Tuesday, 7 July 2020

সমগীত

সমগীত

শিউলি আপা অনেকের কাছে হাত বাড়িয়ে যা পান তা দিয়ে ৭০-৮০ পরিবারের প্রতিদিনের খাবার দেন।  এপ্রিলে করোনা আসার পর পর যখন না খাওয়া  মানুষ গুলা দিশেহারা তখন আলোর ছটা নিয়ে এলেন শিউলি আপা।  প্রতিদিন ১ পোটলা দিতেন যেখানে থাকতো , চাল , আলু, সাবান , ডাল।  এইভাবে বেশ কয়েকদিন যাওয়ার পর দেখলেন তাতে চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু সামলানো যাচ্চে না।  বন্ধুদের কাছ থেকে যা পান নিজের সঞ্চয় খেটেখাওয়া মানুষের পিছনে ঢেলে দিলেন অকাতরে।  আজিজ ভাইয়ের ঘরে রান্নায় হত না।  এমনটা ছিল নোয়াখালি খালাম্মা , জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মা যার সন্তানেরা খোঁজ রাখতনা মায়ের , শত বছরের বুড়ি যার যাওয়ার জায়গা ছিলনা , খোঁড়া খালাম্মা , সাব্বিরের মা , তুহিনের পরিবার ও কামরুলের মা। .. আর ও কত পরিবার না খেয়ে দিনাতিপাত করত।  শিউলি আপা দেখলেন , এদের পাশে কেউ নেই , তখন কত বন্ধুদের কাছে হাত পেতেছেন।  কেউ বিশ্বিদ্যালয়  শিক্ষক , কেউ গান গায় , কেউ বই বিক্রি করে, কেউ নাটক করে, কেউ টেলিভিশনে চাকরি করে, কেউ শুদু পরিচিত।  জিনাত আপা একাই দিলেন ৩-৪ দিনের খাবার।  কেউ রান্না করেও দিলেন।  কয়েক দিন পর উনি ভাবলেন , এইভাবে দিলে চাহিদা বেড়ে যাবে।  তারপর দিলেন রান্না করা খাবার , প্রতিদিন দল , আলু আর ভাত।  সবাই এসে রান্না করতো।  মাছ দিত।  কৈ  মাছ , শিং ও দিতেন। ন্টারপোর পতিত জমি তে ফসল করতে শুরু করলেন।  ওরাই এসে কাজ করে দিতেন।  রোজার মাসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ইফতারি দিতেন।  ঈদের দিন ছিল বেশি  মজার।  একটা ছাগল কেটে ২৪ কেজি মুরগি দিয়ে তেহারি ও রোস্ট খাওয়ালেন।  ছোটদের দিলেন কাপড় আর মুরব্বিদের কাপড়। এই ভাবে পুরো ৩ মাস খাওয়াচ্ছেন।  আসে পাশে বাড়িওয়ালারা তাকে সাহায্য করছে।  কিছুদিন যাওয়ার পর বাঙালির চরম দায়িত্ত্ব হয়ে গেল , কে উনি খোঁজ নেওয়া আবারকেন করছেন , অথবা কয়টাকা এনে কয়টাকা দিচ্ছেন তার হিসেবে শেষ মেশ উনার ধর্ম পরিচয় নিয়ে উঠে পড়লেন।  এত দিন যাদের বদ্র  লোক ভাবতাম তারাও তার পিচ পিছু আলোচনা করে যাচ্ছে।  বিষয়টা এমন যে , এক জন মহিলা হওয়াতে উনাকে প্রতিদিন উনাদের পা ধরে সালাম করে উঠতে বসতে হবে।  যখন ফ্রি ডাক্তার এনে এদের সেবা দিলেন , যখন এদের বাচ্চাদের পরালেন ফ্রি তখন কেন উনার পিছু পিছু ছিলেন না।  একই মানুষ  সামনে একরকম আর পিছনে অন্য রকম।  ভাবতে পারছিনা।  লোকডাউনে হত দরিদ্র মানুষদের আশ্রয় ছিলেন শিউলি আপা আর আজ উনাকে মসজিদে যেতে হল নিজের পাসপোর্ট নিয়ে যে উনি খ খ্রিস্টান না তা বুজানোর জন্যে।  শিউলি আপা দমে থাকার মানুষ না।  বাচ্চাদের জন্যে খুলেছেন স্কুল , খাবার ও দিচ্ছেন আবার পড়ান।  একটা মানুষ যিনি সমাজের কাছে হেরে যেতে শিখেন নি।  কুরবানী দিবেন এই গরিবদের জন্যে।  তাদের হাসিটুকু যেন উনার পরম পাওয়া।  

No comments:

Post a Comment

Thanks a lot
Regards,
morsalina

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...