবে, হাঁ ও এক জন ছিলেন বলে আজ আমরা সবাই এক একজন আলাদা সত্তা । 

ক্লাস ৭ এ উঠলাম । মেম তো পিছন পড়েই আছে । কৈ যাবি তোরা । তোদের আমি ছাড়ছি না । শুরু হল বিতর্ক । কেন জানি এই মহিলা আমার দিকে নজর দিল ! যে আমি বলতে পারিনা সেই ফার্স্ট বক্তা । মেহেদি আর শঞ্ছি ওদের কত হাজার বকা খেয়েছি , ওরা আমাকে বকতে বকতে শেষে আমরা অনেক ট্রপি এনে দিয়েছি । প্রতিটা বিতর্কে আমাদের গাইড দেওয়া , সমসাময়িক কি কি জানতে হবে , কোথায় কোন বইতে কি আছে , সব কিছু এনে দিতেন তিনি । তত দিনে , আমিনুল স্যার, মতিলাল স্যার সহ অনেকে আমাদের হেল্প করতেন , অঞ্জন স্যার ভুলা যায় না স্যার আর বিজ্ঞান ক্লাস আর খোঁচা গুলা । বিতর্ক শেষে সিঙ্গারা আর এমন করে আসে নি স্যার ! 

ক্লাস ৮ । খুব ভয়ানক সময় । হটাত একদিন আমাকে বলেন , বলত খিছুরি কি করে রান্না করে? আমি তো ভাবি আজীবন তো মাই করলো আজ আমি পণ্ডিতি করি । আমি বলি আমার পাশের গুলা আর ও বড় বিশারদ । ওগুলা আরও বড় জান্তা । শেষ মেশ কি যে খিছুরি হইছিল টা আমার জানা নাই । শুধু মনে পড়ে মেম এর হাঁসি আর থামে না। আমরা ভাবছি আমরা তো পেরেই গেছি । মেম তখন আমাদের বুজাতেন কেন আমরা মেয়েরা আলাদা । আমরা কেন গোছানো কিংবা আমাদের গল্প গুলা কেন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন । ইডেন কলেজ কে আমাদের মনে গেথে দিয়েছিলেন । বাজে স্বভাব কি করে মানুষ কে নষ্ট করে । অথবা ছবি দেখতে দেখতে উনার বান্ধবি গাল খেয়ে ফেলত । গল্প গুলা আজ ও জেন্ত মনে । আমাদের প্রতিটা বার্ষিক  পরিক্ষার পর অনুষ্ঠান আমরা নিজেরাই সব করতাম । মিলাদ মাহফিল আমরা করতাম, পিকনিক ছিল আর ও মজার দিন । সারাদিন হই হই করা ছবি তুলা , খাওয়া , পাহাড়ে যাওয়া , বন্ধুদের গলায় হাত রেখে ছবি তুলা । বড় আকর্ষণ ছিলেন তিনি নিজে , আমরা উন্মুখ হয়ে থাকতাম তিনি আজ কি সাজ দিয়েছেন ! আজ ও যখন সাজি মনে হয় কোন না কোন ভাবে উনাকেই কপি করি । 

ক্লাস ৯-১০ । আমরা খাঁচায় বন্ধি যত্নে থাকা পাখি । কি বাংলা ১-২ , কিংবা ইংলিশ ১-২ , যে কোন বিষয় মেম কে পাশে পেয়েছি । উনি বলতেন , অঙ্ক আমিনুল স্যার কে দেখাবে , ফিজিক্স , কেমেস্রি যে খানে সমস্যা আমরা আছি । হুজুর স্যার হাত ধরে ধরে লাইন ধরে লিখাও শিখিয়ে দিয়েছেন । কি করে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে একটা প্রসঙ্গ সুন্দর করা যায় তা শিখাতেন , আমাদের যে কোন দিন যে কোন সময় উনার দরজা থাকতো খোলা। আমরা প্রায় সময় বাসায়  যেতাম মেম আমাদের গল্প শুনতেন , আমাদের নতুন নতুন বিষয় গুলাকে মন যোগ দিয়ে সমাধান দিতেন । আমরা মেম কে দেখতাম কত গাছ লাগাতেন। আমরা সে খান থেকে কিছু নিয়ে আসতাম । আমাদের সকল পরিকল্পনায় আগে আমরা রাখতাম মেম কে । আমাদের কবিতা লিখতে বলতেন , আমরা সবাই কবি হয়ে গেলাম । আমাদের যা বলতেন , আমরা তাই করতাম । আমাদের মগজের ভিতর একটা নাম রমা রানী চক্রবর্তী ।

মেম আমাদের প্রত্তেকের নাম জানতেন , সুজুগ পেলে বাসায় আসতেন । আমাদের পরিবারের সবাই উনার ছাত্র ছাত্রি । আমার ছোট বোন তাহ-মিনা উনাকে অনেক ভালবাসে । আমরা যখনি দেখা করি আমরা ফিরে যাই আমাদের শৈশবে আর মেম কে নিয়ে আমাদের কথা চলতেই থাকে । 

জীবনে অনেক কিছু পাওয়ার মধ্যে আমাদের পাওয়া আমাদের বাল্য শিক্ষক আমাদের গুরু আমাদের  মেম রমা রানী চক্রবর্তী। 

Sunday, 12 July 2020

Bad touch

আসমা ৩ মেয়ে আর ২ ছেলে নিয়ে বাসাবাড়িতে কাজ করে।  আলম ওর স্বামী প্রথমে রিক্সা চালাতো এখন মানুষের ফুটফর্মেস খাটে না হয় কাজই  করে না।  আসমা বাসা বাড়িতে কাজ করে দুপুরের খাবার নিয়ে আসে।  একটা সমিতি চালায়।  ৩০ হাজার টাকা কর্জ  নিয়ে সুদে খাটিয়েছে , যেটা তার স্বামী জানে না।  এই ৩০ হাজার সমিতিতে দিতে গিয়ে ওর অনেক কাজ করতে হয়।  আসে পাশে ওর শাশুড়ি থাকে , আর ও থাকে দেবরের পরিবার।  সবার কাছে তার ওই ৫ সন্তান চোখের কাঁটা  . কেন কাঁটা  তা কারো জানা নাই।  না ওদের ঘরে থাকে না কারো কাছ থেকে কিছু চায়।  আসমা ঈদে যে বোনাস পেয়েছে তা দিয়ে সবার কাপড় কিনেছে , কিন্তু শাশুড়ির তা কিনে নি।  পরের দিন আলমের মার্ খেল সবার সামনে।  ব্য ব্যে  করে কেঁদে  কেঁদে চলে গেল কাজে।  যারা ওরে বোনাস দিয়েছে তাদের বাসার কাজ আগে করা দরকার।  আলমের একটাই কথা , সবার জন্যে কিনতে পারছ  কেন মায়ের টা  কিনল না।  আসমা বলে গেল , তোর মায়ের কাপড় আমার মেহনতের টাকায়  কিনব না।  তুই কিনে দে।  আলম ওরে আচ্ছা করে মাইর দিয়ে ও ওর কাছ থেকে টাকা নিতে পারল না।  গজ গজ করে সামনের দোকান থেকে ডার্বি সিগারেট কিনে  খাচ্ছে।  এগুলা যেন ওদের জীবনে ডালভাত।  সকাল হলে কাপঝাপ আবার দুপুর গড়ালে কাপঝাপ। 
আমার বড় মেয়ে নীলা।  ও নীলা খুব সুন্দর মেয়ে।  চুল গুলা ওর মা টাইট করে বেঁধে দেয়।  হাতে দেয়  ১০ টাকা।  কোলে থাকে সদ্য  জর্ন্ম নেওয়া ভাই।  আরেক হাতে থাকে আরো ও একটা বোন।  যেন ওদের কেউ গ্লু দিয়ে এঁটে  দিয়েছে এমন।  পিছে পিছে থাকে একটু কথা বলা ভাই আর বোন। ের যেখানে যায় একসাথে যায়।  আসমা যে বাসায় কাজ করে ওদের গেরেজে অথবা তার সামনের জায়গায় বসে থাকে।  আসমা বলে যায় নীলা এদের নিয়ে এইখানেই বসে থাকবি , ঠিক তেমন করে বসে থাকে।  একটু ও ক্লান্তি লাগে না ওর। দুধ খাওয়া ছোট ভাইটি ওর কলিজা।  ওর খিদা পেলে কত শত মিথ্যে গল্প করে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।  আর ছোট গুলাকে গান শুনাবে অথবা ছোটদের ছড়া  শুনাবে।  অদ্ভুত গলা মেয়েটার।  মেয়েটাকে দেখলে যে কেউ বলবে মেয়েটা এত বুজে জানে কি করে , ৪টা  ভাই বোন এক হাতে কি করে সামাল দেয়  . দোকান থেকে বিস্কুট কিনে এনে দিবে ভাই বোনদের।  মা যখন নামে  কাজ থেকে ঠিক তখন োর এক বাসা থেকে আর এক বাসায় গিয়ে উঠে। 
নীলা খুব ভালো ইংলিশ ছড়া  বলে , টুইংকল  টুইংকল।. .. ব্যা  ব্যা  .. পুসি ক্যাট। . এগুলা ও যে কি থেকে শিখছে , জানা নাই ওর।  যেখানে যা কিছু দেখে শুনে তা এসে ভাই বোনদের শুনাবে।  কোন বাসার সার মেম  ওরে জামা দিয়েছে সাথে একটা রঙিন বই।  এই বইটা তার মুখস্ত।  এখন সে আর ও বই চায়। কিন্তু বলে না লজ্জায়। 
নীলা র বয়স ৯ বছর।  মার্বেলের মত চোখ তার।  কোন খেলার সাথী নাই।  ভাই বোনদের নিয়ে থাকে সারাবেলা।  আরশিদের  বাসা ওদের পাশে।  আরশির অনেক খেলনা।  ২- একবার ওর খেলনা দেখতে চেয়েছে আর অমনি ওর বাবা ওরে গায়ে মাইর দিয়ে বের করে দে।  যখন ই আরশির বাবা বাসায় থাকে না তখন ওর খুব লোভ  জাগে আরশির খেলনা দিয়ে খেলতে চায়।  খেলা প্রায় শেষ এমন সময় ওর বাবা এসে  দরজা লাগিয়ে দেয়।  বলে , তোকে যেতে দিব যদি আমার পা টিপে দাও , বেচারি পড়েছে বিপদে , আমতা আমতা করতে করতে পা টিপে দিল লোকটার।  তারপর মেয়েটা চিৎকার দিয়ে দরজায় থাপড়াতে লাগলো , কেউ খুলে দিল না , হাপাতে হাপাতে মেয়েটা দরজা খুলে বের হল।  নীলা আর স্বাবাভিক হতে পারলো না। আসমা কে সে জানাতে ও পারলো না তার সাথে ঘটে যাওয়া বিষাদময় ঘটনা।  আসমা মেয়ের উপর ৪ সন্তানকে রেখেই কাজে যায় কিন্তু নীলা আর কোথাও যেতে পারে না।  ওই অন্ধকারময় গুটগুটে ঘর টার   মধ্যে ওর কেটে যায় আর ও ২ টা  বছর।  অপরিচিত কাউকে দেখলেই ঢুঁকে  পড়ে  ঘরে.....

Tuesday, 7 July 2020

সমগীত

সমগীত

শিউলি আপা অনেকের কাছে হাত বাড়িয়ে যা পান তা দিয়ে ৭০-৮০ পরিবারের প্রতিদিনের খাবার দেন।  এপ্রিলে করোনা আসার পর পর যখন না খাওয়া  মানুষ গুলা দিশেহারা তখন আলোর ছটা নিয়ে এলেন শিউলি আপা।  প্রতিদিন ১ পোটলা দিতেন যেখানে থাকতো , চাল , আলু, সাবান , ডাল।  এইভাবে বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পর দেখলেন তাতে চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু সামলানো যাচ্চে না।  বন্ধুদের কাছ থেকে যা পান নিজের সঞ্চয় খেটেখাওয়া মানুষের পিছনে ঢেলে দিলেন অকাতরে।  আজিজ ভাইয়ের ঘরে রান্নায় হত না।  এমনটা ছিল নোয়াখালি খালাম্মা , জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মা যার সন্তানেরা খোঁজ রাখতনা মায়ের , শত বছরের বুড়ি যার যাওয়ার জায়গা ছিলনা , খোঁড়া খালাম্মা , সাব্বিরের মা , তুহিনের পরিবার ও কামরুলের মা। .. আর ও কত পরিবার না খেয়ে দিনাতিপাত করত।  শিউলি আপা দেখলেন , এদের পাশে কেউ নেই , তখন কত বন্ধুদের কাছে হাত পেতেছেন।  কেউ বিশ্বিদ্যালয়  শিক্ষক , কেউ গান গায় , কেউ বই বিক্রি করে, কেউ নাটক করে, কেউ টেলিভিশনে চাকরি করে, কেউ শুদু পরিচিত।  জিনাত আপা একাই দিলেন ৩-৪ দিনের খাবার।  কেউ রান্না করেও দিলেন।  কয়েক দিন পর উনি ভাবলেন , এইভাবে দিলে চাহিদা বেড়ে যাবে।  তারপর দিলেন রান্না করা খাবার , প্রতিদিন দল , আলু আর ভাত।  সবাই এসে রান্না করতো।  মাছ দিত।  কৈ  মাছ , শিং ও দিতেন। ন্টারপোর পতিত জমি তে ফসল করতে শুরু করলেন।  ওরাই এসে কাজ করে দিতেন।  রোজার মাসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ইফতারি দিতেন।  ঈদের দিন ছিল বেশি  মজার।  একটা ছাগল কেটে ২৪ কেজি মুরগি দিয়ে তেহারি ও রোস্ট খাওয়ালেন।  ছোটদের দিলেন কাপড় আর মুরব্বিদের কাপড়। এই ভাবে পুরো ৩ মাস খাওয়াচ্ছেন।  আসে পাশে বাড়িওয়ালারা তাকে সাহায্য করছে।  কিছুদিন যাওয়ার পর বাঙালির চরম দায়িত্ত্ব হয়ে গেল , কে উনি খোঁজ নেওয়া আবারকেন করছেন , অথবা কয়টাকা এনে কয়টাকা দিচ্ছেন তার হিসেবে শেষ মেশ উনার ধর্ম পরিচয় নিয়ে উঠে পড়লেন।  এত দিন যাদের বদ্র  লোক ভাবতাম তারাও তার পিচ পিছু আলোচনা করে যাচ্ছে।  বিষয়টা এমন যে , এক জন মহিলা হওয়াতে উনাকে প্রতিদিন উনাদের পা ধরে সালাম করে উঠতে বসতে হবে।  যখন ফ্রি ডাক্তার এনে এদের সেবা দিলেন , যখন এদের বাচ্চাদের পরালেন ফ্রি তখন কেন উনার পিছু পিছু ছিলেন না।  একই মানুষ  সামনে একরকম আর পিছনে অন্য রকম।  ভাবতে পারছিনা।  লোকডাউনে হত দরিদ্র মানুষদের আশ্রয় ছিলেন শিউলি আপা আর আজ উনাকে মসজিদে যেতে হল নিজের পাসপোর্ট নিয়ে যে উনি খ খ্রিস্টান না তা বুজানোর জন্যে।  শিউলি আপা দমে থাকার মানুষ না।  বাচ্চাদের জন্যে খুলেছেন স্কুল , খাবার ও দিচ্ছেন আবার পড়ান।  একটা মানুষ যিনি সমাজের কাছে হেরে যেতে শিখেন নি।  কুরবানী দিবেন এই গরিবদের জন্যে।  তাদের হাসিটুকু যেন উনার পরম পাওয়া।  

Tuesday, 30 June 2020

বেকার জীবন।

বেকার জীবন।

বেকার মানে এমন যে আমার কাজ নাই তা না , আমার প্রচুর কাজ, কিন্তু , ইন রিটার্ন কোনভার্টেবল কারেন্সি নাই।  ইটা একটা মানুষিক অশান্তির জন্যে যথেষ্ট।  ছাত্র জীবনে ও মাসে ৫০০০ টাকা প্রতিমাসে হাতে থাকতো।  কারণ আমি ছাত্র পড়াতাম।  পড়াশুনা শেষে চাকরি ছিল।  নিজের প্রয়োজনের বাহিরে ও প্রচুর টাকা থাকতো।  মাথায় ঘুরতো নতুন নতুন কোন জায়গায় যাব , কোথায় খাব , কোন ধরণের কালেকশন রাখবো , কাকে কি উপহার দিব।  হাসবেন্ড কে কখন ও টাকা দিতে হত না , বরং শশুরের চিকিৎসার জন্যে টাকা চেয়েছে দিয়ে দিয়েছি। 
বেকার জীবনে প্রচুর চিন্তা।  সামনের দিন গুলা আমি কি করবো ? অনেক প্লেন আছে যেটা পূর্ন করতেই হবে , স্বাধীন মন মানুষিকতার মানুষ গুলা কারো কাছে নির্বরশীল না হয়ে ভালো।  এতে নিজস্বতা হারায়।  যাই হোক বেব্সা করবো ভাবছি।  কিন্তু সারাদিন ভাবী কি দিয়ে শুরু করবো ? ছেলেমেয়েদের সময় দিয়ে কি করা যায়।  কিছু সময় ভাবনা গুলা সাজিয়ে শিগগির কিছুকরবো এই ভাবনা আমার। 

 বেকার জীবনে হতাশা নয় , নতুন করে শুরু করার প্রত্যয়।  

বর্ষায় গাছ।

বর্ষায় গাছ।

গত ২ বছর ধরে একটা জিনিস শিখলাম।  যা আমার তার উত্তম ব্যবহার করতে হয়।  আমার একটা ছোট জমি যেটা পড়ে থাকতো।  গত বছর এটাকে ঘিরে দিলাম।  তার পর ভাবতে লাগলাম আসলে আমি কি করবো।  আমার ছোট ছোট বাচ্চা।  ওদের নিয়ে এই জমিতে কিছু করা যাবে না।  কিন্তু আমি প্রতি দুপুরে ওদের ঘুম দিয়ে জমিতে যেতাম।  একটু একটু করে পরিষ্কার করে সুন্দর করলাম।  পাশ থেকে কিছু কচু গাছ দিলাম এক কোনে।  আর ম্যাচ দিলাম আর এক দিকে।  মাজ খান টুকু  ফাঁকা ছিল।  তারপর বুধবারের হাট থেকে এনে লাগলাম লাউ গাছ।  বর্ষা শেষ হতে না হতে লাগিয়ে দিলাম।  প্রায় এক মাস অপেক্ষা করলাম।  তারপর পুরো ৩ কাঠা জমি লাউয়ের ডগা তে ভোরে গেল।  কত শত ফুল ফুটে থাকতো।  মনে হট আমি একটা ফড়িং অথবা প্রজাপ্রতি।  আমি বাচ্চাদের নিয়ে ওখানে বসে থাকতাম।  ওদের ছেড়ে দিতাম মাটি নিয়ে খেলতে।  যেহেতু আমি সব সময় পড়াশুনা চাকরি বাচ্চা মানুষ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম আমার ভাল বন্ধু ছিলোনা।  আমার কথা বলার মোট মানুষ কম ছিল।  আমি দেখলাম বাগান করতে গিয়ে আসে পাশে সবাই আমাকে হেল্প করতে শুরু করেছে।  ওদের কথা শুনতাম আমার কথা ও ওদের বলতাম। আমার বাচ্ছারা ওদের সাথে মিশে ওদের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।  আমার যে কোন সমস্যায় আমি ওদের পাশ পাই.. ওরা আমাকে পেলে যেমন আনন্দ পে আমি ও তাই। 
কিছু দিন পর আমার বাগানে প্রচুর লাউ ধরলো।  আমরা প্রথম যে লাগ্ গুলা আসছিলো সেগুলো স্থানীয় মসজিদে দিয়ে দেই।  আমার প্রতিবেশীরা তা কিনে টাকা দিয়ে দেই মসজিদে।  আর যারা আবদার করেছে তাদের লাউ দেই।  আমার আত্মীয় দের বাসায় লাউ গুলা দেই।  সাথে হলো প্রচুর শশা।  কম করে হলে ও ২০ কেজি আমরা শুদু প্রতিবেশীদের দেই।  এমনকি রাজশাহীতে পাঠাই।  ওখানে সবাই তো অবাক।  এই মেয়ে বাগান করে তা আবার  রাজশাহীতে পাঠাচ্ছে। 
আমার বাবা -মা চাচা চাচী যে যেখানে ছিল পাঠিয়েছি।  আমরা প্রতি সপ্তাহে ২ বার করে খেয়েছি। 
সবার নতুন করে জন্য আমি বাগান করতে পারি।  নিচে দিয়েছিলাম কুমড়া আর লাল শাক আর তার সাথে পাই শাক।  কিছুই আমাকে কিনতে হয় নি।  কিছুটা পরিশ্রম করে আমি অনেক আনন্দ পাই।
এবার দিয়েছি চালকুমড়া , করলা, শশা , কুমড়া, ধুন্দুল , পেঁপে , কলা , পুঁই ,শিম, আর কঁচু।  এখনি প্রায় ৫ টি চালকুমড়া বিলিয়ে দিয়েছি।  আমরা খেয়েছি।  আবার যারা আবদার করছে বলে দিয়েছি , কয়েকদিন পর দিব।  করলা যখন নিজের গাছের।  তিতা তখন মনে হয় না।  আর কচুর লোটি গুলা যখন প্রায় ২ হাত হয় তখন মনে হয় োর আমাকে আনন্দ দেয়ার জন্যে এত লম্বা হয়।  পেঁপে গাছে প্রচুর ফুল আসছে।  কোলা গাছ আসমান ছুঁয়ে আছে।  নিশ্চই এইবার নিজের গাছের কোলা খাব। 
আনন্দ লাগে তখন যখন আসে পাশের সবাই এক সাথে গাছের যত্ন নেই. আর বিভিন্ন জিনিস নিয়ে হাসি তামাশা করি। 
সবার বুদ্দি শুনি আর হাঁসি।  আমাদের এক ভাই আজ বলছে , ভাবী মিষ্টি একটু কুমড়া গাছের তলায় দিন দেখবেন কুমড়া গুলা কত মিষ্টি হবে।  আমি হাস্তে হাস্তে শেষ।  গত বছর ওদের সব কথা শুনে আমি সেই ভাবে গাছ লাগিয়েছি।  এইবার আমাকে বোকা ভাবছে।  তবে গত বার যে কুমড়া হয়েছে। তা বাড়িতে মাকে পাঠানোর  পর মা বলেছে এত কুমড়া খেয়েছি মা কিন্তু তোমার গাছের মোট এত মিষ্টি কুমড়া আর হয় না।  এত আনন্দ আমি কি করে পেতাম যদি কুড়ে হয়ে বসে থাকতাম।  মাঝেমাঝে ঘুম হয়না।  খেতের কোন কোনায় কি লাগাবো , কি করলে আরো সুন্দর হবে এই ভেবে। 
বর্ষায় একটু গাছ লাগিয়ে দেখেন কেমন লাগে।  ও আপনাকে শুধু ভালোবাসাই দিবে।  সাথে তো বোনাস আরো কত কি আছে !

Monday, 29 June 2020

আই লাভ ইউ বলতে শিখুন।

আই লাভ ইউ বলতে শিখুন।

আমার ২ বছরের ছেলেটা প্রথম বলতে শিখলো আল্লাহ আর লাইলাহা ইল্লাহ।  সারাদিন এই ২তা কোথাই ও জানতো।  কয়েক দিন পর দেখলাম।  ও আরো এই রিলেটেড বাক্য শিখতে চায়।  আমি ওরে সকালে আদর দেই , কলিজা , যান পাখি , আদরি বুড়া , মওলা , টিয়া পাখি কত কি নাম ডাকি।  ওকে প্রতিদিন বুজতে চাই আমি ওরে কত ভালোবাসি ! তারপর শিখালাম , আই লাভ ইউ।  তারপর থেকে ও বলে আই লাভ ইউ টু।  দাদি নানী নানা জেক সে অনলাইন এ পায় তাকেই বলবে , আই লাভ ইউ।  ওর মামার সাথে ভীষণ খাতির।  মামাকে না দেখলে ওর ননু কে দেখাবে মামাকে।  মামাকে আদর পাঠাবে। একটু পর পর এসে দেখে যাবে মা কার সাথে কথা বলছে ? যদি সেটা তারপরিচিত কেউ হয় তাহলে তো হলো আই লাভ ইউ বলবেই।  বাবাকে আদর করবে , ওরে অনেক ভালোবাসা দিতে হয়।  একটু রাগ দেখলে আর ওখানে থাকবেই না।  কাছে ও আসবে না।  যেই বলবো , আই লাভ ইউ।  অমনি একদম বিড়ালের মত আদর করবে। 
মেয়েটা কে দিয়ে কোন কাজ করানোর আগে পরে তো উনাকে বলতেই হবে , এই নাবা , শুনে যা , আই লাভইউ , হুম বলো ,কেন ডেকেছ ? পানি খাব , wait করো , থ্যাংকু , আই লাভ ইউ , হুম , মি টু। 

তরী কে আমি চিনি ভার্সিটি থেকে , কথা অত হয় নি।  কিন্তু আমরা একজন আর কাজনকে চিনতাম।  খুব স্মার্ট আর চঞ্চল ছিল।  ছিল বলছি কারণ ২ দিন আগে ও না ফেরার দেশে চলে গেছে।  ১০ বছরের বিবাহিত জীবন।  রাকা একটা ৬ বছরের ছেলে আর ১০ দিনের একটা মেয়ে রেখে চলে গেল।  সব সময় আনন্দে থাকতো।  ফেবু তে প্রচুর ছবি , হরেক রকমের ছবি , ওর অনেক ছেলে বন্ধু থাকতে আমি একটু এরাই চলতাম।  কিন্তু জানি যে ও খুব আন্তরিক ছিল সব কিছুতে।  নতুন নতুন শাড়ি আর গয়না ওর খুব পছন্দের ছিল।  ভালবেসে বিয়ে ২ জন্যে মেড ফর each othar . বৈশাখে কত ঘুরার ছবি দেখেছি।  আমি হতবম্ব এই করোনা আমার  কাছের কেউ কে এই ভাবে হারাবো।  ওর সাথে প্রতিটা মানুষ আমার মতোই হতবম্ব হয়ে গেলাম।  এত ওরে চিনি কিন্তু কখন ও বলা হয় নি , তোকে আমার সত্যি অনেক ভাল লাগে।  বাচ্চা হওয়ার পর নিউমোনিয়া হলো কিন্তু লাইফ সাফোর্ট দিয়ে এমনকি ভেন্টিলেটর দিয়ে ও মেয়েটাকে ফিরানো গেল না।  ভাবছি ১০ দিনের পরীর মত বাচ্চাটা জানলো না ওর মা কত ভালো মানুষ ছিল।  

ফটো সাংবাদিক রেহানা আক্তার। খুব সাদা সিধে মেয়েটা।  কাজল পড়তো।  ঐটুকুই সাঝে।  হাতে একটা নিকন ছিল।  হেসে হেসে কথা বলতো।  কোথায় কোথায় বলতো তোকে দিব দরে ২ টা। ও অফিসের নিচে টঙের দোকানে সিগারেট খেত।  আর বলতো খ খেল মজা পাবি।  ওর ঢং ঢং কথা গুলা আজ শুদু মনে পড়ছে। একটা ৩ বছরের মেয়ে আছে।  একটা স্কুটি করে অফিস শেষে বাজার নিয়ে ফিরতো।  ছবি তা যেন বুকের মধ্যে ঘেঁথে আছে।  কোলন কেন্সার হলো।  কোনো দিন বলে ও নি।  এক বার অফিসের পার্টি তে ছবি তুলে দিয়ে বললো কাচ্চি খোয়া তাইলে দিব না হলে দিব না।  আমি বললাম আমার লাগবে না তোকে খাওয়াবো না।  ইমেইল করে আগেই ছবি পাঠিয়ে দিয়েছিল।  অত ঢুকে হয় না তাই পরে জানতে পেরেছিলাম।  কাল রাতে ও ও না ফেরার দেশে চলে গেল।  কিছুই কখন ও বলতে পারিনি।  যদি বলতে পারতাম তোমার কাজল মাখানো চোখ গুলা খুব মায়াবী।  এমন করে কি চলে যেতে হয় !

বিকেলের মর্মর ধ্বনি !

বিকেলের মর্মর ধ্বনি !

শেষ কবে এই বিকালটা আমার জীবনে এসেছে তা মনে নেই।  গত ১০ বছর তো আসে নি এটা বলতে পারি অথবা তার ও আগে ১০ বছর এ আসছে কিনা জানা নাই।  বিকালটা এমন যে আপনি দৌড় দিয়ে চলে যেতে মন চাইবে মাঠের পরে যে রাস্তা আছে সেটা পার করে বাজারের মুখে গিয়ে মিষ্টির দোকানে হা করে দাঁড়িয়ে থাকতে।  ঠিক খেতে নয় এত সুন্দর করে মিষ্টির গন্ধ আর সাজানো তা দেখতে। অথবা রাস্তা পেরিয়ে আরো একটা ম্যাথ তার পর একলা দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা দেখে আস্তে।  ওখানে যে একটা গরু ছিল  হলদে রঙের সেটার সাথে আপনার ভাব করতে মন চাইবে।  অথবা , মেঘের কল ঘেঁষে যে ২- ৪ তা রং নিয়ে রংধনু উঠে  সেই রং ধনুর সাথে খেলা করতে।  বাল্য বন্ধু কে নিয়ে পাশের বাড়িতে রাজঁহাস দেখতে যেতে।  বিকালের লাল রঙের লাল তা খুব ডাকবে কথা বলতে চাইবে।  আপনি হাসবেন কিন্তু ও অবলোক করে তাকিয়ে থাকবে।  বিকালটা এমন যে , বাস বাগানের ভিতর একটা হু হু বাতাস কানের কাছে ধেয়ে আসবে।  আপনি যত বলেন আর তুই ডাকিস না ও আরো  জোরে ডাকবে।  আপনি হাঁটছেন বাঁশ বাগানের ভিতর মনে হবে পিছন থেকে কে যেন পিছু নিয়েছে। ফিরে তাকাতেই আর নাই।   শুকনো পাতা গুলো হাওয়ায় ভেসে ভেসে গায়ে পড়বে।  হাতে নিয়ে বাঁশি বানাতে মন চাইবে।  এমন একটা বিকাল কোথায় হারিয়ে গেল ?

রাফিনের সুখী সুখী ভাব !

রাফিনের সুখী সুখী ভাব !

রাফিন বড়হয়েছে শ্রীমঙ্গলের চায়ের দেশে।  ছোট খাট মেয়েটি খুব বেশি মানুষের সাথে মিশে না।  ক্লাস শেষ করেই হোস্টেলে চলে যেত।  বৃহস্পতি বার আসলেই রাফিন ক্লাস করতে চাইতো না।  চলে যেত নদীর ধারে। 
রাফিনের সাথে অনেক বিষয় নিয়ে আমার সাথে কথা হয়।  মোটামুটি ও খুব মুখস্ত বিদ্যা ভালো ছিল।  মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে বড় বড় অংক ও লিখে আসতো।  ওকে যখন বলতাম কি করে করছিস ? ও বলতো মুখস্ত করে লিখছি।  আমার বড় জানতে ইচ্ছে হত ও কি করে মুখস্ত করে।  একবার ওর হোস্টেলে গিয়ে  টেবিলের চারপাশে লেকচারের সিট গুলা পড়ে আছে।  পাশের একজনকে বললাম কি বেপার ! এগুলা এমন করা কেন ? োর বলতো, রাফিন কানে ফোন লাগিয়ে সারাদিন রাট এগুলা মুখস্ত করে।  আমি আর ভয়ে ওর হোস্টেলে যেতাম না।  মেয়েটা ভয়ানক রোগি।  এমন করে কেউ পড়ে !
 নানাবিদ সমস্যা পড়লে রাফিন ছুতে আসতো , একটু হেল্প কর।  সব সময় আমার খাতা গুলা ও কপি করতে নিত।  কপি শেষে পরের দিন দিয়ে দিত..
রাফিন একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো।  হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার বললো , রক্ত কম , রক্ত দিতে হবে।  রক্ত দেওয়া হল।  ওরে দেখতে গেলাম হাসপাতালে।  গিয়ে দেখি একটা ছেলে টেবিলে ঘুমাচ্ছে আর ও ঘুমাচ্ছে বিছানায়।  জিজ্ঞাসা করলাম ও কে ? বললো , আমার এলাকার ছেলে , এমসি তে পড়ে।  আমার কেউ নাই দেখার তাই আসছে।  আমাদের দেখে ছেলেটা হড়বড় করে জেগে উঠলো।  উঠে বাহিরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  যেন কোন চোর আমরা দেখে ফেলছি। 

রাফিন বরাবরই ভাল রেসাল্ট করে।  কিন্তু ছুটি হলে ও বাড়ি যেত না হোস্টেলে পড়েথাকতো।  ঈদের সময় ও যখন সব বন্ধ তখন ও কারো সাথে বাসায় গিয়ে উঠতো।  কারো জানা ছিল না কেন ও এমন করে। 
অনেক দিন পর জানলাম সেই দিন যে ছেলেটা কে ডেকেছিলাম ও আর রাফিন লুকিয়ে বিয়ে করছে।  যেটা ২ পরিবার কেউ জানতো না।  তাই রাফিন ও ছেলেটাকে রেখেছে কোথাও যেত না।  রাফিন এখন ভাল চাকরি করে অনেক সুন্দর পরিবার আর ছেলেটা এখন শিক্ষা অফিসার।  

অসৎ বেক্তির ছেলেরা সব সময় অসৎ হয়।

অসৎ বেক্তির ছেলেরা সব সময় অসৎ হয়। 

মুজুমদার সাহেব খুব দাপুটে বেক্তি।  তিনি সরকারি বড় কর্মকর্তা।  উনার কথায় সব কিছু চলে।  বলতে গেলে বাঘে মহিষে এক ঘাটে পানি খায়।  উনার একটা ঋণ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান ও আছে।  উনি দরিদ্রদের ঋণ দেন। সময় মত টাকা না দিতে পারলে উনাদের জমি বৌ কিংবা মেয়ে মজুমদারের হয়ে যায়।  ইটা যেন ওপেন সিক্রেট।  তও উনি বড় ভালো লোক।  এই তল্লাটে উনার চেয়ে ভাল যোগ্য লোক আর হয় না।  পয়দা করতে করতে উনার ৬ ছেলে।
বড় ছেলে মকবুল , বিয়ে করে বিলিতে গেছে।  সেখানে নিয়ে গেছে গ্রামের দরিদ্র এক মেয়েকে বাসার কাজের লোক হিসেবে।  মকবুলের ঘরে সন্তানরা মকবুলকে ঘৃণা করে।  কেন করে তা কারো জানা নেই।  বাবার পাশে বসে োর খেতে ও বসে না।  অনেক অনেক দিন পর সেই গ্রামের মেয়েটি ফিরত আসে।  বলে ওখানে সবাই খুব নিষ্ঠুর।  সারাদিন খাটায়।
 মেঝ ছেলে গিয়াসুদ্দিন , কাজকরে মুদি দোকান দেয়।  বড় সড়ো সে দোকান।  অনেক ইনকাম কিন্তু সুখ নাই মনে।  গিয়াসউদ্দিনের ২ ছেলে নিয়ে বড় বিপদ।  কোন ছেলে কাজ করতে চায় না।  বাইর করা বাড়িটা বিক্রি করতেচায়।  গিয়াস পাড়ার সকল নারীদের গায়ে হাত দিয়ে কথা বলে।  সবাই ওরে ভয় পে তাই কথা বলে না।  যদি কিছু বলে ও ওর বাড়িতে চুরি চামারি হবেই।
মজুমদারের ৩ নাম্বার ছেলে , লিটন।  পাড়ার বড় ভাই।  এমন কোন কাজ নাই যে তিনি পারেন নাই।  ছিনতাই , পুকুরে বিষ দেওয়া অথবা হাসপাতালের ঔষুধ বিক্রি করা।  সব কিছু লিটনের বা হাতের কাজ।  জীবনে পাওয়া বলে কিছু নাই।  শুদু খেয়ে রাস্তায় পরে থাকা ছাড়া।  কুকুর বিড়ালের পাশে শুয়ে দিন যায় ওর।
৪ নাম্বার ছেলে অনেক দূরদর্শী ছেলে।  দেখতে শুনতে অতি মায়াময়।  চুল সবসময় ষাট করে বাঁধে। বেপারী বলে সবাই তারে চিনে।  জমি কেনা বেচা করে।  কোথাও যদি খোঁজ পে খাস জমি তা দখল করার জন্যে একটা গুন্ডা বাহিনী রেখেছে।  খুব নাম ধাম কামিয়েছে কেস মামলা খেয়ে।  ভাব কিন্তু জমিদারের মতোই।  টাকাকে টাকা মনে করেন না।  যা মন চায় তাই করেন।  কারো দুর্দিন গেলেও উনার সুদিন ১২ ম্যাশ জুড়ে।  পুলিশকে টাকা দিয়ে উনি চলেন।
৫ নাম্বার সন্তান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার।  ভাবে বুজা যায় একদম পাক্কা ইঞ্জিনিয়ার।  কিন্তু একটা চোর।  যেখানে চাকরি করে ওখান ই  দল করে।   দল করে সুপারিশ কামাচ্ছে।  সব সময় চিন্তায় থাকে কাকে সে বিপদে ফেলে ফায়দা লুটবে।  কারো বৌ হোক মেয়ে হোক তাদের সাথে ভাব করে ব্লেকমেইল করবে।  সব সময় চিন্তা কি করে অন্যের ক্ষতি করবে।
৫ খান রত্ন মজুমদার পয়দা করলো।  কিন্তু কাউকে ভাল শিক্ষা দিয়ে যেতে পারেন নি।  শিখিয়েছেন কি করে অন্দকার জগতের রাজা হতে পারেন।  

Honor to a soul



কখনো লাশ গোসল করিয়েছেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা সুখকর কিছু না। আমরা সাধারণ মৃতদের সম্মানিত করার একটা চেষ্টা করি। মৃত মানুষদের স্মৃতিকে পবিত্র একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা আমরা করি।  মৃত মানুষকে গোসল করানো কত টা স্বাভাবিক কাজ তা আমার জানা ছিল না।  কাছ থেকে যত মৃত্যু দেখেছি তার মধ্যে অনেকের কথা মনে পড়ে।  আমার বাড়ির পাশে এক মধ্যে বয়সী তিনি মারা গেলেন , আমরা ছোট হওয়াতে আসে পাশে গুড় ঘুরে করতাম আর আমাদের এক দিক থেকে সরিয়ে দিলে আমরা অন্য দিকে হানা দিতাম।  তখ দেখলাম ৪ জন পুরুষ এক জন পুরুষকে  কি অগোছালো নিথর দেহ তাকে পানি দিয়ে দুচ্চে। আবার তাদের পাশে মারা গেল চাচা বাতিঝি।  এক জন কারেন্ট এ আর একজন আত্তহত্তা করে কিন্তু গোসল করানো সেইবার দেখলাম না।  আমাদের বাড়িতে আনুর মা বলে একজন আছেন তিনি ধাঁই আবার মৃত নারীদের গোসল দেন।  একবার আমাদের পিছনের বাড়িতে একজন মুরব্বি মারা গেলেন , তখন তিনি কোস্কো সাবানকে এক বোল পানিতে নিয়ে একদম ফেনা বানিয়ে ফেললেন গোসল দেয়াবেন বলে।  আমরা ছোট তাই এগুলা দেখতে পেতাম।  কিন্তু ছুঁয়ে দেখা কিংবা কি করে এগুলা হয় তা জানা ছিল না।  আর একটু বড় হবার পর কেউ মারা গেলে সেখানে কুরআন পড়তে হয় তা জানা ছিল।  আমি কুরআন পড়তে পারতাম।  আমার চাচির বাবা মারা গেলেন।  আমি ওখানে বসে বসে কুরআন পড়ছিলাম।  সবাই জানতে চাচ্ছিল মেয়েটি কে ? 


আমার মায়ের অনেক দায়িত্ত্ব ছিল যখন আমরা ভাই বোনেরা এক সাথে পড়তাম।  সেইসব মনে হয় সব মায়েদের করতে হয়।  মা যখন একা থাকতে শুরু করলেন , মা কি করবে বুঝে উঠতে পারেন নি।  েকে তো উনি ছিলেন সল্প জানা মানুষ।  কিন্তু ধর্ম  জানা মানুষ।  কুরআন তার অন্তরে।  মায়ের গুন্ গুন্ কুরআনের আয়াত গুলা আমাদের অন্তরে অজান্তে গেথে বসে আছে।  এরই মধ্যে মা আসে পাশে সবাইকে নিয়ে বসে ধর্ম চর্চা করতেন।  আমি শশুর বাড়ি থেকে ঘুরে এসে জানতে পারি মা লাশ গোসল করিয়েছেন।  আমি তো  ধরলাম কেন তুমি ভয় পাওনা ? কেন তুমি নিজের বিপদ টেনে আনছো ? মা বললেন , যিনি জীবিত ছিলেন তিনি অনেক কর্ম করে গেছেন আমরাজারা জীবিত তাদের দায়িত্ব তাকে সম্মান দিয়ে বিদায় জানানো।  তিনি আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন ভয় পাব কেন আজ তোমার মা মারা গেলে তোমাদের দায়িত্ব আমাকে গোসল করানো , আমি মারা গেলে তুমি কি ভয় পাবে ? আমাকে গোসল করবে না ?  যাদের আমি গোসল দিলাম তারা কত দুআ দিছ্চেন আমাকে।  নিষ্পাপ শিশুর মত যেন তারা ফিরে যায় তার জন্যে আমার গোসল করানো।  মা আজ অব্দি যেখানে খবর পান , ছুতে যান অনুর মা ও যায় গিয়ে গোসল দেন মৃত্ কে।  বাবা কিছুই বলেন না।  শুদু দেখি মা ২-৪ দিন কারো সাথে কথা বলেন না।  আরো ও গভীর ভাবে ধর্ম চর্চা করেন।  এতে তার শান্তি। 

নবজর্ন্ম

নবজর্ন্ম 
যে দেশে মানুষের আক্রোশ খুব বেশি সে দেশে ভাল কোন কিছুই বেশি দিন ভালো থাকেনা , তাকে ভাল থাকতে দেওয়া হত না বা এখন ও দেওয়া হয় না।  একটা ছেলে অফিসে গিয়ে কাজ করছে ১২  ঘন্টা অব্দি অথচ পাশে কেউ কাজ না করে সিগারেট ফুঁকাচ্ছে , মেয়ে কলিগদের সাথে ফ্লাটারিং করছে , কিংবা বসের সাথে খোশগল্প করে দিন পার করছে।  দিন শেষে চাটুকারিতার মেলা পদ পাচ্ছে আর যারা ভাবছে কাজ করে উন্নীত দিকে যাব তাদের কপালে শুদু খালি পাতিল।  
বিশ্বাস জিনিসটা আপনি কেমন করে অর্জন করবেন তাই দেশের মানুষ জন ভালো করে জানে।  খুব খাতির লাগিয়ে বাঁশ দিয়ে দিল তারপর ও বলবে আমি তোমার আপনার আপন।  অথচ আপনার জীবনের ১৩ খান টুকরা করে দেওয়া হয়ে গেছে। 
নিজের পাছায় কি আছে তা না দেখে অন্যের পাছায় গু না থাকলেও তা রাজ্য সমেত সবাইকে জানানো এদেশের রীতি।  খুব ভালো বন্ধু যে কিনা ১৪ তা বছর আপনার সাথে এক সাথে ছিল।  সত  হাসি কান্না এক সাথে কাটিয়েছেন আপনার চেয়ে ভালো দেখতে শুনতে অথবা অর্থের দিক দিয়ে আগিয়ে থাকলে আপনাকে ভুলে যাবে নির্ধিদায়।  এমনকি আপনার শত্রু কে গলায় নিয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড ফরএভার বলবে। 
নীতি কথা বলতে বলতে উগলায় ফেলা লোকটা আপনাকে দুর্বল ভাবে পেলে আপনার কঠিন তম বিপদটি ঘটিয়ে দিবে। আপনি তখন আর তাঁকে কোন নীতিতে ফেলবেন তা আপনি নিজেই ভুলে যাবেন। 
বিশ্বাস করে জীবনে যদি মনের কথা প্রাণ খুলে বলেছেন তো আপনি হেরে গেছেন।  সে আপনাকে তা নিয়েবছরে প্রতি মাসে অথবা ১৪ দিন অন্তর অন্তর আপনাকে তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আপনাকে খোঁচাবে। 

আয়নার সামনে দাঁত ব্রাশ করতে করতে যদি পুরোনো কোন ক্ষতের কথা মনে হয় কী মনে হয় আপনার ? আমারতো দাঁতের রক্ত বের না হওয়া পর্যন্ত রাগ ঝেড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হয় না।  নিয়মিত ওই সব ঘটনা আপনার মনের মধ্যে উঁকি দিলে আমার মত দাঁত ব্রাশ করবেন।  দেখবেন রক্ত না পড়া পর্যন্ত আপনার মনের মাঝে রগে দুঃখ্যে ক্ষোভে নিজের উপর রাগ  ধরবে। ২৭ বছর যদি একই দুঃখ লালন করেন তবে তা লালন ই করেন।  ও আপনাকে নতুন করে বাঁচতে শিখাবে।  
Eisoptrophobia- আয়নাকে ভয়। এই ফোবিয়াগ্রস্থ মানুষ আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বকে ভয় করে। আরও স্পষ্ট করে বললে, তারা মনে করে আয়নার পেছনে আছে কোন ভৌতিক পৃথিবী। যদিও তারা জানে এই ভয় অযৌক্তিক, তবু তারা সব সময় উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে। তারা আরও মনে করে, আয়না ভেঙ্গে ফেলা মন্দ ভাগ্যের পরিচয়। 
নবজর্ন্মে আমি বিশ্বাস করি না।  কিন্তু , বিশ্বাস এই যে , সকল কু থাকার পর ও আপনি মাথা উঁচু করে বেঁচে আছেন আর সবাই তাদের মন্দ কপাল বলে হাত কপালে তুলছে।  আপনি তখন বুজবেন এই ভঙ্গুর দেশে আপনি কত সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন।  জীবনতো পরীক্ষা ঘর।  সকালে বিকালে পরীক্ষা চলছেই।  তারপর ও জীবনে সফলহবেন যদি স্থান কাল পাত্র এই গুলা আরো ও পরীক্ষিত ভাবে কাজে লাগান।  মন্দ লোকের কপালে ঝাঁটা পড়ুক।  

Sunday, 28 June 2020

মায়ের চাঁদর।

মায়ের চাঁদর।

কোন এক শীতে দিয়ারা তাদের নানী বাড়িতে বেড়াতে গেল।  অনেক বছর ওদের নানা বাড়ি যাওয়া হয় না।  বছর শেষে দাদি বাড়ি যায় কিন্তু নানী বাড়ি নয়।  যেন কোন একটা গোপন বেপার  আছে যে নানী বাড়ি তে যাওয়া নিষেধ।  নানী প্রতিবার পাতিল ভরে খেজুরের রসের শিন্নি আর পিঠা ভেজে নিয়ে আসে।  নাতি নাতনি খাবে বলে।  প্রতিবছর দিয়াদের দাওয়াত দেয়। . কিন্তু বাবা নানী বাড়ি যান না।  তাই দিয়ার মা এ বেলা নানি ইকে দেখতে গেলেও ও বেলায় আবার ফিরে আসে।  বাবা বোকা দেবার ভয়ে।  বাবা আজীবন মাকে খুব কথা শুনিয়েছে , তোমার বাপের বাড়ি থেকে কি এনেছ ? বাবার বাড়ি বাবার বাড়ি কর ! মা খুব একটা কথা বলতেন না , বলা শুরু করলে বাবা মুখ লুকাতো।  ছেলেমেয়েদের সামনে তোমাদের বাপ্ বেটা আর তোমার মায়ের ভাইদের কথা খুলে বললে োর কখন ও দাদির বাড়ি করবে না।  যখন তোমার ঠিকানা ছিল না , তারা তোমার সন্তানদের দূর ছাই করেছে।  আমার বাবা তাদের জামা কাপড় ওষুধ আর খাবারের বেবস্তা করেছে।  যখন আমার ভাই বোনরা ছোট ছিল ওদের না দিয়ে তোমার সন্তানদের দিয়েছে।  আমার বাবা ভাল না কারণ আমার বাবা বিচার দিয়েছে আল্লার কাছে।  যে মানুষটা দুনিয়া থেকে চলে গেলেও সন্তানদের বলে গেছে তোমার ছেলেমেয়েকে দেখে রাখতে এই অপরাধ ছিল আমার বাবার।  তোমার বাবা তো প্রতি মাসে টাকা পেলে তা দিয়ে কোন দিন ওষুধ ও কিনে দে নি।  আমার চিঠি গুলা পর্যন্ত ফেলে দিয়েছে রাস্তায় যেন তুমি না পাও।  তুমি কি করে বুজবে আমার বাবা মা তোমাদের কি দিয়েছে।  আমি কয়েক কাঠা জমি নিয়ে এসে তোমাদের দিব আর আমার ছোট ভাই বোনেরা যারা আমাকে আজীবন দেখেছে তাদের কি হবে একবার ভেবে দেখেছ?
এমন জগড়া বিবাদ দিয়াদের পরিবারে লেগে থাকতো।  দিয়ারা জানতো বাবা নানীর বাড়ি লোকদের এত একটা পছন্দ করতো না।  সে বার , নানী কিছু পাঠালো না , নানী মামাকে দিয়ে বলে পাঠালো , দিয়াদের দাওয়াত।  না সালে নানী মন খারাপ করবে।  মা অনেক বলে বাবা কে রাজি করালো।  সে রাতে দিয়ার আর ও ২ জন খালাদের ও দাওয়াত ছিল।  শীতের রাত গ্রামের পথ সন্ধ্যে লাগার আগেই বাবা সবাইকে নিয়ে রওনা দিল।  নানী বাড়ি যেতে ১ ঘন্টা সময় লেগে গেল।
নানী খুব অসুস্থ।  শুয়ে আছে অন্য খালার রান্না করছে।  প্রথমে পিঠা তারপর মুরগি আর গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে পোলাও।  অন্য খালার ও আসলো তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের স্বামী দেড় নিয়ে। . দিয়ারা আগে কখন ও অন্য খালুদের দেখে নি।  আজি দেখলো।  এক খালু তো খুব অমায়িক।  আর এক জন সিগারেট খায়। 
রাত গভীর হলো।  সবাই মাইল খেয়ে এইবার বাবার কাছে অন্য খালুরা আবদার নিয়ে বসলো।  ভাই আপনি কিছু করেন।  আমরা সংসার চালাতে পারছি না , এদের অনেক সম্পদ।  আমাদের একটু করে দিলে আমরা চলতে পারবো।  মা বলে বসলেন , নাহ আমার বাবা অনেক কষ্ট করে সম্পদ গড়েছেন , আমরা তা ভাগ হতে দিব না।  আমার বাবা অকালে মারা যাবার পর কেউতো কাছে আসেন নাই।  আমার ছোট ভাই বোনদের তো কেউ পড়ান নাই।  তারা নিজে নিজে যা পারছে , ক্ষেত্রে খামার করে বড় হয়েছে।  আমার মা অসুস্থ।  কখন কি হবে আমরা টাকা পাব কোথায়।  দিয়ার বাবা এসব শুনে মায়ের উপর অনেক রাগ ঝাড়লেন।  ভাব দেখালেন আসলেই মা যা বলছে ঠিকই বলছেন।  দিয়ারা খেলাধুলা শেষ না করেই হতবম্ব হয়ে আছে।  োর জানে ওদের বাবা রেগে গেলে পরিস্থিতি আর ও খারাপ হবে। 
নানী অনেক করে বলছে আমার বড় ছেলে আজ এই বাড়িতে থাকবে ,নাতি নাতনি গুলা আমার কাছে থাকবে।  োর তোরা ওদের সবার বেবস্থা কর।  এই কথা শুনে দিয়ার বাবা আর ও রেগে গেলেন।  নঃ উনি আর এইখানে থাকবেন না।  উনি বললেন দিয়া তোমরা চল।  তোমার মা থাকুক।  মা শুনে বললেন , মা বিদায় দাও আমি ও চলে যাব।  বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে।
কোন কোন শীত।  দিয়াদের গায়ে হালকা শীতের জামা রাত যত গভীর হচ্ছে তত আর ও শীত নেমে বসেছে সামনে কিছু আছে কিনা তা দেখা যাচ্ছে না।  একটা রিক্সা নাই।  হেটে হেঁটে যাচ্ছে।  আর বাবা বক বক করছেই মায়ের সাথে।  দিয়া বলে উঠলো , মা অনেক শীত আমি আর হাটতে পারবো না।  তোমার গায়ের চাদর তা দাও।  আর মা সাথে সাথে দিয়াকে তা দিয়ে দিল।  মায়ের শরীরে শুদু পাতলা একটা কাপড়।  দিয়া বললো মা তোমার কি শীত করে না ? মা বললেন , না বাবা , আমার শীত করে না , চল বাড়ি যাই।  বাড়িতে গিয়ে কথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়বে।  দেখবে আর শীত করবে না।  বাবা কিন্তু মা কে বকেয়া যাচ্ছে।  মা কিছু কথার উত্তর দিচ্ছেন আর কিছু কথা শুনছেন না। 
হটাৎ করে এই রাতে একটা রিক্সা পাওয়া গেল।  বাবা রিক্সা ওয়ালাকে আগে থেকে চিনতেন।  বললেন বাড়ির দরজার সামনে নামিয়ে দিয়ে যা।  মা কোন রকম বসে সবাইকে ২ হাত দিয়ে জাপ্টে ধরলেন মায়ের চাদর কিন্তু দিয়ার সরিলে।  বাড়ির সামনে এসে ও বাবা মেক বকেয়া যাচ্ছেন।  আর দিয়া ভাবছে এত ঠান্ডা আমার মায়ের কেন গরম লাগছেই ? কেন সে বলছে তার সরিলে অনেক গরম ? কৈ রিক্সায় তো মায়ের হাত পা ঠান্ডা বরফের মতি লাগলো ? মা কেন মিথ্যে কথা বলছে ?

অনেক অনেক বছর পর মায়ের চাদর ই দিয়া পরে।  প্রথমে চাদর কিনে মা কে দেয় মা সেটা পড়লে তারপরে দিয়া পড়ে।  চাদর ভিতর কি আছে দিয়া জানে না।  কিন্তু মা আছে। ..

স্মৃতির জানালায় কে যে উঁকি দেয়।

স্মৃতির জানালায় কে যে উঁকি দেয়।

গ্রাফিক্স শিক্ষার সময় অনেক গুলা ঘটনা ঘটে আমার জীবনে।  প্রথম আমি জানলাম অকৃতিম প্রেম করে কয় ! আমার পরীক্ষার রেসাল্ট খুব ভাল ছিল।  বলা ছিল আমাকে ৮০% ওয়েবার দিবে।  কিন্তু যে ২০ % টাকা দিলাম তওটাকা  কম না।  সর্ব সাকুল্লে প্রায় ২২০০০ টাকা।  ভাবছি এত দিন পর বাবার কত টাকা পানিতে ফেলে দিয়েছিলাম জেদের জন্যেই।  বাবা তো ভর্তি করবেনা।  কিন্তু আমি বাবা কে নিয়ে গেলাম সুবিদ বাজারে ওদের অফিসে।  নিয়ে োর বাবা কে যে কি বুজালো বাবা ভর্তি করিয়ে দিল।  আমি কলেজ শেষে গিয়ে প্রতিদিন ২ ঘন্টা কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকতাম।  আমাদের স্যার ছিল বিচি টাইপের।  সালা যে কি বুজাত আমি তা আজ ও বুজতে পারতাম না।  কত গুলা টুলস আর এডিটিং ছাড়া কিছুই শিখায় নি।  সেটা খুব আফসোস রয়ে গেল জীবনে।  আমি হয়তো আর একটু পরিশ্রম করলে এখনো নিজে নিজে এগুলা বাল চাল করে ফেলতে পারবো।  রাগ আছে অনেক স্যারের উপর। 
সে সময়ে কিছু দারুন মানুষের সাথে আমার পরিচয়।  রিয়াদ ভাই একজন যিনি পরে আমার সাথে ইংলিশ কোর্স করেছিলেন।  একে উনি ছিলেন মেথের স্টুডেন্ট আবার হমিওপেথি স্টুডেন্ট আবার স্টুডেন্ট পড়াতেন।  খুব পরিশ্রম করতেন এক ভাই একবোনের পরিবার ছিল. খুব আধুনিক ছিল মন মানুষিকতা।  ভাই কে যখনি বলতাম ভাই আপনার প্রিয় মানুষের গল্প বলেন , উনার প্রেমের গল্প করতেন।  হেলেনা ছিল ওর নাম।  খুব চঞ্চল , ভাইয়ের কথা শুনতো না।  একই সাবজেক্ট এ পড়তো কিন্তু ক্লাস কম করতো।  ভাই বাসায় গিয়ে ওরে পড়াতো।  ওর বাবা মা ভাইকে টিচার হিসেবে নিয়োগ দদেয়।  কি যে মজার মানুষ ছিলেন।  সাদা হাসি খুশি আর নতুন নতুন পরিকল্পনা করতেন সামনে বছর কি করবেন।  খুব মিস্ট ভাষী ছিলেন , এক দিন আমাদের বাসায় এসে নুডুলস খেয়ে গিয়েছিলেন।  তারপর নাকি যখনি নুডুলস খেতেন আমাদের বাসার কথা মনে হত।  আমার মায়ের রান্না আসলেই খুব দারুন। আমার সব বন্ধুরা খেয়ে বলতো আবার কবে যাব !

ভাই একবার ভাল  টাকা পেয়েছিলেন কোথাও থেকে।  আমাদের নিয়ে খাওয়ালেন বিকালে নাস্তা।  আমরা প্রায় ৮ জন ছিলাম সবাইকে খোয়ালেন।  একদিন দেখি রিক্সায় বসে আছেন একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে।  আমাকে দেখে  রিক্সা থামিয়ে বললেন এই হচ্ছে হেলেনা।  হেলেনা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো ও তুমি হলে ও ! আমি ও মাথা জুকালাম।  বুজলাম আমাদের সবার গল্প ওর জানা।  কি মায়া ভরা আছে মেয়েটার।  বললাম একদিন বাসায় নিয়ে আসেন। 
তার কিছু দিন পর রিয়াদ ভাইকে দেখি একটা ডায়েরি হাতে হন্নে হয়ে কোথাও যাচ্ছেন।  জিজ্ঞাসা করলাম , কেমন আছেন ভাই ? বললো ভাল , আর হেলেনা কেমন আছে ? বললো ও তো বাহিরে চলে গেছে।  আমি ও যাব কিছু দিন পর।  বললাম , ভাই অনেক বদলে গেছেন।  কিছু বললো না। 
আজ অনেক দিন পর বুজলাম তার যে দীর্ঘনিশ্বাস ছিল তার মানে কি ! আসলেই জীবন কেন যে বদলায় এক জায়গায় থাকেনা।  কোথাও খেয়াল হারিয়ে যায়। 

বর্ষা দিনে বর্ষার প্রেম।

বর্ষা দিনে বর্ষার প্রেম। 

বর্ষা দিনে এক কাপ চা নিয়ে বসে আছি।  ভাবছি , মাথার মাঝে বর্ষার স্মৃতি ধরে না রেখে লিখি।  জানিনা কত টুকু ঠিকঠাক লিখতে পারবো! যত টুকু রহিদয়ে আছে আছে তাই লিখি। 

বর্ষা আর জাহেদ ওরা ভিন্ন ভিন্ন কলেজে পড়তো।  কেউ কাউকে দেখেছে এমনটি ও না।  বর্ষা যে স্কুলে পড়তো ওর এক বন্ধু জাহেদের সাথেই পড়তো।  জাহেদ একদিন তাঁর বন্ধুর সাথে আলাপ করতে গিয়ে বর্ষার কথা জানতে পারে।  কিন্তু জাহেদ কি করে বর্ষার সাথে পরিচয় হবে তা জাহেদের জানা ছিল না।  অনেক চেষ্টার পর , বর্ষার ফোন নাম্বার যোগাড় করে।  ততদিনে বর্ষা বেশ জানতো যে , ফোনে রং নাম্বার এ ইচ্ছে করে ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলে।  অনেক দিন চেষ্টা করে ও বর্ষার সাথে জাহেদের কথা হয় না।  
জাহেদ লুকোচুরি পছন্দ করতো , হেয়ালি কথা আর রাজ্যের অগোছালো আলাপ নিয়ে ফোন দিত।  মনে হত জোট গেয়ানি গুণী মানুষ যদি থেকে থাকে তাহলে ও প্রথম একজন।  আজ কি হল কাল কি করবে , এই নিয়ে আলাপ করে সময় কাটাতো।  যেন উনি এই রাজ্যের বড় বেস্ত লোক।  বর্ষা যত পারতো এড়িয়ে জেত।  ওর চিন্তা ছিল কি করে নতুন নতুন বই পড়বে।  বর্ষার বই জোগাড় করার নেশা ছিল।  কবিতার বই , ভ্রমণ কাহিনী , ছোটদের গল্প কিন্তু ওর প্রেমের গল্প ভাল লাগতো না।  বাবার কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে চলে যেত গল্পের বই কিনতে।  লাইব্রেরি লোকটা যে বর্ষা কে দেখতো অমনি খুশি হত।  বর্ষার সাথে লাইব্রেরি র ভাইটার সাথে অনেক খাতির।  ওখানে বসে বসে ২ একটা গল্পের বই পরে ও নিতো।  কোন বইয়ের আধ খানা রেখে গেলেও লাইব্রেরির ভাই ওটা যত্ন করে রেখে দিত।   জিন্দা বাজারে বইয়ের মার্কেট এ এই রকম প্রায় সময় যাওয়া হত।  সবাই ওখানে বই প্রেমীরাই যায় , সারাদিন বই আর নতুন বইয়ের গন্ধ , সে কথা ভুলে যায় না।  সিঁড়ি বেয়ে ২ তলায়উঠে বামে মোর নিয়ে দনে দোকানটা।  
বর্ষার সাদা রং খুব পছন্দের , আর কালো রং ওর অপছন্দের।  বেশ কয়েকদিন পর পর জাহেদ বর্ষাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে বর্ষা খুব খেপে যায়।  সময় নাই গুমানোর সময় এই আজগুবি কথা নিয়ে ফোন দেয়।  বিরক্তি খুব চরমে।  একয়েকদিন খারাপ ভাবে বলেও কিছু করা যায় নি।  এই আগাছা কয়েকদিন পর পর বিরক্ত করে।  
জাহেদ বেশ বুজতে পারলো এ ভাবে বর্ষার সাথে কথা বলা যাবে না। ফন্দি আটলো কি করে ওর সাথে কথা বলবে।  জিজ্ঞাসা করলো কবে যাবেন জিন্দাবাজার।  বর্ষা বলে দিল সামনের শুক্র বারেই যাবে একটা কাপড় কিনবে আর ছাতা কিনবে।  
শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়ে ওর বান্ধবীকে নিয়ে জিন্দাবাজার গেল , ওরা বইয়ের দোকানে গেল , নিচে ফুসকা খেল তারপর ওর বান্ধবীর এক বন্ধু আসলো োর কোথায় লেগে গেল।  বর্ষা আর wait না করে চলে গেল কাপড়ের দোকানে। ওখানে এক জন এসে বললো তুমি বর্ষা! বর্ষা বলল , জি কে তুমি ? জাহেদ।  ও আচ্ছা , তোতুমি আমাকে এত ডিস্টার্ব কর কেন? তুমি আমাকে এত অপছন্দ কর কেন ? জানিনা।  তুমিআমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করবে না।  ঠিক আছে।  
আচ্ছা , তুমি কি এইখান থেকে কাপড় নিবে নাও।  বর্ষা কাপড় নিল।  ততক্ষনে ভাল বৃষ্টি চলে আসলো।  কিকরে বাসায় যাবে।  ওদিকে খরচ বেশি হওয়াতে ছাতা কিনতে পারছে না।  
জাহেদ বললো , তোমাকে একটু এগিয়ে দেই ! ঠিক আছে।  ততক্ষনে সন্ধ্যা নেমে আসলো।  চারদিকে লোকজন ছুটাছুটি শুরুকরেছে , আর অন্য দিকে একছাতার নিচে জাহেদ আর বর্ষা। জাহেদ খুব চেষ্টা করছে দূরত্ত্ব ঠিক রাখতে ওদিকে বর্ষায় ও তাই।  ২ জনের ২ দিক ভিজে একদম পানি পড়ছে।  এত বৃষ্টি যে রিক্সা গুলা ও যেতে চাইছে না।  কি করা বাসা পর্যন্ত দিয়ে গেল জাহেদ।  তার পর , কোন এক কারণে বর্ষা জাহেদের উপর আর রাগ করলো না কিন্তু জাহেদ ও বর্ষাকে বিরক্ত করলো না। 

অনেক দিন পর , জাহেদ অনেক গুলা চরই পাখি নিয়ে আসলো বর্ষার কাছে।  বর্ষা জিজ্ঞাসা করলো কি করবে ? ছেড়ে দিব।  তো এইখানে কেন ? অনেক দিন আমার বাসায় ছিল োর ওদের ছেড়ে দিলে তোমাকে ভুলে যাব।  আর অমনি বর্ষার হাসি পায়।  কেন আমাকে ই মনে রাখতে হবে ? তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে আর তোমাকে ভুলতে পারছি না।  তো তোমাকে কি আমি বলেছি যে আমার সাথে দেখা করতে ? কেন যে ভুল করেছি ! 
আবার ওদের মধ্যে যোগাযোগ নেই , জাহেদ হাওয়া হয়ে গেল।  ৩ ম্যাশ পর আবার ফোন দিল , আমি একটু দেশের  বাহিরে গেলাম তো যোগাযোগ করতে পারিনি।  কেন, বলে গেলে কি হত ? মন খারাপ লাগতো ! হা হা হা।  আচ্ছা , তোমার চরৈদের কি ছেড়ে দিছ ? নঃ তোমাকে দেখানোর পর আর ছেড়ে দিতে মন দিল না ! ও আচ্ছা।  
জাহেদ বার বার বুজানোর চেষ্টা করলেও বর্ষা বুজতে  পারলো না ছেলেটা কি চায়।  কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেটার পরীক্ষার রেসাল্ট ও খারাপ হল।  কিন্তু এসব জানতো না বর্ষা।  এক বছর পিছিয়ে গেল ছেলেটা।  কিন্তু ও হাল ছেড়ে দিল না।  ওর বন্ধু রবিনকে দিয়ে ও ফোন দিল বর্ষা কে কিন্তু বর্ষা এখন আর কারো কথা শুনে না।  
ততদিনে জাহেদ বেশ স্মার্ট ছেলেটা পরিনিত হল।  কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ভাব বর্ষার অপছন্দ।  ২ বছর চলে গেল এমন করে।  কি কথা আর বলবে বর্ষা জাহেদ কে তা আর বর্ষার জানা ছিল না।  বর্ষা  ওর ইনিয়ে বিনিয়ে কথা শুনতে শুনতে হাপিয়ে গেল।  যে ছেলে মুখ ফুটে বলতে পারে না এই লাভ ইউ।  ওরে আর কি বলা যায়।  
যখন সময় খারাপ যায় বার বার ফোন দিয়ে কথা বলতে চায় , বাগানে গেলে , কবরের পাশে এক চলে গিয়ে কিংবা লম্বা রাস্তা একা চলতে গিয়ে শুদু বর্ষার কথা মনে পরে , কিন্তু সঠিক   বলতে পারে না সে   কিছুই করতে পারবে না। 
বর্ষা ধরেই নিয়েছিল এই ছেলে এমনটাই করতে থাকবে।  এরই মধ্যে বর্ষা বেশ কয়েকবার নাম্বার চেঞ্জ করেছে , কিন্তু জাহেদ বর্ষার সাথে আর কথা ও বলতে পারলো না।  বর্ষা ঢাকা যাওয়া আসা শুরু করে দিল যে জাহেদ আর বর্ষার দেখা ও পাচ্ছিল না।  বর্ষা ও জাহেদের খোঁজ নীল না।  
বহু দিন পর , কোন এক দুপুরে ছেলেটা কলেজের গেটে বসে আছে , দেখে মনে হচ্ছে কত জড় তুফান চলে গেল ছেলেটার উপর।  কিন্তু বর্ষা দেখে ও না দেখার ভানকরলো।  জাহেদ ডেকেই যাচ্ছে , কিন্তু বর্ষা তাকালো না।  সামনে সামনি হওয়ার পর জাহেদের জিজ্ঞাসা , তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ? নাহ, তোমাকে ভুলে যায় ? তুমি তো পেইন ! 
শেষ দেখা ওদের। অদেখা  রইলো ওদের।  আর কখন ও দেখা হয় নি কথা ও হয় নি।  মাঝে মাঝে হ্যালো বলে মেসেঞ্জার এ।  বর্ষা দেখে আর হাসে।  কি যে ভালো লাগা ছিল সে বর্ষার সন্ধ্যায় ! জাহেদ শুধু বুজলো বলতে পারলো না 

Thursday, 25 June 2020

Year -mate

শরীফ আর আমি ছোটবেলা থেকে পরিচিত।  আমরা একই স্কুলে পড়ছি।  একই ক্লাস।  কিন্তু ও একটু ফাঁকি বাজে আর আমি তো সিরিয়াস অল টাইম।  এক দিন ওর বাসায় গিয়ে ওর মেক জিজ্ঞাসা করছিলাম ও কোন স্যারের কাছে পড়ে ? ও এত খারাপ রেসাল্ট কেন করে ? ওর মা শুনে আমাকে কলা বিস্কুট খাইয়ে বিদায় দিয়ে ওরে দিল ভাল করে বাদাম।  বাদাম খাইয়া পোলা পরের দিন লাগাইলো আমার সাথে পাংগা আমি ও কি কম? দিচ্ছি আরো বাদাম , পোলাটা গাট্টা গোত্তা তো আমি ওকি কম ! আমি ওরে এমন লাত্তি দিসি যে ও আর শরমে মাইর করতে আসে নি।  বেপারটা এইখানে থামে নেই।  মদন মোহন কলেজ এ পরীক্ষা , সিট্ পড়ছে আমার সামনে।  সে দিন আবার পারিনা কিছুই।  শেষ বরষা এই শরীফ।  ও শিট প্রায় শেষ , গাঢ় গুঁড়ায় জিজ্ঞাসা করে , কিছু পারিস! আমি ও বললাম অরে যা ভাগ দেখবিনা জিজ্ঞাসা করিস কেন? ও বলল , না দেখ , তুই তো পারবি , আদা বছর ডেঙ ডেঙ করে ঘুরে বেড়াস তুই পারবি ! মন চাইছিল ওরে আর একটা লাঠি মারি।  কিন্তু সে দিন কৃতজ্ঞতায় আর পারলাম না।  মেডাম তা ছিল মদনের বাংলা মেডাম জেক সবাই চিনে , আমি ছাড়া।  শরীফ ও দেখি মেডাম কে খুব সম্মান দেখিয়ে আমাকে দেখাই খুব বিশ্ব জয় করলো।  ওরে থ্যাংকু দিচ্ছি কিনা আজ মনে নেই।  কিন্তু ও পরীক্ষায় চান্স পেল আর আমি ফেল। 
২ বছর ওর সাথে দেখা নেই।  এক বৈশাখে দেখি কে একটা আমাকে নাম ধরে মুখ বেঙচিয়ে ডাকছে।  আমি বললাম তুই কে ? আমি শরীফ।  তুই মরছিলে তো মরলিনা কেন ? আমার পিচ পিচ করিস কেন ? যা এইখান থেকে নাইলে তোরে লাথি দিব।  ওর পাশে একটা সুন্দর মেয়ে ছিল।  ওরে দেখে আমার আরো ও খারাপ লাগছিল।  একেতো মেয়েটা অপুরূপ সুন্দরী তারুওপর ওরে ছেবলামি করেদেখছে।  মেজাজ যা খারাপ হয়।  জোর করে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়ে খিচুড়ি আর চা খাওয়ালো।  আমি বিল দিব মাজখানে ওই সুন্দরী মেয়ে টা বিল দিল। 
মেয়েটাকে আমার খুব ভাল লাগছে , কিন্তু হিংসা হচ্ছিল।  কি লম্বা চুল আবার মুখ তা লম্বাটে আর ফর্সা কত।  শরীফের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে , আমার ইচ্ছা করছিল ওর মায়ের কাছে গিয়ে আবার বিচার দেই। 
কোন এক বর্ষায় ছাতা নিয়ে আমি আমার এক বন্ধু কে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।  হঠাৎ করে দেখছি গাদা তা রিক্সায় নিয়ে মেয়েদের হোস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।  আমি ভাবলাম ও তো আমাকে দেখে কুত্তার মত দৌড় দিবে।  কিন্তু ওর মুখ তা ছিল মলিন আর লজ্জায় ভরা।  আমি বুজে নিয়েছি - এই ছেলে গেল রসাতলে।  মেয়ে তা হোস্টেল থেকে বের হয়ে এল কি এক দুটা কথা বলে যেন পালিয়ে গেল।  আমি শরীফ কে কিছু জিজ্ঞাস করলাম না।

আবার , পরের দিন দেখি ছেলেটা ক্লাস শেষ করে দৌড় দিল মেয়েদের হোস্টেলের দিকে।  দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ২টা  বেজে গেল।  মেয়েটা উস্কুখুস্কু ভাবে নেমে ১ মিনিট ও দাঁড়ালো না।  ভুলে যাও  বলে চলে গেল। 
আমার সাথে আর কোন দিন শরীফের দেখা হল না।  

Untold story -

তখন আমরা প্রেমে পড়েছিলাম , প্রেমে পড়ার যে কি অনুভূতি তা কেউ বুজে না জানে।  মনে হলো , ঘুরে আসি অনেক দূর , যেখানে তুমি আমি আর প্রকৃতি ছাড়া কেউ নেই।  আমরা ২ জনে হাতে হাত রেখে কত শত গল্প বলে যেতাম , মনে হট এই গল্প যেন কখন ও শেষ না হয়।  আজিজ কে বলেছিলাম , এই গল্প শেষ হবে না।  হিমাদ্রি ও কথা দিয়েছিল।  ২ জনে গল্প বলতে জানত।  কেউ দূর তারার দেশের আর কেউ বাস্তব জগতের।  এমন গল্প শুরু হলে শেষ হতে চাইতো না।  ফুসকা খাবার চলে ২জন ২জনকে আপন করে দেখতো।  হিমাদ্রি ভাবতো কাল নীল রঙের শাড়ি পরবে , আর খোঁপায় সাদা ফুল।  হিমাদ্রির সব কিছুতেই ছিল আজিজের অধিকার।  বুড়ি বলে ডাকতো হিমাদ্রীকে।  যেমনটা হিমাদ্রি চাইতো তেমনটা ও সাজতো।  হিমাদ্রির প্রেমে পড়া টা যেন এক আলাদা জগতে নিয়ে গেল।  কোন কিছুতে মন বসতো না।  পড়াশুনা গান অথবা থিয়েটার কোন কিছুতে না।  শুদু পাহাড় ভাল লাগতো।  এক দিন বলেছিল হিমাদ্রি , আমি একদিন ওই পাহাড়ে চলে যাব।  হিমাদ্রি প্রতিদিন আজিজ কে নিয়ে দূর পাহাড়ে যেত , প্রেমে পড়লে সব হিতাহিত বুদ্ধি লোপ পায়।  োর ফুসকা খেত , টঙে বসে চা ক্ষেত্রে , কেন্টিনের সমুচা আর সিঙ্গারা , অথবা ডাল  খিচুড়ি।  তার পর আবার চা।  রিক্সার হুট্ তুলে হাত হাত রেখে অনেক দূর চলে যাওয়া।  বসে বসে গল্প বলা। 
হিমাদ্রি ভাবতো এই জীবনে ও আর কিছুই করবে না প্রেম করা ছাড়া।  সারাদিন মুখে হাসি লেপ্টে লেপটে থাকতো , মনের অজান্তে গান করতো।  মনে হতো এই পাহাড় এই জঙ্গল আর এই নদী আর কিছু চাইনা। 
কাউকে কথা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হয়না।  ভালবাসা কষ্ট পায়।  যে ভালবাসে তাকে ওই টুকু সম্মান দিলে খুব ক্ষতি হয়না।  জীবন বদলাবে ভালবাসা ও তাই।  হিমাদ্রি বুজলো ও একা।  ও যাকে ভালবাসে প্রেম করে ও আগেই অনেকের হয়ে গেছে , ও বাঁধন ওর হবার না।  ওর প্রেম শুদু ওর নিজের সাথেই।  যে সবার আগেই অন্যের হয়ে আছে তাকে পাওয়া আসা করা অথবা সময় অপচয় করা হিমাদ্রি বুজে গিয়েছিল।
কোন এক অবেলায় োর হারিয়ে গেল দূর পাহাড়ের গায়ে , কেউ কাউকে কখন ও দেখতে পে নি আর পাবে ও না। 
তখন আমরা প্রেম করতাম।  খিলখিল করে কারণে অকারণে হাসতাম।  আজ হাসি সেই পুরোনো ও হাসির কথা ভেবে।  

Wednesday, 24 June 2020

Untold story--

আইরিনের সিগারেট খাওয়া নিয়ে বাসায় অনেক তুমুল জগড়া।  বিষয়টা এমন যে , সিগারেট ওর নষ্ট হওয়ার জন্যে দায়ী।  বাসায় ওর মা আর ও।  ২ টা মানুষ সারাদিন কি করে! একটু সিগারেট খেলে ওর মাথা থেকে যন্ত্রনা দূর হয়। তা আর কাউকে বুজানো সম্বব নয়।  আজ ওর মা  রেখা , অনেক বোকা বাকি করে আল্টিমেটাম দিয়েছে যদি সে সিগারেট না ছাড়ে তাহলে আবার আইরিনকে বিয়ে দিবে।  আইরিন ও বলে দিয়েছে ও বিয়ে করবেন করলেও সিগারেট ছাড়বে না।  আইরিনের মা ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা।  সারাদিন বাসায় থাকেন না।  এক একা মেয়েটা থাকে আর বীর বির করে বকে।  কাকে বকে কেন বকে তা জানা হয়না রেখার।  শামীম ওর সাথে ছিল কিছু দিন তারপর লন্ডন চলে গেল।  আর ফিরল না।  মাঝখানে উকিল নোটিশ দিল। এইতো মেয়েটা এখন মায়ের কাছে।  কোন ভাল বন্ধু নেই।  আছে সিগারেট। 
আইরিন তখন বিবিএ পড়ছে।  কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ভার্সিটি তে পা দিল।  এত ফর্সা আর এক্সট্রোভার্ট মেয়ে ২টা নেই।  প্রেমে পড়া হয়নি , কিন্তু প্রেম করবে এমন কাউকে পাশে ছিল না।  গান গাইতো মেয়েটা। এক রাতে রং নাম্বারে শামীমের সাথে পরিচয়।  ছেলেটা মেয়েটা কে কেমন করে চিনতো তা শামীম কখন ও বলে নি।  অনেক দিন ধরে ফোন কথা হচ্ছিল।  আইরিন ভাবলো আগে তো বুজি আসলে ছেলেটা কে ?
শামীম রাজনীতি করতো।  ভাল পোস্ট ছিল।  সব সময় ছেলে নিয়ে থাকতো।  গান ও পছন্দ করতো। আইরিনকে গান শুনাতো।  আইরিন ও গান গাইতো ওর সাথে।  কোন এক বসন্তের দিনে োর ঠিক করলো দেখা করবে কোন এক রেস্টুরেন্ট এ।  শামীম ওর ৪ টা বন্ধু ও ১ টা বান্ধবী নিয়ে আসলো আইরিনকে দেখবে ও ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে।  আইরিন বাসায় বলে গেল আজ আমার এক বন্ধু আসবে আমার সাথে দেখা করবে , হবিগঞ্জ থেকে।  বিষয়টা তেমন কিছু ছিল না।  খাবারের অর্ডার দিল , চিকেন বিরিয়ানী আরসালাদ।  খেতে খেতে কথা হচ্ছে , শামীমকে দেখে আইরিন বার বার ভাবছে কেন আসলাম ? বেটে আর কালো গুন্ডা একটা ছেলে সাথে আবার ছেলে আর মেয়ে।  ওর যদি প্রেম করার দরকার থাকতো তাহলে ওর যে বান্ধবী নিয়ে আসছে ও তো কম সুন্দরী না তারউপর মেয়েটা মেডিকেল এ পড়ে। ওখানে আর কিছু প্রকাশ করলোনা।  খাওয়া শেষে বিদায় নিতে চাইলো আইরিন। কিন্তু শামীম ওকে বললো চল একটু হেটে আসি।  ওর বন্ধুরা রেস্টুরেন্ট এ বসে ছিল।  আইরিন আর শামীম সামনে খোলা জায়গায় হাটাহাটি করছিল। শামীম বলল, আমি জানি তুমি আজ থেকে আর আমাকে পছন্দ করবে না।, কারণ আমি কালো আর বেটে।  ওর ওকথাশুনেআইরিন ভাবলো যাক ছেলে তা বুজে গেল যে আমাকে আর বুজতে হবে না। কিন্তু , শামীম আটার মত লেগে ছিল , আইরিনকে বলল , আমি তোমার সব চাওয়া পূর্ন করব , শুদু তুমি আমাকে একটু সময় দাও , আমার সাথে কথা বল।  আইরিন ভাবলো আগেবাসায় যাই তারপর সিদ্দান্ত নিব।  আইরিনকে শামীম বাসায় দিয়ে গেল।  শামীম খুব চতুর ছেলে। 
ভার্সিটির পরিচিত ভাইদের দিয়ে ওর খোঁজ খবর রাখতো।  মেয়েটা চাইতো ছেলেটা যেন কোন ভাবে ওর সাথে আর দেখা না করতে পারে।  তাই হল , শামীম আর ২ টা বছর ওর সাথে দেখা করতে পারলো না।  আইরিন ভুলেই গেল শামীম কে। 
আইরিনের বিয়ের কথা হচ্ছিল।  কোথাও থেকে কে যেন একটা ভাল ছেলের খোঁজ পেল।  রেখাকে খুব তাগাদা দিচ্ছিল ছেলেটা লন্ডন যাবে।  রেখা না বুজে কথা দিল। োর মেয়েকে দেখতেও চাইলো না।  আইরিন ভাবলো হয়তো ইসলামী পরিবার পরে দেখা হবে।  ও নিজেকে গুচিয়ে নিচ্ছিল।  রান্না শিখছিল।  কত সত স্বপ্ন নিয়ে দিন যাচ্ছিল।  ফাল্গুনের হাওয়া লাগছিল মনে। 
বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পর্ন , জুবায়ের রাশিদ ওরফে শামীম কে বিয়ে করছে আইরিন।  বিয়ের দিন  আইরিন হতবাক কোথায় কে জুবায়ের রাশিদ ও তো শামীম।  যার বাড়ি ছিল হবিগঞ্জ।  কিন্তু ততক্ষনে অনেক কিছু পাল্টে গেল।  শামীম তার প্রতিশোধ নীল ওরে অবজ্ঞা করার আর আইরিন বুজে গেল জীবনের বড় ক্ষতি করে ফেললো।  শামীম আইরিনকে বললো , আমি তোমাকে ভালবাসতে চেয়েছি , কিন্তু তুমি আমাকে অবজ্ঞা করেছ।  আমি তোমাকে জানি তুমি জেদি আমাকে তুমি মেনে নিবে না , কখন ও মেনে নিবে না।  কিন্তু আমি তোমার ছায়া হয়ে থেকে গেলাম তোমার জীবনে।  অনেক কোস্ট করতে হয়েছে তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর দিন ১০ পর আমি চলে যাব লন্ডন আর তুমি থাকবে এখানে।  ২ বছর ১ দিন আমি তোমাকে ছাড়া থাকিনি আর তুমি সারা জীবন আমাকে নিয়েই থাকতে হবে। বিষয়গুলা আইরিন বুজে উঠার আগেই ওদের অলিখিত ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল।
অনেক অনেক দিন পর শামীম লন্ডন থেকে ফোন করলো , আইরিন তুমি কি এখনো আছ্ ! আমি তোমাকে মিস করি , সাথে তার এক বন্ধু ও ছিল ফোনের ওপাড়ে , খুব জানতে চাইছিল , তুমি কি শামীমকে চেন ? আইরিন বলে দিল , নাহ আমি এই নামে কাউকে চিনিনা।  আর ইটা আমার কুঁড়ে পাওয়া ফোন।  প্লিজ আমাকে ডিসটার্ব করবেন না।  ও পাড়ে শুনা যাচ্ছিল , আইরিন আমি তোমাকে ভুলি নি , আমি তোমাকে খুঁজে নিব।  

Tuesday, 5 May 2020

Integrity of paradigms or Paradigmatic Integrity for Integrated Circuit(IC)


Integrity of paradigms or Paradigmatic Integrity for Integrated Circuit(IC)


We are not unfamiliar with the word “integrity”. The most interesting thing is that even a small baby responds if integrity breaks. If there are two kids in front of you and if you do not behave with them equally, they will protest. In general sense integrity means equality. Integrity is such an important word that it is not only an important human virtue but also it is true for all other arenas. We will discuss that in detail in subsequent paragraphs.

Let’s proceed our discussion by explanations with examples. In an organization, there are many departments or sections. Integrity is such an important factor which needs to be balanced everywhere properly. Otherwise, lack of integrity in one place threatens the integrity in all other places. For example, in an organization if employees are not treated well, they will not treat their customers up to the mark. From the perspective of society and country, people also show sheer level of integrity that they get from their ancestors, cultures or surroundings.

One good example of the type of integrity is verbal integrity which is also ubiquitous and seen easily. In another word, we can say that is a kind of balance between people’s speech and action. If speech and action are not aligned, trust erodes. Folks do not believe those persons much who do not keep their words. That is why doing nothing rather than broken promises is better in certain circumstances.
Integrity among speech, emotions, feelings are crucial. For example, a police officer is interrogating a thief regarding a burglary. At that moment, the thief is narrating a sad story with joy or his feeling reflects the reverse. Somebody is pleading for help but the emotions or feelings do not support the true nature of the crisis. There are lots of example of hiding emotions and feelings while being corrupt. Lack of integrity signals problem. There is linear pattern among speech, emotions and feelings.

Integrity among goals/objectives, time span and execution are important. We can see in politics there many hefty promises but with the course of time nothing is executed properly. So, strategy must be formulated, aligning the goals with the duration for ensuring materialization.

Lack of systematic integrity may pose a risk of collapse of a whole system. There are many nuts and bolts in systems. Many people in various hierarchies run a system. Say for example, in a public office, a sophisticated machine has been brought but there are no equipped individuals to run those. Nobody even has thought before how this will be implemented after the machine installs.

Integrity among knowledge, beliefs, ideology, thoughts, culture and individual’s behavior is easily measured. For example, an individual thinks one and behaves the other reflects lack of integrity.

Lack of Integrity and corruption is correlated. In other words, lack of integrity to a heightened extent means corruption. Integrated system is a standard system. Any deviation from the standard means corruption. If deviations become too much and widespread, huge lack of integrity occurs, which may lead to an ultimate collapse. When we start to sense an ever increasingly uncontrolled lack of integrity, it is a red signal of indiscipline, lawlessness, chaos, heightened level of conflicts, lack of trust, disrespect, frequent use unsympathetic words in language, lack of empathy, painful conflicting emotions, increased level of sickness and so on.

Integrity is an essential human virtue which needs to be nursed for long for developing. For integrity to be learned, a high level of integrity based paradigm is necessary and it takes a long time to fully acquire it.  Integrity cannot be built overnight rather weaved in decades. If you do not show integrity as a prior human virtue, you never expect to get it back from others. Every single human being reflects unique paradigm. In a group of people, paradigmatic integrity is needed. Like in an integrated circuit, all tiny parts are is proper balance. Lack of integrity creates conflict and when a solution is sought, integrity is much searched for as well. But the question is if integrity was in place before the problem originates.

Integrity is remembered more during a life threatening crisis like COVID-19 when there is serious need to execute policies in no time. Integrity of different departments is involved. One department’s agility does not work when other departments do not respond at the same pace. In the mean time, crisis deepens in geometric rate and everything goes beyond control. This sort of environment reflects huge level of blaming, accusations, excuses, denying of responsibility, stealing and corruption in a bigger scale. Under this circumstances, correcting individuals is wrong policy because there is an urgency of executing everything very quickly and correctly. To correct human or at least get the humans behave correctly at least for that very period of time, extreme level of enforcement is necessary. That is why it is told that life threatening crisis quickly changes paradigms which may have not been possible in ages or generations.

Nature is the greatest example of an integrated system. Everything is in proper balance by the Almighty. Whoever or whatever ever tries to dismantle that balance, nature automatically protests and upholds or rescues the system again. Nature itself possesses its own paradigm. Integrity with the nature’s paradigm is utmost important. Questions like who, when, where, how, what why may not be answered in short time but if there is integrity, everything is automatically determined with the course of time with perfect balance. On the other hand, all above questions are answered or known but lack of integrity persists, then nothing changes. Integrity is a word related to many things and is a good scale to build or measure a network or group of people. Also, fixing lack of integrity expedites solving many chronic problems which have been remaining unsolved for ages.

Wednesday, 15 April 2020

DR. MOIN

এ এমনই মৃত্যু। ভালোবাসার মানুষকে শেষবারের ছোঁয়ায় মানা। দেখতে হবে দূর থেকে। যার হাতে কতো মানুষের শেষ বিদায়, সেই ডা. মইনের বিদায়ে জন সমাগম হয়তো নেই..! কিন্তু গৌরব তাতে কম কি সে...!!

আজ সারাদিন বৃষ্টি হওয়ার কথা।  গুড়গুড় শব্দে আমার বাড়ি মনে হচ্ছে কালবৈশাখী উড়িয়ে নিবে।  খবর তা যখন পেলাম তখন মনে হল ডাঃ মঈনকে আমি চিনি।  একজন মানবিক ডাক্তার হওয়া কি যায়! যায়!যায়! কোন কোন সময় অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার ভিড়ে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার কে আমার ভাল লাগে।  অগোছালো শার্ট পেন্টের ভিতরের মানবিক মানুষ ওরা।  

আমার ডান হাতে একবার একটা আস্ত বিশাল টিউমার হল।  যেটা ভেঙে রক্ত পড়ত যখন তখন।  খুব বিশ্রী একটা ব্যাপার ছিল।  পরীক্ষা দিব কি দিব না এই নিয়ে ২ মনে ছিলাম। যদি লিখতে বসি আর ওটা ফেটে গিয়ে রক্ত পড়ে।  এক রাত্রে আমার এক বন্ধু বাসায় এল একটা কাজ দেখে নিতে।  আমি ওরে দেখাচ্চি পদ্ধতি টা।  ও রাতে প্রচুর বৃষ্টি।  ও বসেই আছে।  নাস্তা খেয়ে পদ্ধতি দেখছে।  হটাৎ হল সেই বিপদ।  ওটা ফেটে রক্ত।  জামা টেবিল ওড়না আর ফ্লোর। . রক্ত পড়ছেই।  তা আর থামানোর উপায় নাই।  এমন বৃষ্টি রিকশা নাই।  মা তো অনেক গালাগাল করছে , কোথায় যাবে এই মেয়েকে নিয়ে।  আমার মা , অনেক আদর দিয়ে বড় করেছেন আমাদের।  উনি  তো প্রায় খেল হারিয়ে ফেলেন।  
 আমার বন্ধু দ্রুত আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।  ছাতা এক হাতে আর আরেক হাত কোনো রকম কোন একটা কাপড় পেঁচিয়ে রওনা হলাম ওসমানী হাসপাতালে।  কোথায় যাব , কোন দিকে যাব এত বৃষ্টি মানুষ জন কে কার দিকে তাকাচ্ছে  তার কোন ঠিক নাই।  যে বললাম াক জনকে আমরা উনিভার্সিটি স্টুডেন্ট।  কথা  শেষ না হতেই একজন ইন্টার্ন বলল  চল , মেডিসিন বিভাগে যাই।  ডাক্তার আলমগীর আছেন।  আমি ভাবলাম খুব বিজ্ঞ , রাগি অথবা  হুতুম পেঁচার মতন কেউ হবে।  
আমার হাত দেখে বলল এত ভয়াবহ অবস্থা  . এখন এটাকে ফেলে দিতে হবে।  তা না হলে স্প্রেড করবে।  সাথে সাথে আরো কয়জন ইন্টার্নকে বললেন , শুয়ে দাও।  আর প্লেটটা রেডি করে দাও।  ডাক্তার আলমগীর পুরাতন হিস্রটি নিলেন।  
বললেন এই দামি অসুখ কথা থেকে নিলে ? আমি বললাম জানিনা।  তবে কয়দিন আগে লোহার একটা স্কেল দিয়ে স্টুডেন্টকে আঘাত করতে গিয়ে ওটা আমার হাতে ব্যথা পেলাম।  ডাক্তার আলমগীর হাস্তে হাস্তে পুরো ওয়ার্ডকে নিজের বাড়ি আবহ করে দিলেন।  
ওই রাতে - তখনি আমার হাতের টিউমারটা সরানো হল কোন এনেস্থেসিয়া ছাড়া।  চুরি তা দিয়ে মাংস তা যখন কাটা হল আমার মনে হল আকাশ ফেটে আমার মাথায় পড়ছে।  আমি না পারছি চিৎকার দিতে না পারছি নড়তে।  ডাক্তার আলমগীর গান গাইছেন আর ওটাকে পুড়াচ্ছেন। আমি আজ ও ওই সুখ স্মৃতি খুঁজে বেড়াই। 
তখন ই বুজলাম একজন মানবিক ডাক্তার আমাদের কত দরকার।  
আমার ডাক্তার ভাই বোন আজ যুদ্ধ করছে ওদের পাশে কেউ নেই।  ডাক্তার মঈন যেন বুকের ভিতর আঁচড় দিয়ে গেল।  পিপিপি ছাড়া এত সাহস কি করে পায়! রোগীর জন্যে জীবন দিলেন।  তোমার জন্যে শ্রদ্ধা।  সালাম হে ভীর। 

Tuesday, 14 April 2020

শিরোমহীন -

শিরোমহীন -
রোদ্দুর বলেছিল লাল টিপে তোমাকে ভীষণ মানাই। তারপর থেকে মেয়েটা কপোলে সূর্য ওঠায়। জানে, ছেলেটার চোখভরা মুগ্ধতা আর মনভরা মায়া।
ভাবছি এই কোয়ারেন্টাইনের দিনগুলোতে এক দিস্তা খাতা নিয়ে বসবো৷ ধুলোপড়া মলাট মুছে রোদ্দুর রোদসী আরেকটু ঝালিয়ে নিক স্মৃতি বিস্মৃতির ডালা। আরো একটু চাঙ্গা হোক কিংবা নতুন করে মেলাক তারা এক জন্মের হিসেব-নিকেষ। বেঁচে থাকলে দেখা হচ্ছে আগামী বইমেলায়।
খুব অদ্ভুতভাবেই ঠিক আজই ভাবছিলাম বড্ড দেরী করে, বহু স্থানে, বহু জীবনে, বড্ড দেরি করে এসেছি। প্রাপ্তি বা প্রত্যাশা কিছুই নেই তাই। এত বছর আগেও বুঝেছিলাম, এতবছর পরেও, আগামীতেও।
আজ ভোরের আলো জানালার কাঁচ ভেদ করে মুখে লেপ্টে গেলেও চা খাবার বেদনা তাড়িয়ে বেড়াবে না।  আজ জর্ন্মদিনটা হিসাব নিকাশ করার কি খুব দরকার ! স্বাধীন গন্ধ হীন আর স্মৃতি নিয়ে সময়টা যাক ছুতে , লাল টিপ্ আজ পর্ব বলে মনে হয় না, আবার পড়তে পারি।  🙂

It is all about Problem



Relative means changeable, temporary.  It changes when other things change. On the other hand absolute means unchangeable. It is permanent and timeless. Problems become  relative in nature when these are influenced by human perceptions. Moreover, during a problem, folks remain in crowd, which also creates the psychology for that time. Especially, panic , fear, curiosity shapes the time. The emotional brain takes over the rations brain for a certain period of time and that influences the true aspect of a problem. On the other hand, when humans start to move from emotional brain to rational brain over course of time, they get closer to the solution.

The way we see a problem is a Problem.----Stephen R. Covey
Perception plays a great role in molding our sense of a problem. if our way of seeing a problem is wrong, there is surely no possibility that we can reach to solution of that very problem. Seeing is like maps and if you see wrongly, your destination will certainly be wrong. Every individual’s way of seeing is different. That is why there are multiple ways of explaining a problem .This attitude can increase the level of the  complexity of the problem. Moreover, at the same time one thought, opinion or view may stand out as the solution for the problem.
As sense of problem develops from multiple views and perceptions, it true nature is influenced by dozens, hundreds or thousands of paradigms. Among those, as time passes, one true paradigm is found to be the solution to the very problem.
Time plays an important role in creating the perception of a problem. Many problems we find at a time and then we find it vanishes as the time passes. A same problem is not deemed to be same everywhere, meaning that perception of problem changes as places change. Another important factor which attributes is that human’s emotions and felling originating thereby. For example, humans perceive same problem differently in different emotional states. There can surely be significant difference between a happy man’s perceiving a problem and an unhappy man’s one. Moreover, group plays a vital role. For example, an individual behaves totally differently when he perceives the problem singly and when he discusses the problem in a group. A group’s motivation can deviate him from the true attributes of a problem.

Nature is absolute. If any problem occurs, nature corrects itself. Human endeavor eases or worsens the remedy. The characteristic of nature is linear. The paradigm of nature is single. Nature follows the straight path always rather than the curved multiple ones. Every human created system also follows natural laws. For example, all the natural beings are honest and truthful. Human’s created systems are also like that. Those are based on truthfulness, honesty and other virtues. if anyway these systems get corrupt , we see the standard from the deviation, sometimes collapse.
Now the question is whether you will be rules by the problems…or you will command the problems. If humans fail to find out the true paradigm of the solution because of their ignorance or wrong perception, they tend to be commanded by the problems for long. Sometimes it creates an imbalanced situation meaning that some people get benefitted for nurturing a problem for long and that is why they do not want it go. On the hand, another group surely suffers or incurs a loss in terms of any forms.

Any problem never stays for long. It must go today or tomorrow. But it is the human behavior which determines whether it will be short living or long living. If it lengthens, corruption fills up the vacuum. Again nature solves it in its own way and balances again.

Sunday, 12 April 2020

কত দিন ধরে ভাবছি

কত দিন ধরে ভাবছি , অনন্তপুরে একটা ঘর করব।
বলা বলা করে বলা হয়না তোমাকে।
এইযে আমরা ৪ কামরার ঘরটাতে থাকি ,
এখানে আমার মন বসে না ,
আমার অনন্তপুরে যেতে মন চায়।

ঠিক মাঠের ওপারে শিমুল -কদম গাছের পাশে
আমার ছোট ঘর করব।
একটা কামরা থাকবে।
তুমি আমি বসে নদী দেখব ,
মাছ ধরা দেখব ,
পাশের মানুষের সাথে হাসাহাসি হবে ,
দূর থেকে সূর্য্য ডুবা দেখব ,
নদীতে গোসল করব ,
আমাকে একটু সবজি করতে দিও।

আমাকে নিয়ে একটু তামাশা কর ,
আমি অনন্তপুরে থাকতে চাই।
তোমাকে সাথে নিয়ে থাকব।
তোমারতো আমাকে বোকা আর হাদারাম মনে হয়।
একবার ঘরটা করে নেই ,
ওখানথেকে আমাকে আর
এই ৪ কামরার ফ্লেটে কখন ও আনতে পারবেনা।

আজব নাহ

আজব নাহ !
বৃষ্টি এলে কফি আর না এলে চা ,
তোমার আকাশ জুড়ে - কোন এক ললনা।
রাঁধবে , গাইবে আর জগড়া করবে।
আজব ই তো !

তোমার আজব আজব কথা -
বিশ্ব দরবারে তোমার কত কদর ,
তোমার ললনা র ও কি তাই ?
আজব তো ! ওর তো কফি চা হলে দিন চলে যায়।

তোমাকে ভালবেসেছি তোমার অজান্তেই


তোমাকে ভালবেসেছি তোমার অজান্তেই ,
তোমার ছোট্র একটা ছবি দেখে ,
একটা হাতল লাগান চেয়ারে তোমার আটুসটু হয়ে বসে থাকা ছবিটা।
কিছু ছিলনা তেমন - একটা কাল গেঞ্জি ,
মুখ ভরা হাঁসি।

কয়েক রাত ওই ছোট্র্র ছবি নিয়ে হাতড়িয়ে বেড়িয়েছি ,
তুমি কি সত্যি তুমি ! এত হাসি নিয়ে কি করে থাক?
তোমার পিছনের বইয়ের তাক গুলা দেখা যাচ্ছিল।
আমি ভাবছি, এত বই ! এই ছেলে কেমন রে বাবা !
এত বই কেউ পরে?

কিছুদিন পর , তোমারদেয়া বইটা হাতে পেয়ে খুব আনন্দ হল ,
এত বড় উপহার , অনেক ভারী ছিল সত্যি বইটা ,
আমি আমার মনকে জিজ্ঞাসা করছি, কেন এত ভয় ?
যদি তোমায় হারিয়ে ফেলি !

তোমার রাত জেগে ইংলিশ ভেঙে আমাকে পোড়ানো ,
আমাকে হাসায়, আমি যত তোমায় শুনতাম , তত বেশি তোমায় ভাবতাম।
ফোনটা রেখে দিলে মনে হত , হারিয়ে ফেলেছি ভালবাসা। 
তত দিনে তোমার সাথে দেখা হয় নি , কিংবা দেখা হবে এটা ও আমরা জানতাম না।
কিন্তু , ভালবেসেফেলেছিলাম , অজান্তে , তোমার কাছে তো আমাকে দেখার কিছুই ছিল না ,
তাই , ভেবেছি , আমিই প্রথম তোমাকে ভালবেসেছি।
অদ্ভুত না ? তোমাকে না জানিয়ে ভালবেসেছি।  খুব। 

Wednesday, 8 April 2020

কথন

কথন
ছাদের পাশে একটু বাড়তি জায়গা ছিল লুকানোর মত. রিদি  কোন কারণ ছাড়া লুকাত।  আকাশ জুড়ে তারাদের সাথে নিত্য ওর কথা।  গাছের পাতাদের ধরে ধরে ওদের সাথে কথা।  সিঁড়িতে বসে সিঁড়ির ফাক গুলার সাথে কথা।  হওয়ার সাথে কথা।  রাজ্যের জমানো কথা বলে যায়।  ঘরে কারো সাথে কথা বলতে ভাল লাগে না।  অভিমান অনেক অভিমান রিদির।

পাশের বাড়ির চাচী এসে বলে , রিদি কি এত কথা বলে ছাদে ? বিড় বিড় করে ! আজব মেয়ে।  ওরে ডাক্তার দেখাও।  রিদি বুজে সবাই ওকে দেখে রাখে , যেন মনে হয় সবাই বুজে গেছে , ওর পালানোর কথা।  ও পালিয়ে যাবে সবার থেকে দূরে কোথাও।
কার ভাল লাগে প্রতিদিন পড়তে , আর জগড়া শুনতে ! নানু বাড়ি যাচ্ছে , বাবা -মা জগড়া করে যাছ্চে বাসে।  শেষে, এক ছেলে চিপস কিনে রিদি কে দিয়ে বলে , শুনে তোমার মা -বাবা কে বল , ওদের জগড়া সবাই শুনতে পায়।  সে দিন ওর অনেক লজ্জা লাগছিল।  মনে হয় সে দিন প্লেন করে ও চলে যাবে।
রিদির বাবা মনে করে - নানা বাড়ির সম্পদ যেন রিদির বাবার।  আর রিদির মা ভাবে - রিদির বাবা -আব্বাস - ওরে কিছু দিল না।  না সুখ না শান্তি।  কারনে অকারণে লেগে থাকে।

রিদির বড় ইচ্ছা - সমুদ্র দেখবে।  কিন্তু বলতে তো পারবে না।  োর তো ওকে মারবে না হয় ওরে বকবে।  কি দরকার ওদের মাঝে নিজে কে রাখার।  তাই ওর ভাবনা ও দূরে কোথাও চলে যাবে।  অনেক দূরে।  এখানে কোন আদর নেই।  যেখানে যাবে কেউ যেন ওরে না ফিরিয়ে আন্তে পারে।

রিদির বন্ধু নাই।  আছে শুদু দুষ্ট কিছু খেলার সাথী।  খেলতে গেলে োর শুদু ওরে নিয়ে হাসাহাসি করে।  হাস্তে হাস্তে গড়িয়ে পরে।  রিধি ভাবে ওদের ধরে কষিয়ে কয়টা মার্ দিবে।  পারে না।  তাই খেলতে যাওয়া হয় না।
বাবা মা জগড়া করলে ও লুকিয়ে পড়ে।  ছাদের কোনায় গিয়ে বসে থাকে।  আর কথা বলে।  অনেক কথা , বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ে।
প্রতিদিন যায় আর ওর বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার প্লেন বাড়তে থাকে।  ওর একা একা চলা অভ্যস্ত হয়ে গেল।
এখন আর ও কাউকে ভালবাসে না। ছাদে যায় না , সিঁড়িতে বসে কান্না করে না , গাছের পাতা গুলো কে আর গুনে না।
একই ক্লাসে ২বছর পড়ে ওর নতুন বন্ধু হয়েছে।  তিন্নি - ওর বাবা -মা ও জগড়া করে দিন রাত সবসময়।  রিদিকে এসে ও প্রতিদিন বলে - আজ কি হল কাল কি হল।
তিন্নিকে রিধির অনেক ভাব।  সব সময় ওরা মানিকজোড়।  গলায় গলায় ভাব।  এখন আর ওর কোথাও হারাতে ইচ্চা হয় না।  তিন্নিকে ওর সময় দিতে বেশি ভাল লাগে।  যদি ও রিধি বাবা- মার্ সাথে তেমন কথা বলে না।  োর জগড়া করলে ও বাথরুমে বসে থাকে , গোসল করে , আয়নায় নিজেকে দেখে।  নতুন কোন বই নিয়ে হারিয়ে যায়।
রিধি ভাবে , বাবা -মা কেন এমন হয় ! োর বড় হবে কবে ?

Tuesday, 7 April 2020

মাসুদের মেয়েরা।

মাসুদের সাথে শেষ কথা হয় গত ৫-৬ মাস হয়ে গেল।  আমার সহযাত্রী ছিল সে।  আমাদের পরিচিত রুদ্রের খোঁজ নিতে শেষ কথা হয়।  আলাপের শেষে বলছিল ১১লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছিল পুলিশের চাকরি তা পেতে।  আমি বললাম তুমি কি সব টাকা পরিশোধ করেছ? উত্তর টা দিল না।  বুজে নিলাম অনেক চাপে আছে।  শেষে জিজ্ঞাসা করলাম , তোর মেয়েদের সাথে কবে দেখা হয়েছিল ? বলল - গত ডিসেম্বরে ছুটিতে। 
মাসুদের বৌ ২ মেয়ে নিয়ে কুমিল্লায় থাকে বাপের বাড়িতে। মাসুদ চাকরি করে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে।  খুব চালাক নয় ছেলেটা। অনেকের সুবিধা করে দিয়ে ও নিজে কিছু করতে পারল না।  বাবা -মা থাকে কুষ্টিয়ায়।  ওদের ওষুদের টাকা দিয়ে বৌকে সামান্য কিছু টাকা দিলে ওর পকেট প্রায় ফাঁকা পরে থাকে।  মাঝে মাঝে রুটি ডিম্ খেয়ে সপ্তাহ পার হয়ে যায়। 

রোজিনা কে বিয়ে করে মোটামুটি বাবা -মা থেকে বিচ্ছিন্ন।  প্রেমের বিয়ে মেনে নিতে ওদের খুব অনীহা।  যে মাসুদ প্রেম করে বিয়ে করেছিল সে হয়ত ভাবেনি , সামনে দিন গুলোতে সময় আরো খারাপ হবে।  হজ্ব করে বাবা তার সব সঞ্চয় শেষ করে।  বোনেদের জামাইদের কাছে ঋণ নিয়ে এই চাকরি টা জোগাড় করে।  যদি ও অনার্সে ফাটাফাটি রেসাল্ট ছিল।  দেখতে লিকলিকে হলে ও মনের দিক থেকে মাসুদ মাসুদের মতোই। 

দিয়া আর রিয়া ওরমেয়ে ২ টা। বাবা কে কাছে পেতে ওদের কত বাহানা।  দিয়ার বয়স ৬ আর রিয়ারর বয়স ৪।  দেখতে ফুটফুটে সুন্দর।  মেক বায়না ধরে কখন বাবাকে দেখবে ইমো তে।  যখনি সময় পে ওদের কে ইমো তে দেখা ওর আর একটা কাজ। 
দিয়া বাবাকে বলে বলতো বাবা , পাখি কেন ডাকে ? ওর উত্তর - োর ওদের বাবা কে ডাকে।  তাই োর ডাকে।  রিয়া তো ডাকে দেখে দেখে শিখে।

দিয়া কিছু খায় না যতক্ষন বাবা না বলে 'খাও'।  ওর বাবা হল ওদের প্রাণ ভ্রমর।  গুমাতে গেলে ইমোতে কথা বলে গুমাতে হয়।  প্রায় সময় ২ বোন মারামারি করে মোবাইল নিয়ে। 
সবার যখন কোয়ারেন্টাইন নিয়ে ব্যস্ত ঠিক অন্য দিকে ওর উপর দায়িত্ব সকলকে ঘরে রাখার।  যখনি ও ভাবে ২ মেয়ের কথা ২ চোখ  দিয়ে পানি ঝরে।  ওদের কি হবে যদি কোরনা আক্রমন বেড়ে যায়। 
একজন ডাক্তার যখন পিপিপি বলে চিৎকার দেয়।  তখন ওঁৎ শুদু ইন্সপেক্টর।  সব দেখেশুনে চুপ থাকা ছাড়া করার  কিছু নাই। 

বলেছিল , ছুটি দিবে , বাতিল করে দিল। মেয়েদের জন্যে কিছু জামা কিনিছে।  যাবার সময় নিয়ে যাবে।  কবে যে এই কোয়ারেন্টাইন সময় যাবে।  ওদের নিরাপদ রাখতে ওর প্রানান্ত চেষ্টা। 
আজ মাসুদের ডিউটি বটতলিটির এলাকায়।  সব দোকান বন্ধ আছে কিনা দেখতে হবে। 
মাইকিং করছে ঘরে থাকুন , নিজে নিরাপদ থাকুন , অন্যকে নিরাপদ রাখুন। 
বার বার মোবাইল খুলে দিয়া আর রিয়ার কেদেখে নিচ্ছে।  দিয়া আর রিয়া খুব বুচ্চে।  ওর বাবা বসে আছে দোকানের সামনে , আর বলছে দোকান খুললে আমাদের জন্যেই চকলেট কিনে বাড়ি চলে এস।  দিয়া রিয়া জন্যে নতুন করে ঘুম চোক নিয়েও ওঁৎ রাতে বসে আছে , সবার নিরাপত্তার জন্যেই। 

আজ পুন্নির বিয়ে


পুন্নি নামটা পুন্নিকে ওর বাবা রইসউদ্দিন দিয়েছে।  বড় আদরের মেয়ে।  একটা মেয়ে যার বুক ভরা ভালবাসা মেয়ের জন্যে।  যদিও ও মেয়ের মায়ের জন্যে তেমন টান নেই। ঝিলিক ওর মা।  পরীর মত সুন্দর মুখ।  কাঁচা মাটির মত মন।  কাজ করে স্বামী ছেলে মেয়েকে খাওয়ায়।  তবু তার দাম নাই।  রইসের কথা কাজ করে খাওয়াবি বলবি কেন? যখন রইস ভাল ছিল তখন করে এনে খাওয়াচে  না ? এখন ওর বুকে যক্ষা বেঁধেছে কাজ করবে না।  ওষুধ খাইয়ে ভাল হয়ে ও বসে আছে ঘরে।  এদিকে ঝিলিক এবাড়ি ও বাড়ি থালা ধুয়ে কিছু পানি ভাত আর মাস শেষে কিছু অল্প টাকা পায়।  ও টুকু দিয়ে ৪ জনের খাবার আনা সম্ভব না।  কারো গাছ কেটে , ঘর লেপে দেয়।  কিন্তু সবার তার দেহ খানাই পছন্দ।  এবাড়ি ও বাড়ি করে কয়েক বাড়িতে এ নিয়ে কানাঘুষা চলতে থাকে।  এ নিয়ে ঝিলিক ভাবে না।  গরিবের পেট লাথি খেলে ও মুখ বুজে করে যেতে হবে।  রইসের কানে উড়ে উড়ে সব কথায় ভাঙ্গায় রইসের ছোট ভাই গিয়াস।  গিয়াসের যে খুব লোভ ঝিলিকের দিকে।  তা তো কোন দিন পাত্তা পাওয়ার না এই গিয়াস জেনে বুজে ঝিলিকের পিছে লেগেছে।  করে এনএখাবাবে আবার ঘরে মার্ খাবে এ এক জীবন সওয়া হয়ে গেল ঝিলিকের।  ছোট ছেলেটা মাদ্রাসায় দিয়ে মাওলানা বানাবে ঝিলিক।  ছেলেটা কে খেতে দিত না হুজুরেরা।  কি জানি ভয়ে ছেলেটি আবার বার বার বাড়ি চলে আসত।  মুখ ফুটে মা কে  কিছু বলত না।  ঝিলিক আবার পাঠাত  মাদ্রাসায়।  একবার তো হুজুরের পায়ের নিচে বসে ছিল , হুজুর ই ছেলেটাকে একটু দেখেন।  সকালে যে দিয়ে আসল পরের দিন আবার চলে আসল।  ঝিলিকের বুজা হয়ে গেল যেমন করে হোক , হৃদয়কে সে মাওলানা বানাবে।  মেয়েটা বড় হচ্ছে।  মায়ের মত সুন্দর না হলেও মায়ের চেয়ে লম্বা হয়ে গেল এতটুকু ১৪-১৫ বছরে।  মেয়েকে নিয়ে কোথায় ও কাজে যেতে পারে না।  সবার চোখের সামনে ওদের নিয়ে থাকা ঝিলিকের থাকা সম্ভব হচ্ছিল না।  রইসুদ্দিন আর হিংস আর মারকুটে হয়ে গেল।  কোন এক অজানা ভয় ঝিলিকের পিছে পিছে ধাওয়া করছিল।  একদিন তুমুল জগড়া হচ্ছিল।  রইসুদ্দিন ৩ তালাক দিয়ে দিল ঝিলিককে।  জীবনের পদে পদে ধাক্কা খাওয়া ঝিলিক ২ ছেলে মেয়েকে নিয়ে চলে আসল ঢাকায়। মেন্দিবাগের এক চাপড়ি ঘরে ঠাঁই করে নিল।  বুক ভরে কেঁদে আর কি হবে ? জীবনের প্রবাহমান ধারা নিয়ে আসল নতুন মোড়ে।  রিদয় কে দিল গাড়ির হেলপার হতে।  আর ঝিলিক মেসে রান্না করে আর বাসার কাজ করে।  দিনটা নতুন করে ভাল চলছে ওদের।  
দিনযায়রাত যায় রইসুদ্দিনের কথা ভেবে ঝিলিকের।  কেমন আছে কি খায় ! এই ভাবনায়।  পাড়ার দোকানে বসে আড্ডা দিয়ে পান খেয়ে আসে ঝিলিক।  গল্প করে গ্রামের বাড়ির কথা, আত্মীয় স্বজনের কথা কিন্তু বলে না রইসুদ্দিনের সাথে তার ছাড়া চারি হওয়ার কথা।  যে কথা তার বুকে সবসময় তীরের মত বিঁধে সে কথা বলে সে কেমন করে।  একটা হলুদ রঙের ৩পিচ্ পরে কাজে যায় মেয়েকে ঘরে রেখে।  মাসে পাশে সবাই পুন্নিকে শাসনে রাখে।  পুননি ও কম না বরিশালের মেয়ে ছেড়ে দেয়ার মত মেয়ে কি ও ! হুম ! যে যাই বলুক না কেন মুখে উত্তর রেডি।  একদিন গিয়ে দেখি রান্না করছে মাটির চুলায়।  ভাল রান্নার গুন্।  নোয়াখালীর খালাম্মা জিগায় , ও চেরি তুই কি নামাজ কালাম পারিস।  উত্তরে বলে , বিয়ার পর শিখে নেব ানী। . এখন না পড়লেও চলবে মা বলেছে।  তা নামাজ কালাম না পারলে তোমারে কেন নিবে পোলা? শুতে আর ঢং দেখতে? পুন্নির উত্তর , ও লো বুড়ি তুমি যে নামাজ কালাম থুয়ে সিনেমা দেখ কাগা কি বাহির কইরা দিচ্ছে তোমারে? আর কোন প্রতি উত্তর পাওয়া গেল না। 
দিন কয়েক যাওয়ার পর , পুন্নির খুব মোবাইলের শখ।  মায়ের হাতে ধরে পায়ে পরে মোবাইলের জন্যে।  জীবনের এই সময় মোবাইল যেন গলার বিষ।  অনেকবলে মেসের ছেলে একটা ভাঙ্গা মোবাইল দিল ঝিলিক কে।  মা ওঁৎ বুজে না।  ঢাকায় যে যে আত্মীয় আছে সবার খোঁজ নেয় এই মোবাইল দিয়ে।  কেউ পাত্তা দেয় আবার কেউ দেয় না।  এ নিয়ে ঝিলিকের মাথা ব্যথা নাই। 
একদিন চাচাত বোনের বাড়ি মিরপুর যায়।  খুব সুন্দর করে সাজুগুজু করে।  কিন্তু ফায়ার এসে আর কারো সাথে কোন কথা বলল না। 

এক দিন রাতে পুননি বলে , মা আমাকে বিয়ে দাও।  বিয়ে না দিলে আমি মারা যাব।  ছেলে পাবে কোথায় ? এদিকে মেয়ে যে এত বড় হয়ে যাবে ঝিলিক তা বুজতে পারছিল না।  রইসুদ্দিনের একটাই মেয়ে।  তাকে কি জড়তার সাথে বিয়ে দেয়া যায়? যায় না ! ঝিলিক ভাবলো মেয়ে বুজি এমনি বলছে।  কদিন পরে আবার মেয়ে বলল মা আমাকে বিয়ে দাও।  না হলে আমি মরে যাব। 
ঝিলিক েকে বলে ওকে বলে কিন্তু একটা ভাল ছেলে পাওয়া যায় না।  সবারই ২-৩ তা বিয়ে।  লিয়াকত একদিন এই বস্তিতে এসেছিল কাঠের কাজ কোরতে।  পুন্নিকে তার ভাল লেগে গেল।  লিয়াকতের বাড়ি নাকি নন্দদিপাড়া।  এক দিন ৪-৫ জন মহিলা আসল পুন্নিকে দেখতে।  দেখে ৫০০ টাকা দিয়ে গেল।  বুজল যে মেয়ে তাদের পছন্দ।  বলে গেল , লিয়াকত কাজের বেলায় কাজ করে আর ঘুমালে ওরে জাগান যায় না।  নেশা করে।  আগের বৌ ছিল ২ তা।  ওরাই চলে গেছে ওরে ফেলে।  নেশা করলে ও আরো হামলে পরে বৌদের উপর।  আশেপাশে সবাই লিয়াকতের হাত থেকে বাঁচতে চিৎকার দেয়া।  তুমি অল্প বয়সী মেয়ে তোমাকে ও ভালবেসে নিয়ে যাচ্ছে।  বসে বসে খাওয়াবে।  লিয়াকতের নানী আর বোন আসে বেশ কয়েক বার দেখে বলে গেছে , পুননি তুমি ভাইকে ভালবেসে কাছে টেনে রেখ। 

পুন্নির মনে ফাগুনের হাওয়া।  যারা ওরে ওখানে দেখতে পেত না তাদের ও ওর জন্যে মায়া হয়।  কত গল্প গুজুব ওরে ঘিরে।  মনে হচ্ছে ওরাই বুজি ওর আত্মীয়।  সবার চোখে পুননি যেন ভুল করছে।  অথচ ও র কথা- ও বিয়ে করবেই।  এক দিন ছেলের নানী আর ঝিলিক হাটে  গেল ৩০০০ টাকা নিয়ে বিয়ের বাজার করবে।  এক বস্তা ভরা চাল, মুরগি, মসলা , গুঁড়া দুধ ,আর ও অনেক বাজার অন্লো।  খুলে খুলে দেখাচ্ছে মেয়েকে।  বলছে তোর বাপকে ফোন দিয়ে বল , কি কি করলাম।  পুন্নির উত্তর - হেকি তোমারে টাহা দিসে যে জানামু ?
বৃহস্পতিবার বিকালে সবাইকে নিয়ে গায়ে হলুদ করল , সবাইকে ডেকে ডেকে ফিরনি দিল খেতে।  সবাই মাইল নাচলো।  শুক্রবার সকালে ফোন আসলো থানা থেকে , রিদয় পকেট মারতে গিয়ে ধরা খেল। পুলিশি হেফাজতে।  দুপুর ১১ তখন , ঝিলিক ভাবলো পুন্নিকে বিয়ে দিবেই।  সবাইকে ডাকল , দেয় গো তোমরা পুন্নিকে গোসল দাও।   সবাই মিলে গোসল দিল গান  করল।  পুন্নিকে কাপড় পড়ান হল।  বিকাল বেলাতে সবাই রান্না করতে বসল।  রান্না হচ্ছে আর সবাই কানাঘুষা করছে।  তাতে ঝিলিকের  কিছু যায় আসে না।  রাত ৮ টার দিকে বর আসছে , একটা cng করে সাথে বন্ধু আর নানী।  লিয়াকত হাটতে পারছে না নেশা করে বুদ্ হয়ে হাটছে।  পাড়ার ছেলে মেয়েরা গেটে দাঁড়িয়ে আছে।  ছেলে খুঁড়ে খুঁড়ে হাটছে আর পুননি পুননি বলছে।  সবাই তো ছেলেকে এভাবে দেখে ঝিলিক কে বলে , ছেলে নেশা করে বিয়ে করতে আসছে।  দৌড় দেয়  ঝিলিক  লিয়াকতের কাছে , কোলে করে নিয়ে আসে ঘরে। তেতুল পানি লেবু পানি দিয়ে বমি করায় ঝিলিক।  মেয়েকে আর এক ঘরে সাজতে দিয়ে আসে।  কাজী চুপ করে বসে আছে , পরিস্থিতি শান্ত হতে হময় লেগে যায় আরো ২-৩ ঘন্টা।  লাল বেনারসি  জড়িয়ে বসে আছে পূর্ণি।  পাশে লিয়াকত।  ঝিলিক মেয়ের জামাইকে একটা ঘড়ি আর গোটা কয়েক শত টাকা তুলে দেয় যা সে সবার কাছ থেকে সাহার্যের জোনীয় তুলে ানে।  বলে , আমার পূর্ণিকে খেতে দিও ,  মের না।  মারলে মেয়েকে আমি নিয়ে আসব।  আর দিব না।  লিয়াকত কি বুজল তা বুজা গেল না।  

Monday, 6 April 2020

অপেক্ষার প্রহর

অপেক্ষার প্রহর
 বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই , চোখে তেমন একটা দেখতে পান না এলেন ভাই।  এলেন ভাই অনন্তপুরের স্মার্ট ব্যক্তি।  যিনি সবার সাথে সমস্যা ও সমাধান নিয়ে কথা বলেন। সবার বিপদে একই দাঁড়িয়ে যান।  নিজের কিছু না থাকলেও অন্যের বিপদে বুক পেতে দেন।  সম্মান করেন যারা তাকে তার বিবিধ সমস্যার সময় পাশে থাকেন।  পাতলা লিকলিকে সরিলে একটা গেঞ্জি আর জিন্সের পেন্ট পরে তিনি চলে যান সবার কাছে।  আমাকে ভাবি ডেকে সালাম দিবেন মাথা নিচু করে।  বাংলা ও ইংলিশ মোটামুটি পারেন। তাই সবার ভরসা এলেন ভাই।  বিকালটা গড়াতে চলে।  একটা লিস্ট আজি শেষ করতে হবে।  করা কারা গরিব ও দিনমুজুর তাদের একটা লিস্ট করছেন।  আর বকছেন, আগেই বলছিলাম তোমরা ভোটার আইডি কপি করে রাখ, মবাইল নাম্বার মুখস্ত করে লিখে রাখ।  আজি শেষ দিন।  তোমাদের কে দিয়ে গরুর ঘাস কত ও হবে না।  বেশ ২০ জনা মহিলা ঘিরে রেখেছেন। বলছেন , কেন ঘিরে রাখসিস তোরা ? আমাকে লিখতে দে? তোদের তো বড় বড় আত্মীয় আছে যা ওদের কাছে! যা তোরা।  আমি ওঁৎ দেখতে পাই না।  এই সর তোরা।  মোবাইল নাম্বার দে জলদি।  এখনই না লিখলে আর পাবি না।  খাবি কি? মাটি খাবি তোরা ? লিখছি তোদের নাম।  বল নাম্বার দে।  বল , তোর নাম কি?
দূরে ছেলেপেলে খেলছে আর কেচ কেচ করছে।  এলেন ভাইয়ের খুব অসুস্থি।  হেরে তোরা কি আর জায়গা পাস্ না আমার মাথার উপর খেল ! তোদের মারা ও ছেড়ে দেয়।  যা ভাগ তোরা।  এ দিকে সন্ধ্যার আগে আগেই সব লিস্ট করতে হবে।  সবাই সর্গল করে বলছে আর উনি লিখে যাচ্ছেন।

রূপসী দাঁড়িয়ে আছে লাইনে , এক দীর্ঘ লাইন।  আজ রাতে চাল ডাল দিয়ে যাবে একদল ছেলেরা।  লাইনে সবার চাওয়া কখন তার নামটা ডাকবেন এলেন ভাই।  রূপসীর স্বামী চলে গেল বগুড়ায়।  নিজের বাড়িতে বাবা মায়ের কাছে।  ঢাকায় যে বিয়ে করে সংসার করছে তা তার বাবা মা জানে না। অনেক বার জানানোর কথা বলতে গিয়ে মার্ খেয়েছে রূপসী।  একটা দর্জি ঘরে কাজ করে দিনযাপন করে।  এখন দোকান বন্ধ।  মালিক বেতন না দিয়ে দোকান বন্ধ করে দিল।  ফোন দিলে রিসিভ করে না।  জীবনের তাগিদে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রহর গুনছে কখন রূপসীর নাম আসবে।  

Managing social grant for poor people properly especially in the time of life threatening crisis


Managing social grant for poor people properly especially in the time of life threatening crisis



Let’s start the discussion with the modern banking system and smart currency concept like paper money.
Where there was no bank, people who have deficit need spend time, energy, money to find the people who have surplus fund and want to borrow them. Not only that the persons in crisis were not sure about getting their required amount of debt from a single person and they might need to approach more than one person to manage their complete amount. But after banks arise, people having surplus   put their extra money there and people in deficit also go to the same place for borrowing. As a result, society’s welfare increased   as individuals, families, organizations, factories can mediate and arrange their much needed funds at the quickest time possible to utilize that for producing for the same society also at the quickest time possible and sell cheaply.
Now take an example of the transport system. People need to spend boring time to find their preferred vehicle while on the street. Also there was a chance of conflict about fare, exact distance, number of people or goods to be carried and other issues. But because of simple mobile apps like UBER ,Pathao, life has become easier. People can decide easily sitting in their drawing room and at the end, nobody is unhappy. As a result, society’s overall welfare is  maximized.
Another good example is the food industry. Previously, if we think of takeaway food, we just can get those from professional food preparing hotel and restaurants. People in need of food have to visit those places physically to order for their preferred items from the menu, resulting in increased cost in terms of time, money, energy and conflicts. But when simple mobile apps like UBER EATS,PATHAO FOODSs get the food vendors and buyers together, the problem eases a lot and society’s welfare increases. The wonderful things start to happen when mass households prepare foods not only for their daily needs but also sell some portion for other persons or families who need those or do not have much time to prepare those. Things get much comfortable, cost effective, and efficient when ride sharing companies or others like FOOD PANDA arrange to ship the foods ordered home cheaply at the earliest. Again society’s welfare goes up and efficiency is increased as a whole.

The previous three stories are the examples of social technologies. Social technologies are the systems or arrangements to get the general mass organized in pursuit of a goal or goals.
The purpose of this article is not to make research paper about social technologies but to find any means possible for the poorest section of the country to support in any form in a time like lockdown which the country or world as a whole has not seen in the century.

The question : can we  arrange for any social technologies similar to above mentioned stories to feed or support hundreds of thousands of ultra poor people.
The number of rich people is on the increase more than ever. People have a positive mental attitude to  give donations for the destitute but the problem is the wealthy people do not know who are much needy to support instantly or the poorest also do not know who want to donate or who have that kindness. This lack of social connection, disorganization punishes the poor in terms of money, energy ,health, time  and at the same time  creates an inertia for the able people to come forward. This means a longer lasting tyranny for the poorer class. The matter has become forefront especially in a time like country-wide lock down to control the outbreak of the COVID-19 pandemic. Hundreds of thousands of people are at the threat of famine or long term hunger, resulting in death, malnutrition, birth of immature babies, rise of criminal activities, social disorder, spread of other diseases and death from other diseases etc.
If we have enough to feed the poor for a year then it has to be made sure that it has been properly organized so that the much needed rations be able to reach the real poor. There is no alternative to social technologies as described at the beginning for the best organization. It will ensure proper distribution and stop dishonest people from stealing. it will ease the pressure from the government as general people from the rich class will join no doubt. It will help to channelize the donations from a specific location to the same location’s poor people. A specific place’s total number of destitute poor people will be registered and that place’s donors also will be registered. it has to be  decentralized and  well organized system like other social technologies.     Even fund or grants from foreign sources can be managed using the same platform.
The country has been in lockdown for only 7 days. Nobody knows how long it will continue or how long it will take to control COVID-19 outbreak. Under this circumstance, we have lot of rich kind people who want to help the poor. If this can be organized properly, society’s welfare will certainly increase, ultra poor people will survive, assistance will reach at the quickest, proper amount of help can be assessed for the right person. When these people will be fed properly, country can concentrate properly on fighting COVID-19.We are optimistic like other issues. We have made many good things possible. Like other sectors, we will hopefully be able to manage our  social grants properly to channelize those to the poor people most efficiently and ensure their survival.(Self)
               






রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...