মায়ের চাঁদর।
কোন এক শীতে দিয়ারা তাদের নানী বাড়িতে বেড়াতে গেল। অনেক বছর ওদের নানা বাড়ি যাওয়া হয় না। বছর শেষে দাদি বাড়ি যায় কিন্তু নানী বাড়ি নয়। যেন কোন একটা গোপন বেপার আছে যে নানী বাড়ি তে যাওয়া নিষেধ। নানী প্রতিবার পাতিল ভরে খেজুরের রসের শিন্নি আর পিঠা ভেজে নিয়ে আসে। নাতি নাতনি খাবে বলে। প্রতিবছর দিয়াদের দাওয়াত দেয়। . কিন্তু বাবা নানী বাড়ি যান না। তাই দিয়ার মা এ বেলা নানি ইকে দেখতে গেলেও ও বেলায় আবার ফিরে আসে। বাবা বোকা দেবার ভয়ে। বাবা আজীবন মাকে খুব কথা শুনিয়েছে , তোমার বাপের বাড়ি থেকে কি এনেছ ? বাবার বাড়ি বাবার বাড়ি কর ! মা খুব একটা কথা বলতেন না , বলা শুরু করলে বাবা মুখ লুকাতো। ছেলেমেয়েদের সামনে তোমাদের বাপ্ বেটা আর তোমার মায়ের ভাইদের কথা খুলে বললে োর কখন ও দাদির বাড়ি করবে না। যখন তোমার ঠিকানা ছিল না , তারা তোমার সন্তানদের দূর ছাই করেছে। আমার বাবা তাদের জামা কাপড় ওষুধ আর খাবারের বেবস্তা করেছে। যখন আমার ভাই বোনরা ছোট ছিল ওদের না দিয়ে তোমার সন্তানদের দিয়েছে। আমার বাবা ভাল না কারণ আমার বাবা বিচার দিয়েছে আল্লার কাছে। যে মানুষটা দুনিয়া থেকে চলে গেলেও সন্তানদের বলে গেছে তোমার ছেলেমেয়েকে দেখে রাখতে এই অপরাধ ছিল আমার বাবার। তোমার বাবা তো প্রতি মাসে টাকা পেলে তা দিয়ে কোন দিন ওষুধ ও কিনে দে নি। আমার চিঠি গুলা পর্যন্ত ফেলে দিয়েছে রাস্তায় যেন তুমি না পাও। তুমি কি করে বুজবে আমার বাবা মা তোমাদের কি দিয়েছে। আমি কয়েক কাঠা জমি নিয়ে এসে তোমাদের দিব আর আমার ছোট ভাই বোনেরা যারা আমাকে আজীবন দেখেছে তাদের কি হবে একবার ভেবে দেখেছ?
এমন জগড়া বিবাদ দিয়াদের পরিবারে লেগে থাকতো। দিয়ারা জানতো বাবা নানীর বাড়ি লোকদের এত একটা পছন্দ করতো না। সে বার , নানী কিছু পাঠালো না , নানী মামাকে দিয়ে বলে পাঠালো , দিয়াদের দাওয়াত। না সালে নানী মন খারাপ করবে। মা অনেক বলে বাবা কে রাজি করালো। সে রাতে দিয়ার আর ও ২ জন খালাদের ও দাওয়াত ছিল। শীতের রাত গ্রামের পথ সন্ধ্যে লাগার আগেই বাবা সবাইকে নিয়ে রওনা দিল। নানী বাড়ি যেতে ১ ঘন্টা সময় লেগে গেল।
নানী খুব অসুস্থ। শুয়ে আছে অন্য খালার রান্না করছে। প্রথমে পিঠা তারপর মুরগি আর গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে পোলাও। অন্য খালার ও আসলো তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের স্বামী দেড় নিয়ে। . দিয়ারা আগে কখন ও অন্য খালুদের দেখে নি। আজি দেখলো। এক খালু তো খুব অমায়িক। আর এক জন সিগারেট খায়।
রাত গভীর হলো। সবাই মাইল খেয়ে এইবার বাবার কাছে অন্য খালুরা আবদার নিয়ে বসলো। ভাই আপনি কিছু করেন। আমরা সংসার চালাতে পারছি না , এদের অনেক সম্পদ। আমাদের একটু করে দিলে আমরা চলতে পারবো। মা বলে বসলেন , নাহ আমার বাবা অনেক কষ্ট করে সম্পদ গড়েছেন , আমরা তা ভাগ হতে দিব না। আমার বাবা অকালে মারা যাবার পর কেউতো কাছে আসেন নাই। আমার ছোট ভাই বোনদের তো কেউ পড়ান নাই। তারা নিজে নিজে যা পারছে , ক্ষেত্রে খামার করে বড় হয়েছে। আমার মা অসুস্থ। কখন কি হবে আমরা টাকা পাব কোথায়। দিয়ার বাবা এসব শুনে মায়ের উপর অনেক রাগ ঝাড়লেন। ভাব দেখালেন আসলেই মা যা বলছে ঠিকই বলছেন। দিয়ারা খেলাধুলা শেষ না করেই হতবম্ব হয়ে আছে। োর জানে ওদের বাবা রেগে গেলে পরিস্থিতি আর ও খারাপ হবে।
নানী অনেক করে বলছে আমার বড় ছেলে আজ এই বাড়িতে থাকবে ,নাতি নাতনি গুলা আমার কাছে থাকবে। োর তোরা ওদের সবার বেবস্থা কর। এই কথা শুনে দিয়ার বাবা আর ও রেগে গেলেন। নঃ উনি আর এইখানে থাকবেন না। উনি বললেন দিয়া তোমরা চল। তোমার মা থাকুক। মা শুনে বললেন , মা বিদায় দাও আমি ও চলে যাব। বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে।
কোন কোন শীত। দিয়াদের গায়ে হালকা শীতের জামা রাত যত গভীর হচ্ছে তত আর ও শীত নেমে বসেছে সামনে কিছু আছে কিনা তা দেখা যাচ্ছে না। একটা রিক্সা নাই। হেটে হেঁটে যাচ্ছে। আর বাবা বক বক করছেই মায়ের সাথে। দিয়া বলে উঠলো , মা অনেক শীত আমি আর হাটতে পারবো না। তোমার গায়ের চাদর তা দাও। আর মা সাথে সাথে দিয়াকে তা দিয়ে দিল। মায়ের শরীরে শুদু পাতলা একটা কাপড়। দিয়া বললো মা তোমার কি শীত করে না ? মা বললেন , না বাবা , আমার শীত করে না , চল বাড়ি যাই। বাড়িতে গিয়ে কথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়বে। দেখবে আর শীত করবে না। বাবা কিন্তু মা কে বকেয়া যাচ্ছে। মা কিছু কথার উত্তর দিচ্ছেন আর কিছু কথা শুনছেন না।
হটাৎ করে এই রাতে একটা রিক্সা পাওয়া গেল। বাবা রিক্সা ওয়ালাকে আগে থেকে চিনতেন। বললেন বাড়ির দরজার সামনে নামিয়ে দিয়ে যা। মা কোন রকম বসে সবাইকে ২ হাত দিয়ে জাপ্টে ধরলেন মায়ের চাদর কিন্তু দিয়ার সরিলে। বাড়ির সামনে এসে ও বাবা মেক বকেয়া যাচ্ছেন। আর দিয়া ভাবছে এত ঠান্ডা আমার মায়ের কেন গরম লাগছেই ? কেন সে বলছে তার সরিলে অনেক গরম ? কৈ রিক্সায় তো মায়ের হাত পা ঠান্ডা বরফের মতি লাগলো ? মা কেন মিথ্যে কথা বলছে ?
অনেক অনেক বছর পর মায়ের চাদর ই দিয়া পরে। প্রথমে চাদর কিনে মা কে দেয় মা সেটা পড়লে তারপরে দিয়া পড়ে। চাদর ভিতর কি আছে দিয়া জানে না। কিন্তু মা আছে। ..
কোন এক শীতে দিয়ারা তাদের নানী বাড়িতে বেড়াতে গেল। অনেক বছর ওদের নানা বাড়ি যাওয়া হয় না। বছর শেষে দাদি বাড়ি যায় কিন্তু নানী বাড়ি নয়। যেন কোন একটা গোপন বেপার আছে যে নানী বাড়ি তে যাওয়া নিষেধ। নানী প্রতিবার পাতিল ভরে খেজুরের রসের শিন্নি আর পিঠা ভেজে নিয়ে আসে। নাতি নাতনি খাবে বলে। প্রতিবছর দিয়াদের দাওয়াত দেয়। . কিন্তু বাবা নানী বাড়ি যান না। তাই দিয়ার মা এ বেলা নানি ইকে দেখতে গেলেও ও বেলায় আবার ফিরে আসে। বাবা বোকা দেবার ভয়ে। বাবা আজীবন মাকে খুব কথা শুনিয়েছে , তোমার বাপের বাড়ি থেকে কি এনেছ ? বাবার বাড়ি বাবার বাড়ি কর ! মা খুব একটা কথা বলতেন না , বলা শুরু করলে বাবা মুখ লুকাতো। ছেলেমেয়েদের সামনে তোমাদের বাপ্ বেটা আর তোমার মায়ের ভাইদের কথা খুলে বললে োর কখন ও দাদির বাড়ি করবে না। যখন তোমার ঠিকানা ছিল না , তারা তোমার সন্তানদের দূর ছাই করেছে। আমার বাবা তাদের জামা কাপড় ওষুধ আর খাবারের বেবস্তা করেছে। যখন আমার ভাই বোনরা ছোট ছিল ওদের না দিয়ে তোমার সন্তানদের দিয়েছে। আমার বাবা ভাল না কারণ আমার বাবা বিচার দিয়েছে আল্লার কাছে। যে মানুষটা দুনিয়া থেকে চলে গেলেও সন্তানদের বলে গেছে তোমার ছেলেমেয়েকে দেখে রাখতে এই অপরাধ ছিল আমার বাবার। তোমার বাবা তো প্রতি মাসে টাকা পেলে তা দিয়ে কোন দিন ওষুধ ও কিনে দে নি। আমার চিঠি গুলা পর্যন্ত ফেলে দিয়েছে রাস্তায় যেন তুমি না পাও। তুমি কি করে বুজবে আমার বাবা মা তোমাদের কি দিয়েছে। আমি কয়েক কাঠা জমি নিয়ে এসে তোমাদের দিব আর আমার ছোট ভাই বোনেরা যারা আমাকে আজীবন দেখেছে তাদের কি হবে একবার ভেবে দেখেছ?
এমন জগড়া বিবাদ দিয়াদের পরিবারে লেগে থাকতো। দিয়ারা জানতো বাবা নানীর বাড়ি লোকদের এত একটা পছন্দ করতো না। সে বার , নানী কিছু পাঠালো না , নানী মামাকে দিয়ে বলে পাঠালো , দিয়াদের দাওয়াত। না সালে নানী মন খারাপ করবে। মা অনেক বলে বাবা কে রাজি করালো। সে রাতে দিয়ার আর ও ২ জন খালাদের ও দাওয়াত ছিল। শীতের রাত গ্রামের পথ সন্ধ্যে লাগার আগেই বাবা সবাইকে নিয়ে রওনা দিল। নানী বাড়ি যেতে ১ ঘন্টা সময় লেগে গেল।
নানী খুব অসুস্থ। শুয়ে আছে অন্য খালার রান্না করছে। প্রথমে পিঠা তারপর মুরগি আর গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে পোলাও। অন্য খালার ও আসলো তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের স্বামী দেড় নিয়ে। . দিয়ারা আগে কখন ও অন্য খালুদের দেখে নি। আজি দেখলো। এক খালু তো খুব অমায়িক। আর এক জন সিগারেট খায়।
রাত গভীর হলো। সবাই মাইল খেয়ে এইবার বাবার কাছে অন্য খালুরা আবদার নিয়ে বসলো। ভাই আপনি কিছু করেন। আমরা সংসার চালাতে পারছি না , এদের অনেক সম্পদ। আমাদের একটু করে দিলে আমরা চলতে পারবো। মা বলে বসলেন , নাহ আমার বাবা অনেক কষ্ট করে সম্পদ গড়েছেন , আমরা তা ভাগ হতে দিব না। আমার বাবা অকালে মারা যাবার পর কেউতো কাছে আসেন নাই। আমার ছোট ভাই বোনদের তো কেউ পড়ান নাই। তারা নিজে নিজে যা পারছে , ক্ষেত্রে খামার করে বড় হয়েছে। আমার মা অসুস্থ। কখন কি হবে আমরা টাকা পাব কোথায়। দিয়ার বাবা এসব শুনে মায়ের উপর অনেক রাগ ঝাড়লেন। ভাব দেখালেন আসলেই মা যা বলছে ঠিকই বলছেন। দিয়ারা খেলাধুলা শেষ না করেই হতবম্ব হয়ে আছে। োর জানে ওদের বাবা রেগে গেলে পরিস্থিতি আর ও খারাপ হবে।
নানী অনেক করে বলছে আমার বড় ছেলে আজ এই বাড়িতে থাকবে ,নাতি নাতনি গুলা আমার কাছে থাকবে। োর তোরা ওদের সবার বেবস্থা কর। এই কথা শুনে দিয়ার বাবা আর ও রেগে গেলেন। নঃ উনি আর এইখানে থাকবেন না। উনি বললেন দিয়া তোমরা চল। তোমার মা থাকুক। মা শুনে বললেন , মা বিদায় দাও আমি ও চলে যাব। বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে।
কোন কোন শীত। দিয়াদের গায়ে হালকা শীতের জামা রাত যত গভীর হচ্ছে তত আর ও শীত নেমে বসেছে সামনে কিছু আছে কিনা তা দেখা যাচ্ছে না। একটা রিক্সা নাই। হেটে হেঁটে যাচ্ছে। আর বাবা বক বক করছেই মায়ের সাথে। দিয়া বলে উঠলো , মা অনেক শীত আমি আর হাটতে পারবো না। তোমার গায়ের চাদর তা দাও। আর মা সাথে সাথে দিয়াকে তা দিয়ে দিল। মায়ের শরীরে শুদু পাতলা একটা কাপড়। দিয়া বললো মা তোমার কি শীত করে না ? মা বললেন , না বাবা , আমার শীত করে না , চল বাড়ি যাই। বাড়িতে গিয়ে কথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়বে। দেখবে আর শীত করবে না। বাবা কিন্তু মা কে বকেয়া যাচ্ছে। মা কিছু কথার উত্তর দিচ্ছেন আর কিছু কথা শুনছেন না।
হটাৎ করে এই রাতে একটা রিক্সা পাওয়া গেল। বাবা রিক্সা ওয়ালাকে আগে থেকে চিনতেন। বললেন বাড়ির দরজার সামনে নামিয়ে দিয়ে যা। মা কোন রকম বসে সবাইকে ২ হাত দিয়ে জাপ্টে ধরলেন মায়ের চাদর কিন্তু দিয়ার সরিলে। বাড়ির সামনে এসে ও বাবা মেক বকেয়া যাচ্ছেন। আর দিয়া ভাবছে এত ঠান্ডা আমার মায়ের কেন গরম লাগছেই ? কেন সে বলছে তার সরিলে অনেক গরম ? কৈ রিক্সায় তো মায়ের হাত পা ঠান্ডা বরফের মতি লাগলো ? মা কেন মিথ্যে কথা বলছে ?
অনেক অনেক বছর পর মায়ের চাদর ই দিয়া পরে। প্রথমে চাদর কিনে মা কে দেয় মা সেটা পড়লে তারপরে দিয়া পড়ে। চাদর ভিতর কি আছে দিয়া জানে না। কিন্তু মা আছে। ..
No comments:
Post a Comment
Thanks a lot
Regards,
morsalina