Sunday, 28 June 2020

বর্ষা দিনে বর্ষার প্রেম।

বর্ষা দিনে বর্ষার প্রেম। 

বর্ষা দিনে এক কাপ চা নিয়ে বসে আছি।  ভাবছি , মাথার মাঝে বর্ষার স্মৃতি ধরে না রেখে লিখি।  জানিনা কত টুকু ঠিকঠাক লিখতে পারবো! যত টুকু রহিদয়ে আছে আছে তাই লিখি। 

বর্ষা আর জাহেদ ওরা ভিন্ন ভিন্ন কলেজে পড়তো।  কেউ কাউকে দেখেছে এমনটি ও না।  বর্ষা যে স্কুলে পড়তো ওর এক বন্ধু জাহেদের সাথেই পড়তো।  জাহেদ একদিন তাঁর বন্ধুর সাথে আলাপ করতে গিয়ে বর্ষার কথা জানতে পারে।  কিন্তু জাহেদ কি করে বর্ষার সাথে পরিচয় হবে তা জাহেদের জানা ছিল না।  অনেক চেষ্টার পর , বর্ষার ফোন নাম্বার যোগাড় করে।  ততদিনে বর্ষা বেশ জানতো যে , ফোনে রং নাম্বার এ ইচ্ছে করে ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলে।  অনেক দিন চেষ্টা করে ও বর্ষার সাথে জাহেদের কথা হয় না।  
জাহেদ লুকোচুরি পছন্দ করতো , হেয়ালি কথা আর রাজ্যের অগোছালো আলাপ নিয়ে ফোন দিত।  মনে হত জোট গেয়ানি গুণী মানুষ যদি থেকে থাকে তাহলে ও প্রথম একজন।  আজ কি হল কাল কি করবে , এই নিয়ে আলাপ করে সময় কাটাতো।  যেন উনি এই রাজ্যের বড় বেস্ত লোক।  বর্ষা যত পারতো এড়িয়ে জেত।  ওর চিন্তা ছিল কি করে নতুন নতুন বই পড়বে।  বর্ষার বই জোগাড় করার নেশা ছিল।  কবিতার বই , ভ্রমণ কাহিনী , ছোটদের গল্প কিন্তু ওর প্রেমের গল্প ভাল লাগতো না।  বাবার কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে চলে যেত গল্পের বই কিনতে।  লাইব্রেরি লোকটা যে বর্ষা কে দেখতো অমনি খুশি হত।  বর্ষার সাথে লাইব্রেরি র ভাইটার সাথে অনেক খাতির।  ওখানে বসে বসে ২ একটা গল্পের বই পরে ও নিতো।  কোন বইয়ের আধ খানা রেখে গেলেও লাইব্রেরির ভাই ওটা যত্ন করে রেখে দিত।   জিন্দা বাজারে বইয়ের মার্কেট এ এই রকম প্রায় সময় যাওয়া হত।  সবাই ওখানে বই প্রেমীরাই যায় , সারাদিন বই আর নতুন বইয়ের গন্ধ , সে কথা ভুলে যায় না।  সিঁড়ি বেয়ে ২ তলায়উঠে বামে মোর নিয়ে দনে দোকানটা।  
বর্ষার সাদা রং খুব পছন্দের , আর কালো রং ওর অপছন্দের।  বেশ কয়েকদিন পর পর জাহেদ বর্ষাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে বর্ষা খুব খেপে যায়।  সময় নাই গুমানোর সময় এই আজগুবি কথা নিয়ে ফোন দেয়।  বিরক্তি খুব চরমে।  একয়েকদিন খারাপ ভাবে বলেও কিছু করা যায় নি।  এই আগাছা কয়েকদিন পর পর বিরক্ত করে।  
জাহেদ বেশ বুজতে পারলো এ ভাবে বর্ষার সাথে কথা বলা যাবে না। ফন্দি আটলো কি করে ওর সাথে কথা বলবে।  জিজ্ঞাসা করলো কবে যাবেন জিন্দাবাজার।  বর্ষা বলে দিল সামনের শুক্র বারেই যাবে একটা কাপড় কিনবে আর ছাতা কিনবে।  
শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়ে ওর বান্ধবীকে নিয়ে জিন্দাবাজার গেল , ওরা বইয়ের দোকানে গেল , নিচে ফুসকা খেল তারপর ওর বান্ধবীর এক বন্ধু আসলো োর কোথায় লেগে গেল।  বর্ষা আর wait না করে চলে গেল কাপড়ের দোকানে। ওখানে এক জন এসে বললো তুমি বর্ষা! বর্ষা বলল , জি কে তুমি ? জাহেদ।  ও আচ্ছা , তোতুমি আমাকে এত ডিস্টার্ব কর কেন? তুমি আমাকে এত অপছন্দ কর কেন ? জানিনা।  তুমিআমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করবে না।  ঠিক আছে।  
আচ্ছা , তুমি কি এইখান থেকে কাপড় নিবে নাও।  বর্ষা কাপড় নিল।  ততক্ষনে ভাল বৃষ্টি চলে আসলো।  কিকরে বাসায় যাবে।  ওদিকে খরচ বেশি হওয়াতে ছাতা কিনতে পারছে না।  
জাহেদ বললো , তোমাকে একটু এগিয়ে দেই ! ঠিক আছে।  ততক্ষনে সন্ধ্যা নেমে আসলো।  চারদিকে লোকজন ছুটাছুটি শুরুকরেছে , আর অন্য দিকে একছাতার নিচে জাহেদ আর বর্ষা। জাহেদ খুব চেষ্টা করছে দূরত্ত্ব ঠিক রাখতে ওদিকে বর্ষায় ও তাই।  ২ জনের ২ দিক ভিজে একদম পানি পড়ছে।  এত বৃষ্টি যে রিক্সা গুলা ও যেতে চাইছে না।  কি করা বাসা পর্যন্ত দিয়ে গেল জাহেদ।  তার পর , কোন এক কারণে বর্ষা জাহেদের উপর আর রাগ করলো না কিন্তু জাহেদ ও বর্ষাকে বিরক্ত করলো না। 

অনেক দিন পর , জাহেদ অনেক গুলা চরই পাখি নিয়ে আসলো বর্ষার কাছে।  বর্ষা জিজ্ঞাসা করলো কি করবে ? ছেড়ে দিব।  তো এইখানে কেন ? অনেক দিন আমার বাসায় ছিল োর ওদের ছেড়ে দিলে তোমাকে ভুলে যাব।  আর অমনি বর্ষার হাসি পায়।  কেন আমাকে ই মনে রাখতে হবে ? তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে আর তোমাকে ভুলতে পারছি না।  তো তোমাকে কি আমি বলেছি যে আমার সাথে দেখা করতে ? কেন যে ভুল করেছি ! 
আবার ওদের মধ্যে যোগাযোগ নেই , জাহেদ হাওয়া হয়ে গেল।  ৩ ম্যাশ পর আবার ফোন দিল , আমি একটু দেশের  বাহিরে গেলাম তো যোগাযোগ করতে পারিনি।  কেন, বলে গেলে কি হত ? মন খারাপ লাগতো ! হা হা হা।  আচ্ছা , তোমার চরৈদের কি ছেড়ে দিছ ? নঃ তোমাকে দেখানোর পর আর ছেড়ে দিতে মন দিল না ! ও আচ্ছা।  
জাহেদ বার বার বুজানোর চেষ্টা করলেও বর্ষা বুজতে  পারলো না ছেলেটা কি চায়।  কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেটার পরীক্ষার রেসাল্ট ও খারাপ হল।  কিন্তু এসব জানতো না বর্ষা।  এক বছর পিছিয়ে গেল ছেলেটা।  কিন্তু ও হাল ছেড়ে দিল না।  ওর বন্ধু রবিনকে দিয়ে ও ফোন দিল বর্ষা কে কিন্তু বর্ষা এখন আর কারো কথা শুনে না।  
ততদিনে জাহেদ বেশ স্মার্ট ছেলেটা পরিনিত হল।  কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ভাব বর্ষার অপছন্দ।  ২ বছর চলে গেল এমন করে।  কি কথা আর বলবে বর্ষা জাহেদ কে তা আর বর্ষার জানা ছিল না।  বর্ষা  ওর ইনিয়ে বিনিয়ে কথা শুনতে শুনতে হাপিয়ে গেল।  যে ছেলে মুখ ফুটে বলতে পারে না এই লাভ ইউ।  ওরে আর কি বলা যায়।  
যখন সময় খারাপ যায় বার বার ফোন দিয়ে কথা বলতে চায় , বাগানে গেলে , কবরের পাশে এক চলে গিয়ে কিংবা লম্বা রাস্তা একা চলতে গিয়ে শুদু বর্ষার কথা মনে পরে , কিন্তু সঠিক   বলতে পারে না সে   কিছুই করতে পারবে না। 
বর্ষা ধরেই নিয়েছিল এই ছেলে এমনটাই করতে থাকবে।  এরই মধ্যে বর্ষা বেশ কয়েকবার নাম্বার চেঞ্জ করেছে , কিন্তু জাহেদ বর্ষার সাথে আর কথা ও বলতে পারলো না।  বর্ষা ঢাকা যাওয়া আসা শুরু করে দিল যে জাহেদ আর বর্ষার দেখা ও পাচ্ছিল না।  বর্ষা ও জাহেদের খোঁজ নীল না।  
বহু দিন পর , কোন এক দুপুরে ছেলেটা কলেজের গেটে বসে আছে , দেখে মনে হচ্ছে কত জড় তুফান চলে গেল ছেলেটার উপর।  কিন্তু বর্ষা দেখে ও না দেখার ভানকরলো।  জাহেদ ডেকেই যাচ্ছে , কিন্তু বর্ষা তাকালো না।  সামনে সামনি হওয়ার পর জাহেদের জিজ্ঞাসা , তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ? নাহ, তোমাকে ভুলে যায় ? তুমি তো পেইন ! 
শেষ দেখা ওদের। অদেখা  রইলো ওদের।  আর কখন ও দেখা হয় নি কথা ও হয় নি।  মাঝে মাঝে হ্যালো বলে মেসেঞ্জার এ।  বর্ষা দেখে আর হাসে।  কি যে ভালো লাগা ছিল সে বর্ষার সন্ধ্যায় ! জাহেদ শুধু বুজলো বলতে পারলো না 

No comments:

Post a Comment

Thanks a lot
Regards,
morsalina

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...