Sunday, 12 July 2020

Bad touch

আসমা ৩ মেয়ে আর ২ ছেলে নিয়ে বাসাবাড়িতে কাজ করে।  আলম ওর স্বামী প্রথমে রিক্সা চালাতো এখন মানুষের ফুটফর্মেস খাটে না হয় কাজই  করে না।  আসমা বাসা বাড়িতে কাজ করে দুপুরের খাবার নিয়ে আসে।  একটা সমিতি চালায়।  ৩০ হাজার টাকা কর্জ  নিয়ে সুদে খাটিয়েছে , যেটা তার স্বামী জানে না।  এই ৩০ হাজার সমিতিতে দিতে গিয়ে ওর অনেক কাজ করতে হয়।  আসে পাশে ওর শাশুড়ি থাকে , আর ও থাকে দেবরের পরিবার।  সবার কাছে তার ওই ৫ সন্তান চোখের কাঁটা  . কেন কাঁটা  তা কারো জানা নাই।  না ওদের ঘরে থাকে না কারো কাছ থেকে কিছু চায়।  আসমা ঈদে যে বোনাস পেয়েছে তা দিয়ে সবার কাপড় কিনেছে , কিন্তু শাশুড়ির তা কিনে নি।  পরের দিন আলমের মার্ খেল সবার সামনে।  ব্য ব্যে  করে কেঁদে  কেঁদে চলে গেল কাজে।  যারা ওরে বোনাস দিয়েছে তাদের বাসার কাজ আগে করা দরকার।  আলমের একটাই কথা , সবার জন্যে কিনতে পারছ  কেন মায়ের টা  কিনল না।  আসমা বলে গেল , তোর মায়ের কাপড় আমার মেহনতের টাকায়  কিনব না।  তুই কিনে দে।  আলম ওরে আচ্ছা করে মাইর দিয়ে ও ওর কাছ থেকে টাকা নিতে পারল না।  গজ গজ করে সামনের দোকান থেকে ডার্বি সিগারেট কিনে  খাচ্ছে।  এগুলা যেন ওদের জীবনে ডালভাত।  সকাল হলে কাপঝাপ আবার দুপুর গড়ালে কাপঝাপ। 
আমার বড় মেয়ে নীলা।  ও নীলা খুব সুন্দর মেয়ে।  চুল গুলা ওর মা টাইট করে বেঁধে দেয়।  হাতে দেয়  ১০ টাকা।  কোলে থাকে সদ্য  জর্ন্ম নেওয়া ভাই।  আরেক হাতে থাকে আরো ও একটা বোন।  যেন ওদের কেউ গ্লু দিয়ে এঁটে  দিয়েছে এমন।  পিছে পিছে থাকে একটু কথা বলা ভাই আর বোন। ের যেখানে যায় একসাথে যায়।  আসমা যে বাসায় কাজ করে ওদের গেরেজে অথবা তার সামনের জায়গায় বসে থাকে।  আসমা বলে যায় নীলা এদের নিয়ে এইখানেই বসে থাকবি , ঠিক তেমন করে বসে থাকে।  একটু ও ক্লান্তি লাগে না ওর। দুধ খাওয়া ছোট ভাইটি ওর কলিজা।  ওর খিদা পেলে কত শত মিথ্যে গল্প করে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।  আর ছোট গুলাকে গান শুনাবে অথবা ছোটদের ছড়া  শুনাবে।  অদ্ভুত গলা মেয়েটার।  মেয়েটাকে দেখলে যে কেউ বলবে মেয়েটা এত বুজে জানে কি করে , ৪টা  ভাই বোন এক হাতে কি করে সামাল দেয়  . দোকান থেকে বিস্কুট কিনে এনে দিবে ভাই বোনদের।  মা যখন নামে  কাজ থেকে ঠিক তখন োর এক বাসা থেকে আর এক বাসায় গিয়ে উঠে। 
নীলা খুব ভালো ইংলিশ ছড়া  বলে , টুইংকল  টুইংকল।. .. ব্যা  ব্যা  .. পুসি ক্যাট। . এগুলা ও যে কি থেকে শিখছে , জানা নাই ওর।  যেখানে যা কিছু দেখে শুনে তা এসে ভাই বোনদের শুনাবে।  কোন বাসার সার মেম  ওরে জামা দিয়েছে সাথে একটা রঙিন বই।  এই বইটা তার মুখস্ত।  এখন সে আর ও বই চায়। কিন্তু বলে না লজ্জায়। 
নীলা র বয়স ৯ বছর।  মার্বেলের মত চোখ তার।  কোন খেলার সাথী নাই।  ভাই বোনদের নিয়ে থাকে সারাবেলা।  আরশিদের  বাসা ওদের পাশে।  আরশির অনেক খেলনা।  ২- একবার ওর খেলনা দেখতে চেয়েছে আর অমনি ওর বাবা ওরে গায়ে মাইর দিয়ে বের করে দে।  যখন ই আরশির বাবা বাসায় থাকে না তখন ওর খুব লোভ  জাগে আরশির খেলনা দিয়ে খেলতে চায়।  খেলা প্রায় শেষ এমন সময় ওর বাবা এসে  দরজা লাগিয়ে দেয়।  বলে , তোকে যেতে দিব যদি আমার পা টিপে দাও , বেচারি পড়েছে বিপদে , আমতা আমতা করতে করতে পা টিপে দিল লোকটার।  তারপর মেয়েটা চিৎকার দিয়ে দরজায় থাপড়াতে লাগলো , কেউ খুলে দিল না , হাপাতে হাপাতে মেয়েটা দরজা খুলে বের হল।  নীলা আর স্বাবাভিক হতে পারলো না। আসমা কে সে জানাতে ও পারলো না তার সাথে ঘটে যাওয়া বিষাদময় ঘটনা।  আসমা মেয়ের উপর ৪ সন্তানকে রেখেই কাজে যায় কিন্তু নীলা আর কোথাও যেতে পারে না।  ওই অন্ধকারময় গুটগুটে ঘর টার   মধ্যে ওর কেটে যায় আর ও ২ টা  বছর।  অপরিচিত কাউকে দেখলেই ঢুঁকে  পড়ে  ঘরে.....

No comments:

Post a Comment

Thanks a lot
Regards,
morsalina

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...