Monday, 5 October 2020

রমা

 রমা 

আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদের স্কুলে আমাদের পড়িয়েছেন দশম ক্লাস পর্যন্ত । ক্লাস ৪ থাকতেই খুব সহজে মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন টেন্স । প্রথম দিন ৪ তা রুল এমন করে ৩ দিনে পুরো টেন্স মাথার ভিতর । হটাত হটাত করে বলবে এই রুলস তা লিখে দাও না হলে ৫ মার্ক্স কাটা । ছোট মাথায় ডুকিয়ে দিলেন প্রথম ভালবাসার মত টেন্স কে ।  উনি আমাদের ধর্ম স্যার না  আসলে ক্লাস নিতেন , প্রতি জন পরে পরে বুজাবে সে কি বুজছে ! ক্লাসে পড়া খতম । ক্লাসে পিন পন নিরবতা থাকতো মেম এর ক্লাসে কারন কে যে কখন ধরা খাবে এর মুরগী বানাবে তাই আগে থেকে পড়া ও মন যোগ এক সাথে দিতে হত । আমাদের তখন ই শিখিয়েছেন শৃঙ্খলা , একসাথে চলা , ন্যায় , অন্যায় ,আবে্‌ ধর্ম ,সামাজিকতা , আর নিজেকে জানা । প্রতিদিন ভাবতাম মেম বুজি আজ ময়মন্সিং নিয়ে কথা বলবে ! যেখানে গল্প গুলার ভিতর থাকতো রাজা রানী অলৌকিক কাহিনী অথবা কি কি দারুণ সব জায়গা আছে ওখানে । আমরা ছোট বেলাতেই ভেবে রেখেছি যাব তো যাব ওই ময়মন্সিং । 

আমরা ক্লাস ৫ এ উঠলাম , মেম বদলে গেলেন । চরম হার্ড লাইন । এইবার তোদের কিছু করতেই হবে । ক্লাস শেষে আবার কোচিং । এর আন্সার এই ভাবে দিবে । অটাকে ঘুরিয়ে দিলে এই আন্সার । কত পরিশ্রম যে করত আমাদের পিছনে । তোমার আন্সার এত খারাপ হল কেন ? ভাষা টা ঘুরিয়ে বললে কত সুন্দর হত আন্সার । মেম একটা শিট লিখেছিলেন আমাদের জন্নে এত সুন্দর করে লিখাটা আজ ও মনে হয় চোখে ভাষে । একটা পাখি ছিল সেই ডাইরির পাতায়।  মেম শুধু পথ দেখাতেন আর আমরা সেই পথে দৌড় দিতাম । ক্লাস ৫ এ থাকতে আমাদের দিয়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা বলাতেন , আর উনি গান শুনাতেন । উদবট উদ্ভট গল্প শুনাতেন, আমরা হাসতাম , হাঁসতে হাঁসতে পারলে বেঞ্চ থেকে নিচে পড়ে যেতাম । 

ক্লাস ৬ এ উঠলাম , মেম বললেন , এই বার নাটক করবি । এই গল্প আয় রিহাসেল করি । দল বেধে আমরা সারা বছর রিহারসেল করলাম । কোন কিছুই কারো লিখা নাই , মুখে মুখে লাইন , মুখে মুখে গান , মুখে মুখে ছন্দ । আমরা তো করতাম আর হাসতাম আমাদের ক্লাসের প্রত্যেকটা মেয়ে ছেলে তারাও আজ আমার মত বলবে, হাঁ ও এক জন ছিলেন বলে আজ আমরা সবাই এক একজন আলাদা সত্তা । 

ক্লাস ৭ এ উঠলাম । মেম তো পিছন পড়েই আছে । কৈ যাবি তোরা । তোদের আমি ছাড়ছি না । শুরু হল বিতর্ক । কেন জানি এই মহিলা আমার দিকে নজর দিল ! যে আমি বলতে পারিনা সেই ফার্স্ট বক্তা । মেহেদি আর শঞ্ছি ওদের কত হাজার বকা খেয়েছি , ওরা আমাকে বকতে বকতে শেষে আমরা অনেক ট্রপি এনে দিয়েছি । প্রতিটা বিতর্কে আমাদের গাইড দেওয়া , সমসাময়িক কি কি জানতে হবে , কোথায় কোন বইতে কি আছে , সব কিছু এনে দিতেন তিনি । তত দিনে , আমিনুল স্যার, মতিলাল স্যার সহ অনেকে আমাদের হেল্প করতেন , অঞ্জন স্যার ভুলা যায় না স্যার আর বিজ্ঞান ক্লাস আর খোঁচা গুলা । বিতর্ক শেষে সিঙ্গারা আর এমন করে আসে নি স্যার ! 

ক্লাস ৮ । খুব ভয়ানক সময় । হটাত একদিন আমাকে বলেন , বলত খিছুরি কি করে রান্না করে? আমি তো ভাবি আজীবন তো মাই করলো আজ আমি পণ্ডিতি করি । আমি বলি আমার পাশের গুলা আর ও বড় বিশারদ । ওগুলা আরও বড় জান্তা । শেষ মেশ কি যে খিছুরি হইছিল টা আমার জানা নাই । শুধু মনে পড়ে মেম এর হাঁসি আর থামে না। আমরা ভাবছি আমরা তো পেরেই গেছি । মেম তখন আমাদের বুজাতেন কেন আমরা মেয়েরা আলাদা । আমরা কেন গোছানো কিংবা আমাদের গল্প গুলা কেন অন্যদের চেয়ে ভিন্ন । ইডেন কলেজ কে আমাদের মনে গেথে দিয়েছিলেন । বাজে স্বভাব কি করে মানুষ কে নষ্ট করে । অথবা ছবি দেখতে দেখতে উনার বান্ধবি গাল খেয়ে ফেলত । গল্প গুলা আজ ও জেন্ত মনে । আমাদের প্রতিটা বার্ষিক  পরিক্ষার পর অনুষ্ঠান আমরা নিজেরাই সব করতাম । মিলাদ মাহফিল আমরা করতাম, পিকনিক ছিল আর ও মজার দিন । সারাদিন হই হই করা ছবি তুলা , খাওয়া , পাহাড়ে যাওয়া , বন্ধুদের গলায় হাত রেখে ছবি তুলা । বড় আকর্ষণ ছিলেন তিনি নিজে , আমরা উন্মুখ হয়ে থাকতাম তিনি আজ কি সাজ দিয়েছেন ! আজ ও যখন সাজি মনে হয় কোন না কোন ভাবে উনাকেই কপি করি । 

ক্লাস ৯-১০ । আমরা খাঁচায় বন্ধি যত্নে থাকা পাখি । কি বাংলা ১-২ , কিংবা ইংলিশ ১-২ , যে কোন বিষয় মেম কে পাশে পেয়েছি । উনি বলতেন , অঙ্ক আমিনুল স্যার কে দেখাবে , ফিজিক্স , কেমেস্রি যে খানে সমস্যা আমরা আছি । হুজুর স্যার হাত ধরে ধরে লাইন ধরে লিখাও শিখিয়ে দিয়েছেন । কি করে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে একটা প্রসঙ্গ সুন্দর করা যায় তা শিখাতেন , আমাদের যে কোন দিন যে কোন সময় উনার দরজা থাকতো খোলা। আমরা প্রায় সময় বাসায়  যেতাম মেম আমাদের গল্প শুনতেন , আমাদের নতুন নতুন বিষয় গুলাকে মন যোগ দিয়ে সমাধান দিতেন । আমরা মেম কে দেখতাম কত গাছ লাগাতেন। আমরা সে খান থেকে কিছু নিয়ে আসতাম । আমাদের সকল পরিকল্পনায় আগে আমরা রাখতাম মেম কে । আমাদের কবিতা লিখতে বলতেন , আমরা সবাই কবি হয়ে গেলাম । আমাদের যা বলতেন , আমরা তাই করতাম । আমাদের মগজের ভিতর একটা নাম রমা রানী চক্রবর্তী ।

মেম আমাদের প্রত্তেকের নাম জানতেন , সুজুগ পেলে বাসায় আসতেন । আমাদের পরিবারের সবাই উনার ছাত্র ছাত্রি । আমার ছোট বোন তাহ-মিনা উনাকে অনেক ভালবাসে । আমরা যখনি দেখা করি আমরা ফিরে যাই আমাদের শৈশবে আর মেম কে নিয়ে আমাদের কথা চলতেই থাকে । 

জীবনে অনেক কিছু পাওয়ার মধ্যে আমাদের পাওয়া আমাদের বাল্য শিক্ষক আমাদের গুরু আমাদের  মেম রমা রানী চক্রবর্তী। 

Sunday, 12 July 2020

Bad touch

আসমা ৩ মেয়ে আর ২ ছেলে নিয়ে বাসাবাড়িতে কাজ করে।  আলম ওর স্বামী প্রথমে রিক্সা চালাতো এখন মানুষের ফুটফর্মেস খাটে না হয় কাজই  করে না।  আসমা বাসা বাড়িতে কাজ করে দুপুরের খাবার নিয়ে আসে।  একটা সমিতি চালায়।  ৩০ হাজার টাকা কর্জ  নিয়ে সুদে খাটিয়েছে , যেটা তার স্বামী জানে না।  এই ৩০ হাজার সমিতিতে দিতে গিয়ে ওর অনেক কাজ করতে হয়।  আসে পাশে ওর শাশুড়ি থাকে , আর ও থাকে দেবরের পরিবার।  সবার কাছে তার ওই ৫ সন্তান চোখের কাঁটা  . কেন কাঁটা  তা কারো জানা নাই।  না ওদের ঘরে থাকে না কারো কাছ থেকে কিছু চায়।  আসমা ঈদে যে বোনাস পেয়েছে তা দিয়ে সবার কাপড় কিনেছে , কিন্তু শাশুড়ির তা কিনে নি।  পরের দিন আলমের মার্ খেল সবার সামনে।  ব্য ব্যে  করে কেঁদে  কেঁদে চলে গেল কাজে।  যারা ওরে বোনাস দিয়েছে তাদের বাসার কাজ আগে করা দরকার।  আলমের একটাই কথা , সবার জন্যে কিনতে পারছ  কেন মায়ের টা  কিনল না।  আসমা বলে গেল , তোর মায়ের কাপড় আমার মেহনতের টাকায়  কিনব না।  তুই কিনে দে।  আলম ওরে আচ্ছা করে মাইর দিয়ে ও ওর কাছ থেকে টাকা নিতে পারল না।  গজ গজ করে সামনের দোকান থেকে ডার্বি সিগারেট কিনে  খাচ্ছে।  এগুলা যেন ওদের জীবনে ডালভাত।  সকাল হলে কাপঝাপ আবার দুপুর গড়ালে কাপঝাপ। 
আমার বড় মেয়ে নীলা।  ও নীলা খুব সুন্দর মেয়ে।  চুল গুলা ওর মা টাইট করে বেঁধে দেয়।  হাতে দেয়  ১০ টাকা।  কোলে থাকে সদ্য  জর্ন্ম নেওয়া ভাই।  আরেক হাতে থাকে আরো ও একটা বোন।  যেন ওদের কেউ গ্লু দিয়ে এঁটে  দিয়েছে এমন।  পিছে পিছে থাকে একটু কথা বলা ভাই আর বোন। ের যেখানে যায় একসাথে যায়।  আসমা যে বাসায় কাজ করে ওদের গেরেজে অথবা তার সামনের জায়গায় বসে থাকে।  আসমা বলে যায় নীলা এদের নিয়ে এইখানেই বসে থাকবি , ঠিক তেমন করে বসে থাকে।  একটু ও ক্লান্তি লাগে না ওর। দুধ খাওয়া ছোট ভাইটি ওর কলিজা।  ওর খিদা পেলে কত শত মিথ্যে গল্প করে ঘুম পাড়িয়ে দিবে।  আর ছোট গুলাকে গান শুনাবে অথবা ছোটদের ছড়া  শুনাবে।  অদ্ভুত গলা মেয়েটার।  মেয়েটাকে দেখলে যে কেউ বলবে মেয়েটা এত বুজে জানে কি করে , ৪টা  ভাই বোন এক হাতে কি করে সামাল দেয়  . দোকান থেকে বিস্কুট কিনে এনে দিবে ভাই বোনদের।  মা যখন নামে  কাজ থেকে ঠিক তখন োর এক বাসা থেকে আর এক বাসায় গিয়ে উঠে। 
নীলা খুব ভালো ইংলিশ ছড়া  বলে , টুইংকল  টুইংকল।. .. ব্যা  ব্যা  .. পুসি ক্যাট। . এগুলা ও যে কি থেকে শিখছে , জানা নাই ওর।  যেখানে যা কিছু দেখে শুনে তা এসে ভাই বোনদের শুনাবে।  কোন বাসার সার মেম  ওরে জামা দিয়েছে সাথে একটা রঙিন বই।  এই বইটা তার মুখস্ত।  এখন সে আর ও বই চায়। কিন্তু বলে না লজ্জায়। 
নীলা র বয়স ৯ বছর।  মার্বেলের মত চোখ তার।  কোন খেলার সাথী নাই।  ভাই বোনদের নিয়ে থাকে সারাবেলা।  আরশিদের  বাসা ওদের পাশে।  আরশির অনেক খেলনা।  ২- একবার ওর খেলনা দেখতে চেয়েছে আর অমনি ওর বাবা ওরে গায়ে মাইর দিয়ে বের করে দে।  যখন ই আরশির বাবা বাসায় থাকে না তখন ওর খুব লোভ  জাগে আরশির খেলনা দিয়ে খেলতে চায়।  খেলা প্রায় শেষ এমন সময় ওর বাবা এসে  দরজা লাগিয়ে দেয়।  বলে , তোকে যেতে দিব যদি আমার পা টিপে দাও , বেচারি পড়েছে বিপদে , আমতা আমতা করতে করতে পা টিপে দিল লোকটার।  তারপর মেয়েটা চিৎকার দিয়ে দরজায় থাপড়াতে লাগলো , কেউ খুলে দিল না , হাপাতে হাপাতে মেয়েটা দরজা খুলে বের হল।  নীলা আর স্বাবাভিক হতে পারলো না। আসমা কে সে জানাতে ও পারলো না তার সাথে ঘটে যাওয়া বিষাদময় ঘটনা।  আসমা মেয়ের উপর ৪ সন্তানকে রেখেই কাজে যায় কিন্তু নীলা আর কোথাও যেতে পারে না।  ওই অন্ধকারময় গুটগুটে ঘর টার   মধ্যে ওর কেটে যায় আর ও ২ টা  বছর।  অপরিচিত কাউকে দেখলেই ঢুঁকে  পড়ে  ঘরে.....

Tuesday, 7 July 2020

সমগীত

সমগীত

শিউলি আপা অনেকের কাছে হাত বাড়িয়ে যা পান তা দিয়ে ৭০-৮০ পরিবারের প্রতিদিনের খাবার দেন।  এপ্রিলে করোনা আসার পর পর যখন না খাওয়া  মানুষ গুলা দিশেহারা তখন আলোর ছটা নিয়ে এলেন শিউলি আপা।  প্রতিদিন ১ পোটলা দিতেন যেখানে থাকতো , চাল , আলু, সাবান , ডাল।  এইভাবে বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পর দেখলেন তাতে চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু সামলানো যাচ্চে না।  বন্ধুদের কাছ থেকে যা পান নিজের সঞ্চয় খেটেখাওয়া মানুষের পিছনে ঢেলে দিলেন অকাতরে।  আজিজ ভাইয়ের ঘরে রান্নায় হত না।  এমনটা ছিল নোয়াখালি খালাম্মা , জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মা যার সন্তানেরা খোঁজ রাখতনা মায়ের , শত বছরের বুড়ি যার যাওয়ার জায়গা ছিলনা , খোঁড়া খালাম্মা , সাব্বিরের মা , তুহিনের পরিবার ও কামরুলের মা। .. আর ও কত পরিবার না খেয়ে দিনাতিপাত করত।  শিউলি আপা দেখলেন , এদের পাশে কেউ নেই , তখন কত বন্ধুদের কাছে হাত পেতেছেন।  কেউ বিশ্বিদ্যালয়  শিক্ষক , কেউ গান গায় , কেউ বই বিক্রি করে, কেউ নাটক করে, কেউ টেলিভিশনে চাকরি করে, কেউ শুদু পরিচিত।  জিনাত আপা একাই দিলেন ৩-৪ দিনের খাবার।  কেউ রান্না করেও দিলেন।  কয়েক দিন পর উনি ভাবলেন , এইভাবে দিলে চাহিদা বেড়ে যাবে।  তারপর দিলেন রান্না করা খাবার , প্রতিদিন দল , আলু আর ভাত।  সবাই এসে রান্না করতো।  মাছ দিত।  কৈ  মাছ , শিং ও দিতেন। ন্টারপোর পতিত জমি তে ফসল করতে শুরু করলেন।  ওরাই এসে কাজ করে দিতেন।  রোজার মাসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ইফতারি দিতেন।  ঈদের দিন ছিল বেশি  মজার।  একটা ছাগল কেটে ২৪ কেজি মুরগি দিয়ে তেহারি ও রোস্ট খাওয়ালেন।  ছোটদের দিলেন কাপড় আর মুরব্বিদের কাপড়। এই ভাবে পুরো ৩ মাস খাওয়াচ্ছেন।  আসে পাশে বাড়িওয়ালারা তাকে সাহায্য করছে।  কিছুদিন যাওয়ার পর বাঙালির চরম দায়িত্ত্ব হয়ে গেল , কে উনি খোঁজ নেওয়া আবারকেন করছেন , অথবা কয়টাকা এনে কয়টাকা দিচ্ছেন তার হিসেবে শেষ মেশ উনার ধর্ম পরিচয় নিয়ে উঠে পড়লেন।  এত দিন যাদের বদ্র  লোক ভাবতাম তারাও তার পিচ পিছু আলোচনা করে যাচ্ছে।  বিষয়টা এমন যে , এক জন মহিলা হওয়াতে উনাকে প্রতিদিন উনাদের পা ধরে সালাম করে উঠতে বসতে হবে।  যখন ফ্রি ডাক্তার এনে এদের সেবা দিলেন , যখন এদের বাচ্চাদের পরালেন ফ্রি তখন কেন উনার পিছু পিছু ছিলেন না।  একই মানুষ  সামনে একরকম আর পিছনে অন্য রকম।  ভাবতে পারছিনা।  লোকডাউনে হত দরিদ্র মানুষদের আশ্রয় ছিলেন শিউলি আপা আর আজ উনাকে মসজিদে যেতে হল নিজের পাসপোর্ট নিয়ে যে উনি খ খ্রিস্টান না তা বুজানোর জন্যে।  শিউলি আপা দমে থাকার মানুষ না।  বাচ্চাদের জন্যে খুলেছেন স্কুল , খাবার ও দিচ্ছেন আবার পড়ান।  একটা মানুষ যিনি সমাজের কাছে হেরে যেতে শিখেন নি।  কুরবানী দিবেন এই গরিবদের জন্যে।  তাদের হাসিটুকু যেন উনার পরম পাওয়া।  

Tuesday, 30 June 2020

বেকার জীবন।

বেকার জীবন।

বেকার মানে এমন যে আমার কাজ নাই তা না , আমার প্রচুর কাজ, কিন্তু , ইন রিটার্ন কোনভার্টেবল কারেন্সি নাই।  ইটা একটা মানুষিক অশান্তির জন্যে যথেষ্ট।  ছাত্র জীবনে ও মাসে ৫০০০ টাকা প্রতিমাসে হাতে থাকতো।  কারণ আমি ছাত্র পড়াতাম।  পড়াশুনা শেষে চাকরি ছিল।  নিজের প্রয়োজনের বাহিরে ও প্রচুর টাকা থাকতো।  মাথায় ঘুরতো নতুন নতুন কোন জায়গায় যাব , কোথায় খাব , কোন ধরণের কালেকশন রাখবো , কাকে কি উপহার দিব।  হাসবেন্ড কে কখন ও টাকা দিতে হত না , বরং শশুরের চিকিৎসার জন্যে টাকা চেয়েছে দিয়ে দিয়েছি। 
বেকার জীবনে প্রচুর চিন্তা।  সামনের দিন গুলা আমি কি করবো ? অনেক প্লেন আছে যেটা পূর্ন করতেই হবে , স্বাধীন মন মানুষিকতার মানুষ গুলা কারো কাছে নির্বরশীল না হয়ে ভালো।  এতে নিজস্বতা হারায়।  যাই হোক বেব্সা করবো ভাবছি।  কিন্তু সারাদিন ভাবী কি দিয়ে শুরু করবো ? ছেলেমেয়েদের সময় দিয়ে কি করা যায়।  কিছু সময় ভাবনা গুলা সাজিয়ে শিগগির কিছুকরবো এই ভাবনা আমার। 

 বেকার জীবনে হতাশা নয় , নতুন করে শুরু করার প্রত্যয়।  

বর্ষায় গাছ।

বর্ষায় গাছ।

গত ২ বছর ধরে একটা জিনিস শিখলাম।  যা আমার তার উত্তম ব্যবহার করতে হয়।  আমার একটা ছোট জমি যেটা পড়ে থাকতো।  গত বছর এটাকে ঘিরে দিলাম।  তার পর ভাবতে লাগলাম আসলে আমি কি করবো।  আমার ছোট ছোট বাচ্চা।  ওদের নিয়ে এই জমিতে কিছু করা যাবে না।  কিন্তু আমি প্রতি দুপুরে ওদের ঘুম দিয়ে জমিতে যেতাম।  একটু একটু করে পরিষ্কার করে সুন্দর করলাম।  পাশ থেকে কিছু কচু গাছ দিলাম এক কোনে।  আর ম্যাচ দিলাম আর এক দিকে।  মাজ খান টুকু  ফাঁকা ছিল।  তারপর বুধবারের হাট থেকে এনে লাগলাম লাউ গাছ।  বর্ষা শেষ হতে না হতে লাগিয়ে দিলাম।  প্রায় এক মাস অপেক্ষা করলাম।  তারপর পুরো ৩ কাঠা জমি লাউয়ের ডগা তে ভোরে গেল।  কত শত ফুল ফুটে থাকতো।  মনে হট আমি একটা ফড়িং অথবা প্রজাপ্রতি।  আমি বাচ্চাদের নিয়ে ওখানে বসে থাকতাম।  ওদের ছেড়ে দিতাম মাটি নিয়ে খেলতে।  যেহেতু আমি সব সময় পড়াশুনা চাকরি বাচ্চা মানুষ করা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম আমার ভাল বন্ধু ছিলোনা।  আমার কথা বলার মোট মানুষ কম ছিল।  আমি দেখলাম বাগান করতে গিয়ে আসে পাশে সবাই আমাকে হেল্প করতে শুরু করেছে।  ওদের কথা শুনতাম আমার কথা ও ওদের বলতাম। আমার বাচ্ছারা ওদের সাথে মিশে ওদের বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।  আমার যে কোন সমস্যায় আমি ওদের পাশ পাই.. ওরা আমাকে পেলে যেমন আনন্দ পে আমি ও তাই। 
কিছু দিন পর আমার বাগানে প্রচুর লাউ ধরলো।  আমরা প্রথম যে লাগ্ গুলা আসছিলো সেগুলো স্থানীয় মসজিদে দিয়ে দেই।  আমার প্রতিবেশীরা তা কিনে টাকা দিয়ে দেই মসজিদে।  আর যারা আবদার করেছে তাদের লাউ দেই।  আমার আত্মীয় দের বাসায় লাউ গুলা দেই।  সাথে হলো প্রচুর শশা।  কম করে হলে ও ২০ কেজি আমরা শুদু প্রতিবেশীদের দেই।  এমনকি রাজশাহীতে পাঠাই।  ওখানে সবাই তো অবাক।  এই মেয়ে বাগান করে তা আবার  রাজশাহীতে পাঠাচ্ছে। 
আমার বাবা -মা চাচা চাচী যে যেখানে ছিল পাঠিয়েছি।  আমরা প্রতি সপ্তাহে ২ বার করে খেয়েছি। 
সবার নতুন করে জন্য আমি বাগান করতে পারি।  নিচে দিয়েছিলাম কুমড়া আর লাল শাক আর তার সাথে পাই শাক।  কিছুই আমাকে কিনতে হয় নি।  কিছুটা পরিশ্রম করে আমি অনেক আনন্দ পাই।
এবার দিয়েছি চালকুমড়া , করলা, শশা , কুমড়া, ধুন্দুল , পেঁপে , কলা , পুঁই ,শিম, আর কঁচু।  এখনি প্রায় ৫ টি চালকুমড়া বিলিয়ে দিয়েছি।  আমরা খেয়েছি।  আবার যারা আবদার করছে বলে দিয়েছি , কয়েকদিন পর দিব।  করলা যখন নিজের গাছের।  তিতা তখন মনে হয় না।  আর কচুর লোটি গুলা যখন প্রায় ২ হাত হয় তখন মনে হয় োর আমাকে আনন্দ দেয়ার জন্যে এত লম্বা হয়।  পেঁপে গাছে প্রচুর ফুল আসছে।  কোলা গাছ আসমান ছুঁয়ে আছে।  নিশ্চই এইবার নিজের গাছের কোলা খাব। 
আনন্দ লাগে তখন যখন আসে পাশের সবাই এক সাথে গাছের যত্ন নেই. আর বিভিন্ন জিনিস নিয়ে হাসি তামাশা করি। 
সবার বুদ্দি শুনি আর হাঁসি।  আমাদের এক ভাই আজ বলছে , ভাবী মিষ্টি একটু কুমড়া গাছের তলায় দিন দেখবেন কুমড়া গুলা কত মিষ্টি হবে।  আমি হাস্তে হাস্তে শেষ।  গত বছর ওদের সব কথা শুনে আমি সেই ভাবে গাছ লাগিয়েছি।  এইবার আমাকে বোকা ভাবছে।  তবে গত বার যে কুমড়া হয়েছে। তা বাড়িতে মাকে পাঠানোর  পর মা বলেছে এত কুমড়া খেয়েছি মা কিন্তু তোমার গাছের মোট এত মিষ্টি কুমড়া আর হয় না।  এত আনন্দ আমি কি করে পেতাম যদি কুড়ে হয়ে বসে থাকতাম।  মাঝেমাঝে ঘুম হয়না।  খেতের কোন কোনায় কি লাগাবো , কি করলে আরো সুন্দর হবে এই ভেবে। 
বর্ষায় একটু গাছ লাগিয়ে দেখেন কেমন লাগে।  ও আপনাকে শুধু ভালোবাসাই দিবে।  সাথে তো বোনাস আরো কত কি আছে !

Monday, 29 June 2020

আই লাভ ইউ বলতে শিখুন।

আই লাভ ইউ বলতে শিখুন।

আমার ২ বছরের ছেলেটা প্রথম বলতে শিখলো আল্লাহ আর লাইলাহা ইল্লাহ।  সারাদিন এই ২তা কোথাই ও জানতো।  কয়েক দিন পর দেখলাম।  ও আরো এই রিলেটেড বাক্য শিখতে চায়।  আমি ওরে সকালে আদর দেই , কলিজা , যান পাখি , আদরি বুড়া , মওলা , টিয়া পাখি কত কি নাম ডাকি।  ওকে প্রতিদিন বুজতে চাই আমি ওরে কত ভালোবাসি ! তারপর শিখালাম , আই লাভ ইউ।  তারপর থেকে ও বলে আই লাভ ইউ টু।  দাদি নানী নানা জেক সে অনলাইন এ পায় তাকেই বলবে , আই লাভ ইউ।  ওর মামার সাথে ভীষণ খাতির।  মামাকে না দেখলে ওর ননু কে দেখাবে মামাকে।  মামাকে আদর পাঠাবে। একটু পর পর এসে দেখে যাবে মা কার সাথে কথা বলছে ? যদি সেটা তারপরিচিত কেউ হয় তাহলে তো হলো আই লাভ ইউ বলবেই।  বাবাকে আদর করবে , ওরে অনেক ভালোবাসা দিতে হয়।  একটু রাগ দেখলে আর ওখানে থাকবেই না।  কাছে ও আসবে না।  যেই বলবো , আই লাভ ইউ।  অমনি একদম বিড়ালের মত আদর করবে। 
মেয়েটা কে দিয়ে কোন কাজ করানোর আগে পরে তো উনাকে বলতেই হবে , এই নাবা , শুনে যা , আই লাভইউ , হুম বলো ,কেন ডেকেছ ? পানি খাব , wait করো , থ্যাংকু , আই লাভ ইউ , হুম , মি টু। 

তরী কে আমি চিনি ভার্সিটি থেকে , কথা অত হয় নি।  কিন্তু আমরা একজন আর কাজনকে চিনতাম।  খুব স্মার্ট আর চঞ্চল ছিল।  ছিল বলছি কারণ ২ দিন আগে ও না ফেরার দেশে চলে গেছে।  ১০ বছরের বিবাহিত জীবন।  রাকা একটা ৬ বছরের ছেলে আর ১০ দিনের একটা মেয়ে রেখে চলে গেল।  সব সময় আনন্দে থাকতো।  ফেবু তে প্রচুর ছবি , হরেক রকমের ছবি , ওর অনেক ছেলে বন্ধু থাকতে আমি একটু এরাই চলতাম।  কিন্তু জানি যে ও খুব আন্তরিক ছিল সব কিছুতে।  নতুন নতুন শাড়ি আর গয়না ওর খুব পছন্দের ছিল।  ভালবেসে বিয়ে ২ জন্যে মেড ফর each othar . বৈশাখে কত ঘুরার ছবি দেখেছি।  আমি হতবম্ব এই করোনা আমার  কাছের কেউ কে এই ভাবে হারাবো।  ওর সাথে প্রতিটা মানুষ আমার মতোই হতবম্ব হয়ে গেলাম।  এত ওরে চিনি কিন্তু কখন ও বলা হয় নি , তোকে আমার সত্যি অনেক ভাল লাগে।  বাচ্চা হওয়ার পর নিউমোনিয়া হলো কিন্তু লাইফ সাফোর্ট দিয়ে এমনকি ভেন্টিলেটর দিয়ে ও মেয়েটাকে ফিরানো গেল না।  ভাবছি ১০ দিনের পরীর মত বাচ্চাটা জানলো না ওর মা কত ভালো মানুষ ছিল।  

ফটো সাংবাদিক রেহানা আক্তার। খুব সাদা সিধে মেয়েটা।  কাজল পড়তো।  ঐটুকুই সাঝে।  হাতে একটা নিকন ছিল।  হেসে হেসে কথা বলতো।  কোথায় কোথায় বলতো তোকে দিব দরে ২ টা। ও অফিসের নিচে টঙের দোকানে সিগারেট খেত।  আর বলতো খ খেল মজা পাবি।  ওর ঢং ঢং কথা গুলা আজ শুদু মনে পড়ছে। একটা ৩ বছরের মেয়ে আছে।  একটা স্কুটি করে অফিস শেষে বাজার নিয়ে ফিরতো।  ছবি তা যেন বুকের মধ্যে ঘেঁথে আছে।  কোলন কেন্সার হলো।  কোনো দিন বলে ও নি।  এক বার অফিসের পার্টি তে ছবি তুলে দিয়ে বললো কাচ্চি খোয়া তাইলে দিব না হলে দিব না।  আমি বললাম আমার লাগবে না তোকে খাওয়াবো না।  ইমেইল করে আগেই ছবি পাঠিয়ে দিয়েছিল।  অত ঢুকে হয় না তাই পরে জানতে পেরেছিলাম।  কাল রাতে ও ও না ফেরার দেশে চলে গেল।  কিছুই কখন ও বলতে পারিনি।  যদি বলতে পারতাম তোমার কাজল মাখানো চোখ গুলা খুব মায়াবী।  এমন করে কি চলে যেতে হয় !

বিকেলের মর্মর ধ্বনি !

বিকেলের মর্মর ধ্বনি !

শেষ কবে এই বিকালটা আমার জীবনে এসেছে তা মনে নেই।  গত ১০ বছর তো আসে নি এটা বলতে পারি অথবা তার ও আগে ১০ বছর এ আসছে কিনা জানা নাই।  বিকালটা এমন যে আপনি দৌড় দিয়ে চলে যেতে মন চাইবে মাঠের পরে যে রাস্তা আছে সেটা পার করে বাজারের মুখে গিয়ে মিষ্টির দোকানে হা করে দাঁড়িয়ে থাকতে।  ঠিক খেতে নয় এত সুন্দর করে মিষ্টির গন্ধ আর সাজানো তা দেখতে। অথবা রাস্তা পেরিয়ে আরো একটা ম্যাথ তার পর একলা দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা দেখে আস্তে।  ওখানে যে একটা গরু ছিল  হলদে রঙের সেটার সাথে আপনার ভাব করতে মন চাইবে।  অথবা , মেঘের কল ঘেঁষে যে ২- ৪ তা রং নিয়ে রংধনু উঠে  সেই রং ধনুর সাথে খেলা করতে।  বাল্য বন্ধু কে নিয়ে পাশের বাড়িতে রাজঁহাস দেখতে যেতে।  বিকালের লাল রঙের লাল তা খুব ডাকবে কথা বলতে চাইবে।  আপনি হাসবেন কিন্তু ও অবলোক করে তাকিয়ে থাকবে।  বিকালটা এমন যে , বাস বাগানের ভিতর একটা হু হু বাতাস কানের কাছে ধেয়ে আসবে।  আপনি যত বলেন আর তুই ডাকিস না ও আরো  জোরে ডাকবে।  আপনি হাঁটছেন বাঁশ বাগানের ভিতর মনে হবে পিছন থেকে কে যেন পিছু নিয়েছে। ফিরে তাকাতেই আর নাই।   শুকনো পাতা গুলো হাওয়ায় ভেসে ভেসে গায়ে পড়বে।  হাতে নিয়ে বাঁশি বানাতে মন চাইবে।  এমন একটা বিকাল কোথায় হারিয়ে গেল ?

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...