Thursday, 25 June 2020

Year -mate

শরীফ আর আমি ছোটবেলা থেকে পরিচিত।  আমরা একই স্কুলে পড়ছি।  একই ক্লাস।  কিন্তু ও একটু ফাঁকি বাজে আর আমি তো সিরিয়াস অল টাইম।  এক দিন ওর বাসায় গিয়ে ওর মেক জিজ্ঞাসা করছিলাম ও কোন স্যারের কাছে পড়ে ? ও এত খারাপ রেসাল্ট কেন করে ? ওর মা শুনে আমাকে কলা বিস্কুট খাইয়ে বিদায় দিয়ে ওরে দিল ভাল করে বাদাম।  বাদাম খাইয়া পোলা পরের দিন লাগাইলো আমার সাথে পাংগা আমি ও কি কম? দিচ্ছি আরো বাদাম , পোলাটা গাট্টা গোত্তা তো আমি ওকি কম ! আমি ওরে এমন লাত্তি দিসি যে ও আর শরমে মাইর করতে আসে নি।  বেপারটা এইখানে থামে নেই।  মদন মোহন কলেজ এ পরীক্ষা , সিট্ পড়ছে আমার সামনে।  সে দিন আবার পারিনা কিছুই।  শেষ বরষা এই শরীফ।  ও শিট প্রায় শেষ , গাঢ় গুঁড়ায় জিজ্ঞাসা করে , কিছু পারিস! আমি ও বললাম অরে যা ভাগ দেখবিনা জিজ্ঞাসা করিস কেন? ও বলল , না দেখ , তুই তো পারবি , আদা বছর ডেঙ ডেঙ করে ঘুরে বেড়াস তুই পারবি ! মন চাইছিল ওরে আর একটা লাঠি মারি।  কিন্তু সে দিন কৃতজ্ঞতায় আর পারলাম না।  মেডাম তা ছিল মদনের বাংলা মেডাম জেক সবাই চিনে , আমি ছাড়া।  শরীফ ও দেখি মেডাম কে খুব সম্মান দেখিয়ে আমাকে দেখাই খুব বিশ্ব জয় করলো।  ওরে থ্যাংকু দিচ্ছি কিনা আজ মনে নেই।  কিন্তু ও পরীক্ষায় চান্স পেল আর আমি ফেল। 
২ বছর ওর সাথে দেখা নেই।  এক বৈশাখে দেখি কে একটা আমাকে নাম ধরে মুখ বেঙচিয়ে ডাকছে।  আমি বললাম তুই কে ? আমি শরীফ।  তুই মরছিলে তো মরলিনা কেন ? আমার পিচ পিচ করিস কেন ? যা এইখান থেকে নাইলে তোরে লাথি দিব।  ওর পাশে একটা সুন্দর মেয়ে ছিল।  ওরে দেখে আমার আরো ও খারাপ লাগছিল।  একেতো মেয়েটা অপুরূপ সুন্দরী তারুওপর ওরে ছেবলামি করেদেখছে।  মেজাজ যা খারাপ হয়।  জোর করে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়ে খিচুড়ি আর চা খাওয়ালো।  আমি বিল দিব মাজখানে ওই সুন্দরী মেয়ে টা বিল দিল। 
মেয়েটাকে আমার খুব ভাল লাগছে , কিন্তু হিংসা হচ্ছিল।  কি লম্বা চুল আবার মুখ তা লম্বাটে আর ফর্সা কত।  শরীফের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে , আমার ইচ্ছা করছিল ওর মায়ের কাছে গিয়ে আবার বিচার দেই। 
কোন এক বর্ষায় ছাতা নিয়ে আমি আমার এক বন্ধু কে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।  হঠাৎ করে দেখছি গাদা তা রিক্সায় নিয়ে মেয়েদের হোস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।  আমি ভাবলাম ও তো আমাকে দেখে কুত্তার মত দৌড় দিবে।  কিন্তু ওর মুখ তা ছিল মলিন আর লজ্জায় ভরা।  আমি বুজে নিয়েছি - এই ছেলে গেল রসাতলে।  মেয়ে তা হোস্টেল থেকে বের হয়ে এল কি এক দুটা কথা বলে যেন পালিয়ে গেল।  আমি শরীফ কে কিছু জিজ্ঞাস করলাম না।

আবার , পরের দিন দেখি ছেলেটা ক্লাস শেষ করে দৌড় দিল মেয়েদের হোস্টেলের দিকে।  দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ২টা  বেজে গেল।  মেয়েটা উস্কুখুস্কু ভাবে নেমে ১ মিনিট ও দাঁড়ালো না।  ভুলে যাও  বলে চলে গেল। 
আমার সাথে আর কোন দিন শরীফের দেখা হল না।  

No comments:

Post a Comment

Thanks a lot
Regards,
morsalina

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...