Tuesday, 30 June 2020

বেকার জীবন।

বেকার জীবন।

বেকার মানে এমন যে আমার কাজ নাই তা না , আমার প্রচুর কাজ, কিন্তু , ইন রিটার্ন কোনভার্টেবল কারেন্সি নাই।  ইটা একটা মানুষিক অশান্তির জন্যে যথেষ্ট।  ছাত্র জীবনে ও মাসে ৫০০০ টাকা প্রতিমাসে হাতে থাকতো।  কারণ আমি ছাত্র পড়াতাম।  পড়াশুনা শেষে চাকরি ছিল।  নিজের প্রয়োজনের বাহিরে ও প্রচুর টাকা থাকতো।  মাথায় ঘুরতো নতুন নতুন কোন জায়গায় যাব , কোথায় খাব , কোন ধরণের কালেকশন রাখবো , কাকে কি উপহার দিব।  হাসবেন্ড কে কখন ও টাকা দিতে হত না , বরং শশুরের চিকিৎসার জন্যে টাকা চেয়েছে দিয়ে দিয়েছি। 
বেকার জীবনে প্রচুর চিন্তা।  সামনের দিন গুলা আমি কি করবো ? অনেক প্লেন আছে যেটা পূর্ন করতেই হবে , স্বাধীন মন মানুষিকতার মানুষ গুলা কারো কাছে নির্বরশীল না হয়ে ভালো।  এতে নিজস্বতা হারায়।  যাই হোক বেব্সা করবো ভাবছি।  কিন্তু সারাদিন ভাবী কি দিয়ে শুরু করবো ? ছেলেমেয়েদের সময় দিয়ে কি করা যায়।  কিছু সময় ভাবনা গুলা সাজিয়ে শিগগির কিছুকরবো এই ভাবনা আমার। 

 বেকার জীবনে হতাশা নয় , নতুন করে শুরু করার প্রত্যয়।  

বর্ষায় গাছ।

বর্ষায় গাছ।

গত ২ বছর ধরে একটা জিনিস শিখলাম।  যা আমার তার উত্তম ব্যবহার করতে হয়।  আমার একটা ছোট জমি যেটা পড়ে থাকতো।  গত বছর এটাকে ঘিরে দিলাম।  তার পর ভাবতে লাগলাম আসলে আমি কি করবো।  আমার ছোট ছোট বাচ্চা।  ওদের নিয়ে এই জমিতে কিছু করা যাবে না।  কিন্তু আমি প্রতি দুপুরে ওদের ঘুম দিয়ে জমিতে যেতাম।  একটু একটু করে পরিষ্কার করে সুন্দর করলাম।  পাশ থেকে কিছু কচু গাছ দিলাম এক কোনে।  আর ম্যাচ দিলাম আর এক দিকে।  মাজ খান টুকু  ফাঁকা ছিল।  তারপর বুধবারের হাট থেকে এনে লাগলাম লাউ গাছ।  বর্ষা শেষ হতে না হতে লাগিয়ে দিলাম।  প্রায় এক মাস অপেক্ষা করলাম।  তারপর পুরো ৩ কাঠা জমি লাউয়ের ডগা তে ভোরে গেল।  কত শত ফুল ফুটে থাকতো।  মনে হট আমি একটা ফড়িং অথবা প্রজাপ্রতি।  আমি বাচ্চাদের নিয়ে ওখানে বসে থাকতাম।  ওদের ছেড়ে দিতাম মাটি নিয়ে খেলতে।  যেহেতু আমি সব সময় পড়াশুনা চাকরি বাচ্চা মানুষ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম আমার ভাল বন্ধু ছিলোনা।  আমার কথা বলার মোট মানুষ কম ছিল।  আমি দেখলাম বাগান করতে গিয়ে আসে পাশে সবাই আমাকে হেল্প করতে শুরু করেছে।  ওদের কথা শুনতাম আমার কথা ও ওদের বলতাম। আমার বাচ্ছারা ওদের সাথে মিশে ওদের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।  আমার যে কোন সমস্যায় আমি ওদের পাশ পাই.. ওরা আমাকে পেলে যেমন আনন্দ পে আমি ও তাই। 
কিছু দিন পর আমার বাগানে প্রচুর লাউ ধরলো।  আমরা প্রথম যে লাগ্ গুলা আসছিলো সেগুলো স্থানীয় মসজিদে দিয়ে দেই।  আমার প্রতিবেশীরা তা কিনে টাকা দিয়ে দেই মসজিদে।  আর যারা আবদার করেছে তাদের লাউ দেই।  আমার আত্মীয় দের বাসায় লাউ গুলা দেই।  সাথে হলো প্রচুর শশা।  কম করে হলে ও ২০ কেজি আমরা শুদু প্রতিবেশীদের দেই।  এমনকি রাজশাহীতে পাঠাই।  ওখানে সবাই তো অবাক।  এই মেয়ে বাগান করে তা আবার  রাজশাহীতে পাঠাচ্ছে। 
আমার বাবা -মা চাচা চাচী যে যেখানে ছিল পাঠিয়েছি।  আমরা প্রতি সপ্তাহে ২ বার করে খেয়েছি। 
সবার নতুন করে জন্য আমি বাগান করতে পারি।  নিচে দিয়েছিলাম কুমড়া আর লাল শাক আর তার সাথে পাই শাক।  কিছুই আমাকে কিনতে হয় নি।  কিছুটা পরিশ্রম করে আমি অনেক আনন্দ পাই।
এবার দিয়েছি চালকুমড়া , করলা, শশা , কুমড়া, ধুন্দুল , পেঁপে , কলা , পুঁই ,শিম, আর কঁচু।  এখনি প্রায় ৫ টি চালকুমড়া বিলিয়ে দিয়েছি।  আমরা খেয়েছি।  আবার যারা আবদার করছে বলে দিয়েছি , কয়েকদিন পর দিব।  করলা যখন নিজের গাছের।  তিতা তখন মনে হয় না।  আর কচুর লোটি গুলা যখন প্রায় ২ হাত হয় তখন মনে হয় োর আমাকে আনন্দ দেয়ার জন্যে এত লম্বা হয়।  পেঁপে গাছে প্রচুর ফুল আসছে।  কোলা গাছ আসমান ছুঁয়ে আছে।  নিশ্চই এইবার নিজের গাছের কোলা খাব। 
আনন্দ লাগে তখন যখন আসে পাশের সবাই এক সাথে গাছের যত্ন নেই. আর বিভিন্ন জিনিস নিয়ে হাসি তামাশা করি। 
সবার বুদ্দি শুনি আর হাঁসি।  আমাদের এক ভাই আজ বলছে , ভাবী মিষ্টি একটু কুমড়া গাছের তলায় দিন দেখবেন কুমড়া গুলা কত মিষ্টি হবে।  আমি হাস্তে হাস্তে শেষ।  গত বছর ওদের সব কথা শুনে আমি সেই ভাবে গাছ লাগিয়েছি।  এইবার আমাকে বোকা ভাবছে।  তবে গত বার যে কুমড়া হয়েছে। তা বাড়িতে মাকে পাঠানোর  পর মা বলেছে এত কুমড়া খেয়েছি মা কিন্তু তোমার গাছের মোট এত মিষ্টি কুমড়া আর হয় না।  এত আনন্দ আমি কি করে পেতাম যদি কুড়ে হয়ে বসে থাকতাম।  মাঝেমাঝে ঘুম হয়না।  খেতের কোন কোনায় কি লাগাবো , কি করলে আরো সুন্দর হবে এই ভেবে। 
বর্ষায় একটু গাছ লাগিয়ে দেখেন কেমন লাগে।  ও আপনাকে শুধু ভালোবাসাই দিবে।  সাথে তো বোনাস আরো কত কি আছে !

Monday, 29 June 2020

আই লাভ ইউ বলতে শিখুন।

আই লাভ ইউ বলতে শিখুন।

আমার ২ বছরের ছেলেটা প্রথম বলতে শিখলো আল্লাহ আর লাইলাহা ইল্লাহ।  সারাদিন এই ২তা কোথাই ও জানতো।  কয়েক দিন পর দেখলাম।  ও আরো এই রিলেটেড বাক্য শিখতে চায়।  আমি ওরে সকালে আদর দেই , কলিজা , যান পাখি , আদরি বুড়া , মওলা , টিয়া পাখি কত কি নাম ডাকি।  ওকে প্রতিদিন বুজতে চাই আমি ওরে কত ভালোবাসি ! তারপর শিখালাম , আই লাভ ইউ।  তারপর থেকে ও বলে আই লাভ ইউ টু।  দাদি নানী নানা জেক সে অনলাইন এ পায় তাকেই বলবে , আই লাভ ইউ।  ওর মামার সাথে ভীষণ খাতির।  মামাকে না দেখলে ওর ননু কে দেখাবে মামাকে।  মামাকে আদর পাঠাবে। একটু পর পর এসে দেখে যাবে মা কার সাথে কথা বলছে ? যদি সেটা তারপরিচিত কেউ হয় তাহলে তো হলো আই লাভ ইউ বলবেই।  বাবাকে আদর করবে , ওরে অনেক ভালোবাসা দিতে হয়।  একটু রাগ দেখলে আর ওখানে থাকবেই না।  কাছে ও আসবে না।  যেই বলবো , আই লাভ ইউ।  অমনি একদম বিড়ালের মত আদর করবে। 
মেয়েটা কে দিয়ে কোন কাজ করানোর আগে পরে তো উনাকে বলতেই হবে , এই নাবা , শুনে যা , আই লাভইউ , হুম বলো ,কেন ডেকেছ ? পানি খাব , wait করো , থ্যাংকু , আই লাভ ইউ , হুম , মি টু। 

তরী কে আমি চিনি ভার্সিটি থেকে , কথা অত হয় নি।  কিন্তু আমরা একজন আর কাজনকে চিনতাম।  খুব স্মার্ট আর চঞ্চল ছিল।  ছিল বলছি কারণ ২ দিন আগে ও না ফেরার দেশে চলে গেছে।  ১০ বছরের বিবাহিত জীবন।  রাকা একটা ৬ বছরের ছেলে আর ১০ দিনের একটা মেয়ে রেখে চলে গেল।  সব সময় আনন্দে থাকতো।  ফেবু তে প্রচুর ছবি , হরেক রকমের ছবি , ওর অনেক ছেলে বন্ধু থাকতে আমি একটু এরাই চলতাম।  কিন্তু জানি যে ও খুব আন্তরিক ছিল সব কিছুতে।  নতুন নতুন শাড়ি আর গয়না ওর খুব পছন্দের ছিল।  ভালবেসে বিয়ে ২ জন্যে মেড ফর each othar . বৈশাখে কত ঘুরার ছবি দেখেছি।  আমি হতবম্ব এই করোনা আমার  কাছের কেউ কে এই ভাবে হারাবো।  ওর সাথে প্রতিটা মানুষ আমার মতোই হতবম্ব হয়ে গেলাম।  এত ওরে চিনি কিন্তু কখন ও বলা হয় নি , তোকে আমার সত্যি অনেক ভাল লাগে।  বাচ্চা হওয়ার পর নিউমোনিয়া হলো কিন্তু লাইফ সাফোর্ট দিয়ে এমনকি ভেন্টিলেটর দিয়ে ও মেয়েটাকে ফিরানো গেল না।  ভাবছি ১০ দিনের পরীর মত বাচ্চাটা জানলো না ওর মা কত ভালো মানুষ ছিল।  

ফটো সাংবাদিক রেহানা আক্তার। খুব সাদা সিধে মেয়েটা।  কাজল পড়তো।  ঐটুকুই সাঝে।  হাতে একটা নিকন ছিল।  হেসে হেসে কথা বলতো।  কোথায় কোথায় বলতো তোকে দিব দরে ২ টা। ও অফিসের নিচে টঙের দোকানে সিগারেট খেত।  আর বলতো খ খেল মজা পাবি।  ওর ঢং ঢং কথা গুলা আজ শুদু মনে পড়ছে। একটা ৩ বছরের মেয়ে আছে।  একটা স্কুটি করে অফিস শেষে বাজার নিয়ে ফিরতো।  ছবি তা যেন বুকের মধ্যে ঘেঁথে আছে।  কোলন কেন্সার হলো।  কোনো দিন বলে ও নি।  এক বার অফিসের পার্টি তে ছবি তুলে দিয়ে বললো কাচ্চি খোয়া তাইলে দিব না হলে দিব না।  আমি বললাম আমার লাগবে না তোকে খাওয়াবো না।  ইমেইল করে আগেই ছবি পাঠিয়ে দিয়েছিল।  অত ঢুকে হয় না তাই পরে জানতে পেরেছিলাম।  কাল রাতে ও ও না ফেরার দেশে চলে গেল।  কিছুই কখন ও বলতে পারিনি।  যদি বলতে পারতাম তোমার কাজল মাখানো চোখ গুলা খুব মায়াবী।  এমন করে কি চলে যেতে হয় !

বিকেলের মর্মর ধ্বনি !

বিকেলের মর্মর ধ্বনি !

শেষ কবে এই বিকালটা আমার জীবনে এসেছে তা মনে নেই।  গত ১০ বছর তো আসে নি এটা বলতে পারি অথবা তার ও আগে ১০ বছর এ আসছে কিনা জানা নাই।  বিকালটা এমন যে আপনি দৌড় দিয়ে চলে যেতে মন চাইবে মাঠের পরে যে রাস্তা আছে সেটা পার করে বাজারের মুখে গিয়ে মিষ্টির দোকানে হা করে দাঁড়িয়ে থাকতে।  ঠিক খেতে নয় এত সুন্দর করে মিষ্টির গন্ধ আর সাজানো তা দেখতে। অথবা রাস্তা পেরিয়ে আরো একটা ম্যাথ তার পর একলা দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা দেখে আস্তে।  ওখানে যে একটা গরু ছিল  হলদে রঙের সেটার সাথে আপনার ভাব করতে মন চাইবে।  অথবা , মেঘের কল ঘেঁষে যে ২- ৪ তা রং নিয়ে রংধনু উঠে  সেই রং ধনুর সাথে খেলা করতে।  বাল্য বন্ধু কে নিয়ে পাশের বাড়িতে রাজঁহাস দেখতে যেতে।  বিকালের লাল রঙের লাল তা খুব ডাকবে কথা বলতে চাইবে।  আপনি হাসবেন কিন্তু ও অবলোক করে তাকিয়ে থাকবে।  বিকালটা এমন যে , বাস বাগানের ভিতর একটা হু হু বাতাস কানের কাছে ধেয়ে আসবে।  আপনি যত বলেন আর তুই ডাকিস না ও আরো  জোরে ডাকবে।  আপনি হাঁটছেন বাঁশ বাগানের ভিতর মনে হবে পিছন থেকে কে যেন পিছু নিয়েছে। ফিরে তাকাতেই আর নাই।   শুকনো পাতা গুলো হাওয়ায় ভেসে ভেসে গায়ে পড়বে।  হাতে নিয়ে বাঁশি বানাতে মন চাইবে।  এমন একটা বিকাল কোথায় হারিয়ে গেল ?

রাফিনের সুখী সুখী ভাব !

রাফিনের সুখী সুখী ভাব !

রাফিন বড়হয়েছে শ্রীমঙ্গলের চায়ের দেশে।  ছোট খাট মেয়েটি খুব বেশি মানুষের সাথে মিশে না।  ক্লাস শেষ করেই হোস্টেলে চলে যেত।  বৃহস্পতি বার আসলেই রাফিন ক্লাস করতে চাইতো না।  চলে যেত নদীর ধারে। 
রাফিনের সাথে অনেক বিষয় নিয়ে আমার সাথে কথা হয়।  মোটামুটি ও খুব মুখস্ত বিদ্যা ভালো ছিল।  মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে বড় বড় অংক ও লিখে আসতো।  ওকে যখন বলতাম কি করে করছিস ? ও বলতো মুখস্ত করে লিখছি।  আমার বড় জানতে ইচ্ছে হত ও কি করে মুখস্ত করে।  একবার ওর হোস্টেলে গিয়ে  টেবিলের চারপাশে লেকচারের সিট গুলা পড়ে আছে।  পাশের একজনকে বললাম কি বেপার ! এগুলা এমন করা কেন ? োর বলতো, রাফিন কানে ফোন লাগিয়ে সারাদিন রাট এগুলা মুখস্ত করে।  আমি আর ভয়ে ওর হোস্টেলে যেতাম না।  মেয়েটা ভয়ানক রোগি।  এমন করে কেউ পড়ে !
 নানাবিদ সমস্যা পড়লে রাফিন ছুতে আসতো , একটু হেল্প কর।  সব সময় আমার খাতা গুলা ও কপি করতে নিত।  কপি শেষে পরের দিন দিয়ে দিত..
রাফিন একবার খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো।  হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তার বললো , রক্ত কম , রক্ত দিতে হবে।  রক্ত দেওয়া হল।  ওরে দেখতে গেলাম হাসপাতালে।  গিয়ে দেখি একটা ছেলে টেবিলে ঘুমাচ্ছে আর ও ঘুমাচ্ছে বিছানায়।  জিজ্ঞাসা করলাম ও কে ? বললো , আমার এলাকার ছেলে , এমসি তে পড়ে।  আমার কেউ নাই দেখার তাই আসছে।  আমাদের দেখে ছেলেটা হড়বড় করে জেগে উঠলো।  উঠে বাহিরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।  যেন কোন চোর আমরা দেখে ফেলছি। 

রাফিন বরাবরই ভাল রেসাল্ট করে।  কিন্তু ছুটি হলে ও বাড়ি যেত না হোস্টেলে পড়েথাকতো।  ঈদের সময় ও যখন সব বন্ধ তখন ও কারো সাথে বাসায় গিয়ে উঠতো।  কারো জানা ছিল না কেন ও এমন করে। 
অনেক দিন পর জানলাম সেই দিন যে ছেলেটা কে ডেকেছিলাম ও আর রাফিন লুকিয়ে বিয়ে করছে।  যেটা ২ পরিবার কেউ জানতো না।  তাই রাফিন ও ছেলেটাকে রেখেছে কোথাও যেত না।  রাফিন এখন ভাল চাকরি করে অনেক সুন্দর পরিবার আর ছেলেটা এখন শিক্ষা অফিসার।  

অসৎ বেক্তির ছেলেরা সব সময় অসৎ হয়।

অসৎ বেক্তির ছেলেরা সব সময় অসৎ হয়। 

মুজুমদার সাহেব খুব দাপুটে বেক্তি।  তিনি সরকারি বড় কর্মকর্তা।  উনার কথায় সব কিছু চলে।  বলতে গেলে বাঘে মহিষে এক ঘাটে পানি খায়।  উনার একটা ঋণ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান ও আছে।  উনি দরিদ্রদের ঋণ দেন। সময় মত টাকা না দিতে পারলে উনাদের জমি বৌ কিংবা মেয়ে মজুমদারের হয়ে যায়।  ইটা যেন ওপেন সিক্রেট।  তও উনি বড় ভালো লোক।  এই তল্লাটে উনার চেয়ে ভাল যোগ্য লোক আর হয় না।  পয়দা করতে করতে উনার ৬ ছেলে।
বড় ছেলে মকবুল , বিয়ে করে বিলিতে গেছে।  সেখানে নিয়ে গেছে গ্রামের দরিদ্র এক মেয়েকে বাসার কাজের লোক হিসেবে।  মকবুলের ঘরে সন্তানরা মকবুলকে ঘৃণা করে।  কেন করে তা কারো জানা নেই।  বাবার পাশে বসে োর খেতে ও বসে না।  অনেক অনেক দিন পর সেই গ্রামের মেয়েটি ফিরত আসে।  বলে ওখানে সবাই খুব নিষ্ঠুর।  সারাদিন খাটায়।
 মেঝ ছেলে গিয়াসুদ্দিন , কাজকরে মুদি দোকান দেয়।  বড় সড়ো সে দোকান।  অনেক ইনকাম কিন্তু সুখ নাই মনে।  গিয়াসউদ্দিনের ২ ছেলে নিয়ে বড় বিপদ।  কোন ছেলে কাজ করতে চায় না।  বাইর করা বাড়িটা বিক্রি করতেচায়।  গিয়াস পাড়ার সকল নারীদের গায়ে হাত দিয়ে কথা বলে।  সবাই ওরে ভয় পে তাই কথা বলে না।  যদি কিছু বলে ও ওর বাড়িতে চুরি চামারি হবেই।
মজুমদারের ৩ নাম্বার ছেলে , লিটন।  পাড়ার বড় ভাই।  এমন কোন কাজ নাই যে তিনি পারেন নাই।  ছিনতাই , পুকুরে বিষ দেওয়া অথবা হাসপাতালের ঔষুধ বিক্রি করা।  সব কিছু লিটনের বা হাতের কাজ।  জীবনে পাওয়া বলে কিছু নাই।  শুদু খেয়ে রাস্তায় পরে থাকা ছাড়া।  কুকুর বিড়ালের পাশে শুয়ে দিন যায় ওর।
৪ নাম্বার ছেলে অনেক দূরদর্শী ছেলে।  দেখতে শুনতে অতি মায়াময়।  চুল সবসময় ষাট করে বাঁধে। বেপারী বলে সবাই তারে চিনে।  জমি কেনা বেচা করে।  কোথাও যদি খোঁজ পে খাস জমি তা দখল করার জন্যে একটা গুন্ডা বাহিনী রেখেছে।  খুব নাম ধাম কামিয়েছে কেস মামলা খেয়ে।  ভাব কিন্তু জমিদারের মতোই।  টাকাকে টাকা মনে করেন না।  যা মন চায় তাই করেন।  কারো দুর্দিন গেলেও উনার সুদিন ১২ ম্যাশ জুড়ে।  পুলিশকে টাকা দিয়ে উনি চলেন।
৫ নাম্বার সন্তান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার।  ভাবে বুজা যায় একদম পাক্কা ইঞ্জিনিয়ার।  কিন্তু একটা চোর।  যেখানে চাকরি করে ওখান ই  দল করে।   দল করে সুপারিশ কামাচ্ছে।  সব সময় চিন্তায় থাকে কাকে সে বিপদে ফেলে ফায়দা লুটবে।  কারো বৌ হোক মেয়ে হোক তাদের সাথে ভাব করে ব্লেকমেইল করবে।  সব সময় চিন্তা কি করে অন্যের ক্ষতি করবে।
৫ খান রত্ন মজুমদার পয়দা করলো।  কিন্তু কাউকে ভাল শিক্ষা দিয়ে যেতে পারেন নি।  শিখিয়েছেন কি করে অন্দকার জগতের রাজা হতে পারেন।  

Honor to a soul



কখনো লাশ গোসল করিয়েছেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা সুখকর কিছু না। আমরা সাধারণ মৃতদের সম্মানিত করার একটা চেষ্টা করি। মৃত মানুষদের স্মৃতিকে পবিত্র একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা আমরা করি।  মৃত মানুষকে গোসল করানো কত টা স্বাভাবিক কাজ তা আমার জানা ছিল না।  কাছ থেকে যত মৃত্যু দেখেছি তার মধ্যে অনেকের কথা মনে পড়ে।  আমার বাড়ির পাশে এক মধ্যে বয়সী তিনি মারা গেলেন , আমরা ছোট হওয়াতে আসে পাশে গুড় ঘুরে করতাম আর আমাদের এক দিক থেকে সরিয়ে দিলে আমরা অন্য দিকে হানা দিতাম।  তখ দেখলাম ৪ জন পুরুষ এক জন পুরুষকে  কি অগোছালো নিথর দেহ তাকে পানি দিয়ে দুচ্চে। আবার তাদের পাশে মারা গেল চাচা বাতিঝি।  এক জন কারেন্ট এ আর একজন আত্তহত্তা করে কিন্তু গোসল করানো সেইবার দেখলাম না।  আমাদের বাড়িতে আনুর মা বলে একজন আছেন তিনি ধাঁই আবার মৃত নারীদের গোসল দেন।  একবার আমাদের পিছনের বাড়িতে একজন মুরব্বি মারা গেলেন , তখন তিনি কোস্কো সাবানকে এক বোল পানিতে নিয়ে একদম ফেনা বানিয়ে ফেললেন গোসল দেয়াবেন বলে।  আমরা ছোট তাই এগুলা দেখতে পেতাম।  কিন্তু ছুঁয়ে দেখা কিংবা কি করে এগুলা হয় তা জানা ছিল না।  আর একটু বড় হবার পর কেউ মারা গেলে সেখানে কুরআন পড়তে হয় তা জানা ছিল।  আমি কুরআন পড়তে পারতাম।  আমার চাচির বাবা মারা গেলেন।  আমি ওখানে বসে বসে কুরআন পড়ছিলাম।  সবাই জানতে চাচ্ছিল মেয়েটি কে ? 


আমার মায়ের অনেক দায়িত্ত্ব ছিল যখন আমরা ভাই বোনেরা এক সাথে পড়তাম।  সেইসব মনে হয় সব মায়েদের করতে হয়।  মা যখন একা থাকতে শুরু করলেন , মা কি করবে বুঝে উঠতে পারেন নি।  েকে তো উনি ছিলেন সল্প জানা মানুষ।  কিন্তু ধর্ম  জানা মানুষ।  কুরআন তার অন্তরে।  মায়ের গুন্ গুন্ কুরআনের আয়াত গুলা আমাদের অন্তরে অজান্তে গেথে বসে আছে।  এরই মধ্যে মা আসে পাশে সবাইকে নিয়ে বসে ধর্ম চর্চা করতেন।  আমি শশুর বাড়ি থেকে ঘুরে এসে জানতে পারি মা লাশ গোসল করিয়েছেন।  আমি তো  ধরলাম কেন তুমি ভয় পাওনা ? কেন তুমি নিজের বিপদ টেনে আনছো ? মা বললেন , যিনি জীবিত ছিলেন তিনি অনেক কর্ম করে গেছেন আমরাজারা জীবিত তাদের দায়িত্ব তাকে সম্মান দিয়ে বিদায় জানানো।  তিনি আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন ভয় পাব কেন আজ তোমার মা মারা গেলে তোমাদের দায়িত্ব আমাকে গোসল করানো , আমি মারা গেলে তুমি কি ভয় পাবে ? আমাকে গোসল করবে না ?  যাদের আমি গোসল দিলাম তারা কত দুআ দিছ্চেন আমাকে।  নিষ্পাপ শিশুর মত যেন তারা ফিরে যায় তার জন্যে আমার গোসল করানো।  মা আজ অব্দি যেখানে খবর পান , ছুতে যান অনুর মা ও যায় গিয়ে গোসল দেন মৃত্ কে।  বাবা কিছুই বলেন না।  শুদু দেখি মা ২-৪ দিন কারো সাথে কথা বলেন না।  আরো ও গভীর ভাবে ধর্ম চর্চা করেন।  এতে তার শান্তি। 

নবজর্ন্ম

নবজর্ন্ম 
যে দেশে মানুষের আক্রোশ খুব বেশি সে দেশে ভাল কোন কিছুই বেশি দিন ভালো থাকেনা , তাকে ভাল থাকতে দেওয়া হত না বা এখন ও দেওয়া হয় না।  একটা ছেলে অফিসে গিয়ে কাজ করছে ১২  ঘন্টা অব্দি অথচ পাশে কেউ কাজ না করে সিগারেট ফুঁকাচ্ছে , মেয়ে কলিগদের সাথে ফ্লাটারিং করছে , কিংবা বসের সাথে খোশগল্প করে দিন পার করছে।  দিন শেষে চাটুকারিতার মেলা পদ পাচ্ছে আর যারা ভাবছে কাজ করে উন্নীত দিকে যাব তাদের কপালে শুদু খালি পাতিল।  
বিশ্বাস জিনিসটা আপনি কেমন করে অর্জন করবেন তাই দেশের মানুষ জন ভালো করে জানে।  খুব খাতির লাগিয়ে বাঁশ দিয়ে দিল তারপর ও বলবে আমি তোমার আপনার আপন।  অথচ আপনার জীবনের ১৩ খান টুকরা করে দেওয়া হয়ে গেছে। 
নিজের পাছায় কি আছে তা না দেখে অন্যের পাছায় গু না থাকলেও তা রাজ্য সমেত সবাইকে জানানো এদেশের রীতি।  খুব ভালো বন্ধু যে কিনা ১৪ তা বছর আপনার সাথে এক সাথে ছিল।  সত  হাসি কান্না এক সাথে কাটিয়েছেন আপনার চেয়ে ভালো দেখতে শুনতে অথবা অর্থের দিক দিয়ে আগিয়ে থাকলে আপনাকে ভুলে যাবে নির্ধিদায়।  এমনকি আপনার শত্রু কে গলায় নিয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড ফরএভার বলবে। 
নীতি কথা বলতে বলতে উগলায় ফেলা লোকটা আপনাকে দুর্বল ভাবে পেলে আপনার কঠিন তম বিপদটি ঘটিয়ে দিবে। আপনি তখন আর তাঁকে কোন নীতিতে ফেলবেন তা আপনি নিজেই ভুলে যাবেন। 
বিশ্বাস করে জীবনে যদি মনের কথা প্রাণ খুলে বলেছেন তো আপনি হেরে গেছেন।  সে আপনাকে তা নিয়েবছরে প্রতি মাসে অথবা ১৪ দিন অন্তর অন্তর আপনাকে তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আপনাকে খোঁচাবে। 

আয়নার সামনে দাঁত ব্রাশ করতে করতে যদি পুরোনো কোন ক্ষতের কথা মনে হয় কী মনে হয় আপনার ? আমারতো দাঁতের রক্ত বের না হওয়া পর্যন্ত রাগ ঝেড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে হয় না।  নিয়মিত ওই সব ঘটনা আপনার মনের মধ্যে উঁকি দিলে আমার মত দাঁত ব্রাশ করবেন।  দেখবেন রক্ত না পড়া পর্যন্ত আপনার মনের মাঝে রগে দুঃখ্যে ক্ষোভে নিজের উপর রাগ  ধরবে। ২৭ বছর যদি একই দুঃখ লালন করেন তবে তা লালন ই করেন।  ও আপনাকে নতুন করে বাঁচতে শিখাবে।  
Eisoptrophobia- আয়নাকে ভয়। এই ফোবিয়াগ্রস্থ মানুষ আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বকে ভয় করে। আরও স্পষ্ট করে বললে, তারা মনে করে আয়নার পেছনে আছে কোন ভৌতিক পৃথিবী। যদিও তারা জানে এই ভয় অযৌক্তিক, তবু তারা সব সময় উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে। তারা আরও মনে করে, আয়না ভেঙ্গে ফেলা মন্দ ভাগ্যের পরিচয়। 
নবজর্ন্মে আমি বিশ্বাস করি না।  কিন্তু , বিশ্বাস এই যে , সকল কু থাকার পর ও আপনি মাথা উঁচু করে বেঁচে আছেন আর সবাই তাদের মন্দ কপাল বলে হাত কপালে তুলছে।  আপনি তখন বুজবেন এই ভঙ্গুর দেশে আপনি কত সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন।  জীবনতো পরীক্ষা ঘর।  সকালে বিকালে পরীক্ষা চলছেই।  তারপর ও জীবনে সফলহবেন যদি স্থান কাল পাত্র এই গুলা আরো ও পরীক্ষিত ভাবে কাজে লাগান।  মন্দ লোকের কপালে ঝাঁটা পড়ুক।  

Sunday, 28 June 2020

মায়ের চাঁদর।

মায়ের চাঁদর।

কোন এক শীতে দিয়ারা তাদের নানী বাড়িতে বেড়াতে গেল।  অনেক বছর ওদের নানা বাড়ি যাওয়া হয় না।  বছর শেষে দাদি বাড়ি যায় কিন্তু নানী বাড়ি নয়।  যেন কোন একটা গোপন বেপার  আছে যে নানী বাড়ি তে যাওয়া নিষেধ।  নানী প্রতিবার পাতিল ভরে খেজুরের রসের শিন্নি আর পিঠা ভেজে নিয়ে আসে।  নাতি নাতনি খাবে বলে।  প্রতিবছর দিয়াদের দাওয়াত দেয়। . কিন্তু বাবা নানী বাড়ি যান না।  তাই দিয়ার মা এ বেলা নানি ইকে দেখতে গেলেও ও বেলায় আবার ফিরে আসে।  বাবা বোকা দেবার ভয়ে।  বাবা আজীবন মাকে খুব কথা শুনিয়েছে , তোমার বাপের বাড়ি থেকে কি এনেছ ? বাবার বাড়ি বাবার বাড়ি কর ! মা খুব একটা কথা বলতেন না , বলা শুরু করলে বাবা মুখ লুকাতো।  ছেলেমেয়েদের সামনে তোমাদের বাপ্ বেটা আর তোমার মায়ের ভাইদের কথা খুলে বললে োর কখন ও দাদির বাড়ি করবে না।  যখন তোমার ঠিকানা ছিল না , তারা তোমার সন্তানদের দূর ছাই করেছে।  আমার বাবা তাদের জামা কাপড় ওষুধ আর খাবারের বেবস্তা করেছে।  যখন আমার ভাই বোনরা ছোট ছিল ওদের না দিয়ে তোমার সন্তানদের দিয়েছে।  আমার বাবা ভাল না কারণ আমার বাবা বিচার দিয়েছে আল্লার কাছে।  যে মানুষটা দুনিয়া থেকে চলে গেলেও সন্তানদের বলে গেছে তোমার ছেলেমেয়েকে দেখে রাখতে এই অপরাধ ছিল আমার বাবার।  তোমার বাবা তো প্রতি মাসে টাকা পেলে তা দিয়ে কোন দিন ওষুধ ও কিনে দে নি।  আমার চিঠি গুলা পর্যন্ত ফেলে দিয়েছে রাস্তায় যেন তুমি না পাও।  তুমি কি করে বুজবে আমার বাবা মা তোমাদের কি দিয়েছে।  আমি কয়েক কাঠা জমি নিয়ে এসে তোমাদের দিব আর আমার ছোট ভাই বোনেরা যারা আমাকে আজীবন দেখেছে তাদের কি হবে একবার ভেবে দেখেছ?
এমন জগড়া বিবাদ দিয়াদের পরিবারে লেগে থাকতো।  দিয়ারা জানতো বাবা নানীর বাড়ি লোকদের এত একটা পছন্দ করতো না।  সে বার , নানী কিছু পাঠালো না , নানী মামাকে দিয়ে বলে পাঠালো , দিয়াদের দাওয়াত।  না সালে নানী মন খারাপ করবে।  মা অনেক বলে বাবা কে রাজি করালো।  সে রাতে দিয়ার আর ও ২ জন খালাদের ও দাওয়াত ছিল।  শীতের রাত গ্রামের পথ সন্ধ্যে লাগার আগেই বাবা সবাইকে নিয়ে রওনা দিল।  নানী বাড়ি যেতে ১ ঘন্টা সময় লেগে গেল।
নানী খুব অসুস্থ।  শুয়ে আছে অন্য খালার রান্না করছে।  প্রথমে পিঠা তারপর মুরগি আর গরুর মাংসের ঝোল দিয়ে পোলাও।  অন্য খালার ও আসলো তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে তাদের স্বামী দেড় নিয়ে। . দিয়ারা আগে কখন ও অন্য খালুদের দেখে নি।  আজি দেখলো।  এক খালু তো খুব অমায়িক।  আর এক জন সিগারেট খায়। 
রাত গভীর হলো।  সবাই মাইল খেয়ে এইবার বাবার কাছে অন্য খালুরা আবদার নিয়ে বসলো।  ভাই আপনি কিছু করেন।  আমরা সংসার চালাতে পারছি না , এদের অনেক সম্পদ।  আমাদের একটু করে দিলে আমরা চলতে পারবো।  মা বলে বসলেন , নাহ আমার বাবা অনেক কষ্ট করে সম্পদ গড়েছেন , আমরা তা ভাগ হতে দিব না।  আমার বাবা অকালে মারা যাবার পর কেউতো কাছে আসেন নাই।  আমার ছোট ভাই বোনদের তো কেউ পড়ান নাই।  তারা নিজে নিজে যা পারছে , ক্ষেত্রে খামার করে বড় হয়েছে।  আমার মা অসুস্থ।  কখন কি হবে আমরা টাকা পাব কোথায়।  দিয়ার বাবা এসব শুনে মায়ের উপর অনেক রাগ ঝাড়লেন।  ভাব দেখালেন আসলেই মা যা বলছে ঠিকই বলছেন।  দিয়ারা খেলাধুলা শেষ না করেই হতবম্ব হয়ে আছে।  োর জানে ওদের বাবা রেগে গেলে পরিস্থিতি আর ও খারাপ হবে। 
নানী অনেক করে বলছে আমার বড় ছেলে আজ এই বাড়িতে থাকবে ,নাতি নাতনি গুলা আমার কাছে থাকবে।  োর তোরা ওদের সবার বেবস্থা কর।  এই কথা শুনে দিয়ার বাবা আর ও রেগে গেলেন।  নঃ উনি আর এইখানে থাকবেন না।  উনি বললেন দিয়া তোমরা চল।  তোমার মা থাকুক।  মা শুনে বললেন , মা বিদায় দাও আমি ও চলে যাব।  বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে।
কোন কোন শীত।  দিয়াদের গায়ে হালকা শীতের জামা রাত যত গভীর হচ্ছে তত আর ও শীত নেমে বসেছে সামনে কিছু আছে কিনা তা দেখা যাচ্ছে না।  একটা রিক্সা নাই।  হেটে হেঁটে যাচ্ছে।  আর বাবা বক বক করছেই মায়ের সাথে।  দিয়া বলে উঠলো , মা অনেক শীত আমি আর হাটতে পারবো না।  তোমার গায়ের চাদর তা দাও।  আর মা সাথে সাথে দিয়াকে তা দিয়ে দিল।  মায়ের শরীরে শুদু পাতলা একটা কাপড়।  দিয়া বললো মা তোমার কি শীত করে না ? মা বললেন , না বাবা , আমার শীত করে না , চল বাড়ি যাই।  বাড়িতে গিয়ে কথার মাঝে ঘুমিয়ে পড়বে।  দেখবে আর শীত করবে না।  বাবা কিন্তু মা কে বকেয়া যাচ্ছে।  মা কিছু কথার উত্তর দিচ্ছেন আর কিছু কথা শুনছেন না। 
হটাৎ করে এই রাতে একটা রিক্সা পাওয়া গেল।  বাবা রিক্সা ওয়ালাকে আগে থেকে চিনতেন।  বললেন বাড়ির দরজার সামনে নামিয়ে দিয়ে যা।  মা কোন রকম বসে সবাইকে ২ হাত দিয়ে জাপ্টে ধরলেন মায়ের চাদর কিন্তু দিয়ার সরিলে।  বাড়ির সামনে এসে ও বাবা মেক বকেয়া যাচ্ছেন।  আর দিয়া ভাবছে এত ঠান্ডা আমার মায়ের কেন গরম লাগছেই ? কেন সে বলছে তার সরিলে অনেক গরম ? কৈ রিক্সায় তো মায়ের হাত পা ঠান্ডা বরফের মতি লাগলো ? মা কেন মিথ্যে কথা বলছে ?

অনেক অনেক বছর পর মায়ের চাদর ই দিয়া পরে।  প্রথমে চাদর কিনে মা কে দেয় মা সেটা পড়লে তারপরে দিয়া পড়ে।  চাদর ভিতর কি আছে দিয়া জানে না।  কিন্তু মা আছে। ..

স্মৃতির জানালায় কে যে উঁকি দেয়।

স্মৃতির জানালায় কে যে উঁকি দেয়।

গ্রাফিক্স শিক্ষার সময় অনেক গুলা ঘটনা ঘটে আমার জীবনে।  প্রথম আমি জানলাম অকৃতিম প্রেম করে কয় ! আমার পরীক্ষার রেসাল্ট খুব ভাল ছিল।  বলা ছিল আমাকে ৮০% ওয়েবার দিবে।  কিন্তু যে ২০ % টাকা দিলাম তওটাকা  কম না।  সর্ব সাকুল্লে প্রায় ২২০০০ টাকা।  ভাবছি এত দিন পর বাবার কত টাকা পানিতে ফেলে দিয়েছিলাম জেদের জন্যেই।  বাবা তো ভর্তি করবেনা।  কিন্তু আমি বাবা কে নিয়ে গেলাম সুবিদ বাজারে ওদের অফিসে।  নিয়ে োর বাবা কে যে কি বুজালো বাবা ভর্তি করিয়ে দিল।  আমি কলেজ শেষে গিয়ে প্রতিদিন ২ ঘন্টা কম্পিউটার নিয়ে বসে থাকতাম।  আমাদের স্যার ছিল বিচি টাইপের।  সালা যে কি বুজাত আমি তা আজ ও বুজতে পারতাম না।  কত গুলা টুলস আর এডিটিং ছাড়া কিছুই শিখায় নি।  সেটা খুব আফসোস রয়ে গেল জীবনে।  আমি হয়তো আর একটু পরিশ্রম করলে এখনো নিজে নিজে এগুলা বাল চাল করে ফেলতে পারবো।  রাগ আছে অনেক স্যারের উপর। 
সে সময়ে কিছু দারুন মানুষের সাথে আমার পরিচয়।  রিয়াদ ভাই একজন যিনি পরে আমার সাথে ইংলিশ কোর্স করেছিলেন।  একে উনি ছিলেন মেথের স্টুডেন্ট আবার হমিওপেথি স্টুডেন্ট আবার স্টুডেন্ট পড়াতেন।  খুব পরিশ্রম করতেন এক ভাই একবোনের পরিবার ছিল. খুব আধুনিক ছিল মন মানুষিকতা।  ভাই কে যখনি বলতাম ভাই আপনার প্রিয় মানুষের গল্প বলেন , উনার প্রেমের গল্প করতেন।  হেলেনা ছিল ওর নাম।  খুব চঞ্চল , ভাইয়ের কথা শুনতো না।  একই সাবজেক্ট এ পড়তো কিন্তু ক্লাস কম করতো।  ভাই বাসায় গিয়ে ওরে পড়াতো।  ওর বাবা মা ভাইকে টিচার হিসেবে নিয়োগ দদেয়।  কি যে মজার মানুষ ছিলেন।  সাদা হাসি খুশি আর নতুন নতুন পরিকল্পনা করতেন সামনে বছর কি করবেন।  খুব মিস্ট ভাষী ছিলেন , এক দিন আমাদের বাসায় এসে নুডুলস খেয়ে গিয়েছিলেন।  তারপর নাকি যখনি নুডুলস খেতেন আমাদের বাসার কথা মনে হত।  আমার মায়ের রান্না আসলেই খুব দারুন। আমার সব বন্ধুরা খেয়ে বলতো আবার কবে যাব !

ভাই একবার ভাল  টাকা পেয়েছিলেন কোথাও থেকে।  আমাদের নিয়ে খাওয়ালেন বিকালে নাস্তা।  আমরা প্রায় ৮ জন ছিলাম সবাইকে খোয়ালেন।  একদিন দেখি রিক্সায় বসে আছেন একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে।  আমাকে দেখে  রিক্সা থামিয়ে বললেন এই হচ্ছে হেলেনা।  হেলেনা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো ও তুমি হলে ও ! আমি ও মাথা জুকালাম।  বুজলাম আমাদের সবার গল্প ওর জানা।  কি মায়া ভরা আছে মেয়েটার।  বললাম একদিন বাসায় নিয়ে আসেন। 
তার কিছু দিন পর রিয়াদ ভাইকে দেখি একটা ডায়েরি হাতে হন্নে হয়ে কোথাও যাচ্ছেন।  জিজ্ঞাসা করলাম , কেমন আছেন ভাই ? বললো ভাল , আর হেলেনা কেমন আছে ? বললো ও তো বাহিরে চলে গেছে।  আমি ও যাব কিছু দিন পর।  বললাম , ভাই অনেক বদলে গেছেন।  কিছু বললো না। 
আজ অনেক দিন পর বুজলাম তার যে দীর্ঘনিশ্বাস ছিল তার মানে কি ! আসলেই জীবন কেন যে বদলায় এক জায়গায় থাকেনা।  কোথাও খেয়াল হারিয়ে যায়। 

বর্ষা দিনে বর্ষার প্রেম।

বর্ষা দিনে বর্ষার প্রেম। 

বর্ষা দিনে এক কাপ চা নিয়ে বসে আছি।  ভাবছি , মাথার মাঝে বর্ষার স্মৃতি ধরে না রেখে লিখি।  জানিনা কত টুকু ঠিকঠাক লিখতে পারবো! যত টুকু রহিদয়ে আছে আছে তাই লিখি। 

বর্ষা আর জাহেদ ওরা ভিন্ন ভিন্ন কলেজে পড়তো।  কেউ কাউকে দেখেছে এমনটি ও না।  বর্ষা যে স্কুলে পড়তো ওর এক বন্ধু জাহেদের সাথেই পড়তো।  জাহেদ একদিন তাঁর বন্ধুর সাথে আলাপ করতে গিয়ে বর্ষার কথা জানতে পারে।  কিন্তু জাহেদ কি করে বর্ষার সাথে পরিচয় হবে তা জাহেদের জানা ছিল না।  অনেক চেষ্টার পর , বর্ষার ফোন নাম্বার যোগাড় করে।  ততদিনে বর্ষা বেশ জানতো যে , ফোনে রং নাম্বার এ ইচ্ছে করে ছেলেরা মেয়েদের সাথে কথা বলে।  অনেক দিন চেষ্টা করে ও বর্ষার সাথে জাহেদের কথা হয় না।  
জাহেদ লুকোচুরি পছন্দ করতো , হেয়ালি কথা আর রাজ্যের অগোছালো আলাপ নিয়ে ফোন দিত।  মনে হত জোট গেয়ানি গুণী মানুষ যদি থেকে থাকে তাহলে ও প্রথম একজন।  আজ কি হল কাল কি করবে , এই নিয়ে আলাপ করে সময় কাটাতো।  যেন উনি এই রাজ্যের বড় বেস্ত লোক।  বর্ষা যত পারতো এড়িয়ে জেত।  ওর চিন্তা ছিল কি করে নতুন নতুন বই পড়বে।  বর্ষার বই জোগাড় করার নেশা ছিল।  কবিতার বই , ভ্রমণ কাহিনী , ছোটদের গল্প কিন্তু ওর প্রেমের গল্প ভাল লাগতো না।  বাবার কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে চলে যেত গল্পের বই কিনতে।  লাইব্রেরি লোকটা যে বর্ষা কে দেখতো অমনি খুশি হত।  বর্ষার সাথে লাইব্রেরি র ভাইটার সাথে অনেক খাতির।  ওখানে বসে বসে ২ একটা গল্পের বই পরে ও নিতো।  কোন বইয়ের আধ খানা রেখে গেলেও লাইব্রেরির ভাই ওটা যত্ন করে রেখে দিত।   জিন্দা বাজারে বইয়ের মার্কেট এ এই রকম প্রায় সময় যাওয়া হত।  সবাই ওখানে বই প্রেমীরাই যায় , সারাদিন বই আর নতুন বইয়ের গন্ধ , সে কথা ভুলে যায় না।  সিঁড়ি বেয়ে ২ তলায়উঠে বামে মোর নিয়ে দনে দোকানটা।  
বর্ষার সাদা রং খুব পছন্দের , আর কালো রং ওর অপছন্দের।  বেশ কয়েকদিন পর পর জাহেদ বর্ষাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে বর্ষা খুব খেপে যায়।  সময় নাই গুমানোর সময় এই আজগুবি কথা নিয়ে ফোন দেয়।  বিরক্তি খুব চরমে।  একয়েকদিন খারাপ ভাবে বলেও কিছু করা যায় নি।  এই আগাছা কয়েকদিন পর পর বিরক্ত করে।  
জাহেদ বেশ বুজতে পারলো এ ভাবে বর্ষার সাথে কথা বলা যাবে না। ফন্দি আটলো কি করে ওর সাথে কথা বলবে।  জিজ্ঞাসা করলো কবে যাবেন জিন্দাবাজার।  বর্ষা বলে দিল সামনের শুক্র বারেই যাবে একটা কাপড় কিনবে আর ছাতা কিনবে।  
শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়ে ওর বান্ধবীকে নিয়ে জিন্দাবাজার গেল , ওরা বইয়ের দোকানে গেল , নিচে ফুসকা খেল তারপর ওর বান্ধবীর এক বন্ধু আসলো োর কোথায় লেগে গেল।  বর্ষা আর wait না করে চলে গেল কাপড়ের দোকানে। ওখানে এক জন এসে বললো তুমি বর্ষা! বর্ষা বলল , জি কে তুমি ? জাহেদ।  ও আচ্ছা , তোতুমি আমাকে এত ডিস্টার্ব কর কেন? তুমি আমাকে এত অপছন্দ কর কেন ? জানিনা।  তুমিআমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করবে না।  ঠিক আছে।  
আচ্ছা , তুমি কি এইখান থেকে কাপড় নিবে নাও।  বর্ষা কাপড় নিল।  ততক্ষনে ভাল বৃষ্টি চলে আসলো।  কিকরে বাসায় যাবে।  ওদিকে খরচ বেশি হওয়াতে ছাতা কিনতে পারছে না।  
জাহেদ বললো , তোমাকে একটু এগিয়ে দেই ! ঠিক আছে।  ততক্ষনে সন্ধ্যা নেমে আসলো।  চারদিকে লোকজন ছুটাছুটি শুরুকরেছে , আর অন্য দিকে একছাতার নিচে জাহেদ আর বর্ষা। জাহেদ খুব চেষ্টা করছে দূরত্ত্ব ঠিক রাখতে ওদিকে বর্ষায় ও তাই।  ২ জনের ২ দিক ভিজে একদম পানি পড়ছে।  এত বৃষ্টি যে রিক্সা গুলা ও যেতে চাইছে না।  কি করা বাসা পর্যন্ত দিয়ে গেল জাহেদ।  তার পর , কোন এক কারণে বর্ষা জাহেদের উপর আর রাগ করলো না কিন্তু জাহেদ ও বর্ষাকে বিরক্ত করলো না। 

অনেক দিন পর , জাহেদ অনেক গুলা চরই পাখি নিয়ে আসলো বর্ষার কাছে।  বর্ষা জিজ্ঞাসা করলো কি করবে ? ছেড়ে দিব।  তো এইখানে কেন ? অনেক দিন আমার বাসায় ছিল োর ওদের ছেড়ে দিলে তোমাকে ভুলে যাব।  আর অমনি বর্ষার হাসি পায়।  কেন আমাকে ই মনে রাখতে হবে ? তোমার সাথে বৃষ্টিতে ভিজে আর তোমাকে ভুলতে পারছি না।  তো তোমাকে কি আমি বলেছি যে আমার সাথে দেখা করতে ? কেন যে ভুল করেছি ! 
আবার ওদের মধ্যে যোগাযোগ নেই , জাহেদ হাওয়া হয়ে গেল।  ৩ ম্যাশ পর আবার ফোন দিল , আমি একটু দেশের  বাহিরে গেলাম তো যোগাযোগ করতে পারিনি।  কেন, বলে গেলে কি হত ? মন খারাপ লাগতো ! হা হা হা।  আচ্ছা , তোমার চরৈদের কি ছেড়ে দিছ ? নঃ তোমাকে দেখানোর পর আর ছেড়ে দিতে মন দিল না ! ও আচ্ছা।  
জাহেদ বার বার বুজানোর চেষ্টা করলেও বর্ষা বুজতে  পারলো না ছেলেটা কি চায়।  কলেজের গেটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ছেলেটার পরীক্ষার রেসাল্ট ও খারাপ হল।  কিন্তু এসব জানতো না বর্ষা।  এক বছর পিছিয়ে গেল ছেলেটা।  কিন্তু ও হাল ছেড়ে দিল না।  ওর বন্ধু রবিনকে দিয়ে ও ফোন দিল বর্ষা কে কিন্তু বর্ষা এখন আর কারো কথা শুনে না।  
ততদিনে জাহেদ বেশ স্মার্ট ছেলেটা পরিনিত হল।  কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ভাব বর্ষার অপছন্দ।  ২ বছর চলে গেল এমন করে।  কি কথা আর বলবে বর্ষা জাহেদ কে তা আর বর্ষার জানা ছিল না।  বর্ষা  ওর ইনিয়ে বিনিয়ে কথা শুনতে শুনতে হাপিয়ে গেল।  যে ছেলে মুখ ফুটে বলতে পারে না এই লাভ ইউ।  ওরে আর কি বলা যায়।  
যখন সময় খারাপ যায় বার বার ফোন দিয়ে কথা বলতে চায় , বাগানে গেলে , কবরের পাশে এক চলে গিয়ে কিংবা লম্বা রাস্তা একা চলতে গিয়ে শুদু বর্ষার কথা মনে পরে , কিন্তু সঠিক   বলতে পারে না সে   কিছুই করতে পারবে না। 
বর্ষা ধরেই নিয়েছিল এই ছেলে এমনটাই করতে থাকবে।  এরই মধ্যে বর্ষা বেশ কয়েকবার নাম্বার চেঞ্জ করেছে , কিন্তু জাহেদ বর্ষার সাথে আর কথা ও বলতে পারলো না।  বর্ষা ঢাকা যাওয়া আসা শুরু করে দিল যে জাহেদ আর বর্ষার দেখা ও পাচ্ছিল না।  বর্ষা ও জাহেদের খোঁজ নীল না।  
বহু দিন পর , কোন এক দুপুরে ছেলেটা কলেজের গেটে বসে আছে , দেখে মনে হচ্ছে কত জড় তুফান চলে গেল ছেলেটার উপর।  কিন্তু বর্ষা দেখে ও না দেখার ভানকরলো।  জাহেদ ডেকেই যাচ্ছে , কিন্তু বর্ষা তাকালো না।  সামনে সামনি হওয়ার পর জাহেদের জিজ্ঞাসা , তুমি কি আমাকে ভুলে গেছ? নাহ, তোমাকে ভুলে যায় ? তুমি তো পেইন ! 
শেষ দেখা ওদের। অদেখা  রইলো ওদের।  আর কখন ও দেখা হয় নি কথা ও হয় নি।  মাঝে মাঝে হ্যালো বলে মেসেঞ্জার এ।  বর্ষা দেখে আর হাসে।  কি যে ভালো লাগা ছিল সে বর্ষার সন্ধ্যায় ! জাহেদ শুধু বুজলো বলতে পারলো না 

Thursday, 25 June 2020

Year -mate

শরীফ আর আমি ছোটবেলা থেকে পরিচিত।  আমরা একই স্কুলে পড়ছি।  একই ক্লাস।  কিন্তু ও একটু ফাঁকি বাজে আর আমি তো সিরিয়াস অল টাইম।  এক দিন ওর বাসায় গিয়ে ওর মেক জিজ্ঞাসা করছিলাম ও কোন স্যারের কাছে পড়ে ? ও এত খারাপ রেসাল্ট কেন করে ? ওর মা শুনে আমাকে কলা বিস্কুট খাইয়ে বিদায় দিয়ে ওরে দিল ভাল করে বাদাম।  বাদাম খাইয়া পোলা পরের দিন লাগাইলো আমার সাথে পাংগা আমি ও কি কম? দিচ্ছি আরো বাদাম , পোলাটা গাট্টা গোত্তা তো আমি ওকি কম ! আমি ওরে এমন লাত্তি দিসি যে ও আর শরমে মাইর করতে আসে নি।  বেপারটা এইখানে থামে নেই।  মদন মোহন কলেজ এ পরীক্ষা , সিট্ পড়ছে আমার সামনে।  সে দিন আবার পারিনা কিছুই।  শেষ বরষা এই শরীফ।  ও শিট প্রায় শেষ , গাঢ় গুঁড়ায় জিজ্ঞাসা করে , কিছু পারিস! আমি ও বললাম অরে যা ভাগ দেখবিনা জিজ্ঞাসা করিস কেন? ও বলল , না দেখ , তুই তো পারবি , আদা বছর ডেঙ ডেঙ করে ঘুরে বেড়াস তুই পারবি ! মন চাইছিল ওরে আর একটা লাঠি মারি।  কিন্তু সে দিন কৃতজ্ঞতায় আর পারলাম না।  মেডাম তা ছিল মদনের বাংলা মেডাম জেক সবাই চিনে , আমি ছাড়া।  শরীফ ও দেখি মেডাম কে খুব সম্মান দেখিয়ে আমাকে দেখাই খুব বিশ্ব জয় করলো।  ওরে থ্যাংকু দিচ্ছি কিনা আজ মনে নেই।  কিন্তু ও পরীক্ষায় চান্স পেল আর আমি ফেল। 
২ বছর ওর সাথে দেখা নেই।  এক বৈশাখে দেখি কে একটা আমাকে নাম ধরে মুখ বেঙচিয়ে ডাকছে।  আমি বললাম তুই কে ? আমি শরীফ।  তুই মরছিলে তো মরলিনা কেন ? আমার পিচ পিচ করিস কেন ? যা এইখান থেকে নাইলে তোরে লাথি দিব।  ওর পাশে একটা সুন্দর মেয়ে ছিল।  ওরে দেখে আমার আরো ও খারাপ লাগছিল।  একেতো মেয়েটা অপুরূপ সুন্দরী তারুওপর ওরে ছেবলামি করেদেখছে।  মেজাজ যা খারাপ হয়।  জোর করে নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়ে খিচুড়ি আর চা খাওয়ালো।  আমি বিল দিব মাজখানে ওই সুন্দরী মেয়ে টা বিল দিল। 
মেয়েটাকে আমার খুব ভাল লাগছে , কিন্তু হিংসা হচ্ছিল।  কি লম্বা চুল আবার মুখ তা লম্বাটে আর ফর্সা কত।  শরীফের সাথে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে , আমার ইচ্ছা করছিল ওর মায়ের কাছে গিয়ে আবার বিচার দেই। 
কোন এক বর্ষায় ছাতা নিয়ে আমি আমার এক বন্ধু কে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি।  হঠাৎ করে দেখছি গাদা তা রিক্সায় নিয়ে মেয়েদের হোস্টেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।  আমি ভাবলাম ও তো আমাকে দেখে কুত্তার মত দৌড় দিবে।  কিন্তু ওর মুখ তা ছিল মলিন আর লজ্জায় ভরা।  আমি বুজে নিয়েছি - এই ছেলে গেল রসাতলে।  মেয়ে তা হোস্টেল থেকে বের হয়ে এল কি এক দুটা কথা বলে যেন পালিয়ে গেল।  আমি শরীফ কে কিছু জিজ্ঞাস করলাম না।

আবার , পরের দিন দেখি ছেলেটা ক্লাস শেষ করে দৌড় দিল মেয়েদের হোস্টেলের দিকে।  দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ২টা  বেজে গেল।  মেয়েটা উস্কুখুস্কু ভাবে নেমে ১ মিনিট ও দাঁড়ালো না।  ভুলে যাও  বলে চলে গেল। 
আমার সাথে আর কোন দিন শরীফের দেখা হল না।  

Untold story -

তখন আমরা প্রেমে পড়েছিলাম , প্রেমে পড়ার যে কি অনুভূতি তা কেউ বুজে না জানে।  মনে হলো , ঘুরে আসি অনেক দূর , যেখানে তুমি আমি আর প্রকৃতি ছাড়া কেউ নেই।  আমরা ২ জনে হাতে হাত রেখে কত শত গল্প বলে যেতাম , মনে হট এই গল্প যেন কখন ও শেষ না হয়।  আজিজ কে বলেছিলাম , এই গল্প শেষ হবে না।  হিমাদ্রি ও কথা দিয়েছিল।  ২ জনে গল্প বলতে জানত।  কেউ দূর তারার দেশের আর কেউ বাস্তব জগতের।  এমন গল্প শুরু হলে শেষ হতে চাইতো না।  ফুসকা খাবার চলে ২জন ২জনকে আপন করে দেখতো।  হিমাদ্রি ভাবতো কাল নীল রঙের শাড়ি পরবে , আর খোঁপায় সাদা ফুল।  হিমাদ্রির সব কিছুতেই ছিল আজিজের অধিকার।  বুড়ি বলে ডাকতো হিমাদ্রীকে।  যেমনটা হিমাদ্রি চাইতো তেমনটা ও সাজতো।  হিমাদ্রির প্রেমে পড়া টা যেন এক আলাদা জগতে নিয়ে গেল।  কোন কিছুতে মন বসতো না।  পড়াশুনা গান অথবা থিয়েটার কোন কিছুতে না।  শুদু পাহাড় ভাল লাগতো।  এক দিন বলেছিল হিমাদ্রি , আমি একদিন ওই পাহাড়ে চলে যাব।  হিমাদ্রি প্রতিদিন আজিজ কে নিয়ে দূর পাহাড়ে যেত , প্রেমে পড়লে সব হিতাহিত বুদ্ধি লোপ পায়।  োর ফুসকা খেত , টঙে বসে চা ক্ষেত্রে , কেন্টিনের সমুচা আর সিঙ্গারা , অথবা ডাল  খিচুড়ি।  তার পর আবার চা।  রিক্সার হুট্ তুলে হাত হাত রেখে অনেক দূর চলে যাওয়া।  বসে বসে গল্প বলা। 
হিমাদ্রি ভাবতো এই জীবনে ও আর কিছুই করবে না প্রেম করা ছাড়া।  সারাদিন মুখে হাসি লেপ্টে লেপটে থাকতো , মনের অজান্তে গান করতো।  মনে হতো এই পাহাড় এই জঙ্গল আর এই নদী আর কিছু চাইনা। 
কাউকে কথা দিয়ে ফিরিয়ে নিতে হয়না।  ভালবাসা কষ্ট পায়।  যে ভালবাসে তাকে ওই টুকু সম্মান দিলে খুব ক্ষতি হয়না।  জীবন বদলাবে ভালবাসা ও তাই।  হিমাদ্রি বুজলো ও একা।  ও যাকে ভালবাসে প্রেম করে ও আগেই অনেকের হয়ে গেছে , ও বাঁধন ওর হবার না।  ওর প্রেম শুদু ওর নিজের সাথেই।  যে সবার আগেই অন্যের হয়ে আছে তাকে পাওয়া আসা করা অথবা সময় অপচয় করা হিমাদ্রি বুজে গিয়েছিল।
কোন এক অবেলায় োর হারিয়ে গেল দূর পাহাড়ের গায়ে , কেউ কাউকে কখন ও দেখতে পে নি আর পাবে ও না। 
তখন আমরা প্রেম করতাম।  খিলখিল করে কারণে অকারণে হাসতাম।  আজ হাসি সেই পুরোনো ও হাসির কথা ভেবে।  

Wednesday, 24 June 2020

Untold story--

আইরিনের সিগারেট খাওয়া নিয়ে বাসায় অনেক তুমুল জগড়া।  বিষয়টা এমন যে , সিগারেট ওর নষ্ট হওয়ার জন্যে দায়ী।  বাসায় ওর মা আর ও।  ২ টা মানুষ সারাদিন কি করে! একটু সিগারেট খেলে ওর মাথা থেকে যন্ত্রনা দূর হয়। তা আর কাউকে বুজানো সম্বব নয়।  আজ ওর মা  রেখা , অনেক বোকা বাকি করে আল্টিমেটাম দিয়েছে যদি সে সিগারেট না ছাড়ে তাহলে আবার আইরিনকে বিয়ে দিবে।  আইরিন ও বলে দিয়েছে ও বিয়ে করবেন করলেও সিগারেট ছাড়বে না।  আইরিনের মা ব্যাঙ্ক কর্মকর্তা।  সারাদিন বাসায় থাকেন না।  এক একা মেয়েটা থাকে আর বীর বির করে বকে।  কাকে বকে কেন বকে তা জানা হয়না রেখার।  শামীম ওর সাথে ছিল কিছু দিন তারপর লন্ডন চলে গেল।  আর ফিরল না।  মাঝখানে উকিল নোটিশ দিল। এইতো মেয়েটা এখন মায়ের কাছে।  কোন ভাল বন্ধু নেই।  আছে সিগারেট। 
আইরিন তখন বিবিএ পড়ছে।  কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ভার্সিটি তে পা দিল।  এত ফর্সা আর এক্সট্রোভার্ট মেয়ে ২টা নেই।  প্রেমে পড়া হয়নি , কিন্তু প্রেম করবে এমন কাউকে পাশে ছিল না।  গান গাইতো মেয়েটা। এক রাতে রং নাম্বারে শামীমের সাথে পরিচয়।  ছেলেটা মেয়েটা কে কেমন করে চিনতো তা শামীম কখন ও বলে নি।  অনেক দিন ধরে ফোন কথা হচ্ছিল।  আইরিন ভাবলো আগে তো বুজি আসলে ছেলেটা কে ?
শামীম রাজনীতি করতো।  ভাল পোস্ট ছিল।  সব সময় ছেলে নিয়ে থাকতো।  গান ও পছন্দ করতো। আইরিনকে গান শুনাতো।  আইরিন ও গান গাইতো ওর সাথে।  কোন এক বসন্তের দিনে োর ঠিক করলো দেখা করবে কোন এক রেস্টুরেন্ট এ।  শামীম ওর ৪ টা বন্ধু ও ১ টা বান্ধবী নিয়ে আসলো আইরিনকে দেখবে ও ওদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে।  আইরিন বাসায় বলে গেল আজ আমার এক বন্ধু আসবে আমার সাথে দেখা করবে , হবিগঞ্জ থেকে।  বিষয়টা তেমন কিছু ছিল না।  খাবারের অর্ডার দিল , চিকেন বিরিয়ানী আরসালাদ।  খেতে খেতে কথা হচ্ছে , শামীমকে দেখে আইরিন বার বার ভাবছে কেন আসলাম ? বেটে আর কালো গুন্ডা একটা ছেলে সাথে আবার ছেলে আর মেয়ে।  ওর যদি প্রেম করার দরকার থাকতো তাহলে ওর যে বান্ধবী নিয়ে আসছে ও তো কম সুন্দরী না তারউপর মেয়েটা মেডিকেল এ পড়ে। ওখানে আর কিছু প্রকাশ করলোনা।  খাওয়া শেষে বিদায় নিতে চাইলো আইরিন। কিন্তু শামীম ওকে বললো চল একটু হেটে আসি।  ওর বন্ধুরা রেস্টুরেন্ট এ বসে ছিল।  আইরিন আর শামীম সামনে খোলা জায়গায় হাটাহাটি করছিল। শামীম বলল, আমি জানি তুমি আজ থেকে আর আমাকে পছন্দ করবে না।, কারণ আমি কালো আর বেটে।  ওর ওকথাশুনেআইরিন ভাবলো যাক ছেলে তা বুজে গেল যে আমাকে আর বুজতে হবে না। কিন্তু , শামীম আটার মত লেগে ছিল , আইরিনকে বলল , আমি তোমার সব চাওয়া পূর্ন করব , শুদু তুমি আমাকে একটু সময় দাও , আমার সাথে কথা বল।  আইরিন ভাবলো আগেবাসায় যাই তারপর সিদ্দান্ত নিব।  আইরিনকে শামীম বাসায় দিয়ে গেল।  শামীম খুব চতুর ছেলে। 
ভার্সিটির পরিচিত ভাইদের দিয়ে ওর খোঁজ খবর রাখতো।  মেয়েটা চাইতো ছেলেটা যেন কোন ভাবে ওর সাথে আর দেখা না করতে পারে।  তাই হল , শামীম আর ২ টা বছর ওর সাথে দেখা করতে পারলো না।  আইরিন ভুলেই গেল শামীম কে। 
আইরিনের বিয়ের কথা হচ্ছিল।  কোথাও থেকে কে যেন একটা ভাল ছেলের খোঁজ পেল।  রেখাকে খুব তাগাদা দিচ্ছিল ছেলেটা লন্ডন যাবে।  রেখা না বুজে কথা দিল। োর মেয়েকে দেখতেও চাইলো না।  আইরিন ভাবলো হয়তো ইসলামী পরিবার পরে দেখা হবে।  ও নিজেকে গুচিয়ে নিচ্ছিল।  রান্না শিখছিল।  কত সত স্বপ্ন নিয়ে দিন যাচ্ছিল।  ফাল্গুনের হাওয়া লাগছিল মনে। 
বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পর্ন , জুবায়ের রাশিদ ওরফে শামীম কে বিয়ে করছে আইরিন।  বিয়ের দিন  আইরিন হতবাক কোথায় কে জুবায়ের রাশিদ ও তো শামীম।  যার বাড়ি ছিল হবিগঞ্জ।  কিন্তু ততক্ষনে অনেক কিছু পাল্টে গেল।  শামীম তার প্রতিশোধ নীল ওরে অবজ্ঞা করার আর আইরিন বুজে গেল জীবনের বড় ক্ষতি করে ফেললো।  শামীম আইরিনকে বললো , আমি তোমাকে ভালবাসতে চেয়েছি , কিন্তু তুমি আমাকে অবজ্ঞা করেছ।  আমি তোমাকে জানি তুমি জেদি আমাকে তুমি মেনে নিবে না , কখন ও মেনে নিবে না।  কিন্তু আমি তোমার ছায়া হয়ে থেকে গেলাম তোমার জীবনে।  অনেক কোস্ট করতে হয়েছে তোমাকে পাওয়ার জন্যে আর দিন ১০ পর আমি চলে যাব লন্ডন আর তুমি থাকবে এখানে।  ২ বছর ১ দিন আমি তোমাকে ছাড়া থাকিনি আর তুমি সারা জীবন আমাকে নিয়েই থাকতে হবে। বিষয়গুলা আইরিন বুজে উঠার আগেই ওদের অলিখিত ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল।
অনেক অনেক দিন পর শামীম লন্ডন থেকে ফোন করলো , আইরিন তুমি কি এখনো আছ্ ! আমি তোমাকে মিস করি , সাথে তার এক বন্ধু ও ছিল ফোনের ওপাড়ে , খুব জানতে চাইছিল , তুমি কি শামীমকে চেন ? আইরিন বলে দিল , নাহ আমি এই নামে কাউকে চিনিনা।  আর ইটা আমার কুঁড়ে পাওয়া ফোন।  প্লিজ আমাকে ডিসটার্ব করবেন না।  ও পাড়ে শুনা যাচ্ছিল , আইরিন আমি তোমাকে ভুলি নি , আমি তোমাকে খুঁজে নিব।  

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...