Wednesday, 15 April 2020

DR. MOIN

এ এমনই মৃত্যু। ভালোবাসার মানুষকে শেষবারের ছোঁয়ায় মানা। দেখতে হবে দূর থেকে। যার হাতে কতো মানুষের শেষ বিদায়, সেই ডা. মইনের বিদায়ে জন সমাগম হয়তো নেই..! কিন্তু গৌরব তাতে কম কি সে...!!

আজ সারাদিন বৃষ্টি হওয়ার কথা।  গুড়গুড় শব্দে আমার বাড়ি মনে হচ্ছে কালবৈশাখী উড়িয়ে নিবে।  খবর তা যখন পেলাম তখন মনে হল ডাঃ মঈনকে আমি চিনি।  একজন মানবিক ডাক্তার হওয়া কি যায়! যায়!যায়! কোন কোন সময় অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার ভিড়ে সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার কে আমার ভাল লাগে।  অগোছালো শার্ট পেন্টের ভিতরের মানবিক মানুষ ওরা।  

আমার ডান হাতে একবার একটা আস্ত বিশাল টিউমার হল।  যেটা ভেঙে রক্ত পড়ত যখন তখন।  খুব বিশ্রী একটা ব্যাপার ছিল।  পরীক্ষা দিব কি দিব না এই নিয়ে ২ মনে ছিলাম। যদি লিখতে বসি আর ওটা ফেটে গিয়ে রক্ত পড়ে।  এক রাত্রে আমার এক বন্ধু বাসায় এল একটা কাজ দেখে নিতে।  আমি ওরে দেখাচ্চি পদ্ধতি টা।  ও রাতে প্রচুর বৃষ্টি।  ও বসেই আছে।  নাস্তা খেয়ে পদ্ধতি দেখছে।  হটাৎ হল সেই বিপদ।  ওটা ফেটে রক্ত।  জামা টেবিল ওড়না আর ফ্লোর। . রক্ত পড়ছেই।  তা আর থামানোর উপায় নাই।  এমন বৃষ্টি রিকশা নাই।  মা তো অনেক গালাগাল করছে , কোথায় যাবে এই মেয়েকে নিয়ে।  আমার মা , অনেক আদর দিয়ে বড় করেছেন আমাদের।  উনি  তো প্রায় খেল হারিয়ে ফেলেন।  
 আমার বন্ধু দ্রুত আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।  ছাতা এক হাতে আর আরেক হাত কোনো রকম কোন একটা কাপড় পেঁচিয়ে রওনা হলাম ওসমানী হাসপাতালে।  কোথায় যাব , কোন দিকে যাব এত বৃষ্টি মানুষ জন কে কার দিকে তাকাচ্ছে  তার কোন ঠিক নাই।  যে বললাম াক জনকে আমরা উনিভার্সিটি স্টুডেন্ট।  কথা  শেষ না হতেই একজন ইন্টার্ন বলল  চল , মেডিসিন বিভাগে যাই।  ডাক্তার আলমগীর আছেন।  আমি ভাবলাম খুব বিজ্ঞ , রাগি অথবা  হুতুম পেঁচার মতন কেউ হবে।  
আমার হাত দেখে বলল এত ভয়াবহ অবস্থা  . এখন এটাকে ফেলে দিতে হবে।  তা না হলে স্প্রেড করবে।  সাথে সাথে আরো কয়জন ইন্টার্নকে বললেন , শুয়ে দাও।  আর প্লেটটা রেডি করে দাও।  ডাক্তার আলমগীর পুরাতন হিস্রটি নিলেন।  
বললেন এই দামি অসুখ কথা থেকে নিলে ? আমি বললাম জানিনা।  তবে কয়দিন আগে লোহার একটা স্কেল দিয়ে স্টুডেন্টকে আঘাত করতে গিয়ে ওটা আমার হাতে ব্যথা পেলাম।  ডাক্তার আলমগীর হাস্তে হাস্তে পুরো ওয়ার্ডকে নিজের বাড়ি আবহ করে দিলেন।  
ওই রাতে - তখনি আমার হাতের টিউমারটা সরানো হল কোন এনেস্থেসিয়া ছাড়া।  চুরি তা দিয়ে মাংস তা যখন কাটা হল আমার মনে হল আকাশ ফেটে আমার মাথায় পড়ছে।  আমি না পারছি চিৎকার দিতে না পারছি নড়তে।  ডাক্তার আলমগীর গান গাইছেন আর ওটাকে পুড়াচ্ছেন। আমি আজ ও ওই সুখ স্মৃতি খুঁজে বেড়াই। 
তখন ই বুজলাম একজন মানবিক ডাক্তার আমাদের কত দরকার।  
আমার ডাক্তার ভাই বোন আজ যুদ্ধ করছে ওদের পাশে কেউ নেই।  ডাক্তার মঈন যেন বুকের ভিতর আঁচড় দিয়ে গেল।  পিপিপি ছাড়া এত সাহস কি করে পায়! রোগীর জন্যে জীবন দিলেন।  তোমার জন্যে শ্রদ্ধা।  সালাম হে ভীর। 

No comments:

Post a Comment

Thanks a lot
Regards,
morsalina

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...