পুন্নি নামটা পুন্নিকে ওর বাবা রইসউদ্দিন দিয়েছে। বড় আদরের মেয়ে। একটা মেয়ে যার বুক ভরা ভালবাসা মেয়ের জন্যে। যদিও ও মেয়ের মায়ের জন্যে তেমন টান নেই। ঝিলিক ওর মা। পরীর মত সুন্দর মুখ। কাঁচা মাটির মত মন। কাজ করে স্বামী ছেলে মেয়েকে খাওয়ায়। তবু তার দাম নাই। রইসের কথা কাজ করে খাওয়াবি বলবি কেন? যখন রইস ভাল ছিল তখন করে এনে খাওয়াচে না ? এখন ওর বুকে যক্ষা বেঁধেছে কাজ করবে না। ওষুধ খাইয়ে ভাল হয়ে ও বসে আছে ঘরে। এদিকে ঝিলিক এবাড়ি ও বাড়ি থালা ধুয়ে কিছু পানি ভাত আর মাস শেষে কিছু অল্প টাকা পায়। ও টুকু দিয়ে ৪ জনের খাবার আনা সম্ভব না। কারো গাছ কেটে , ঘর লেপে দেয়। কিন্তু সবার তার দেহ খানাই পছন্দ। এবাড়ি ও বাড়ি করে কয়েক বাড়িতে এ নিয়ে কানাঘুষা চলতে থাকে। এ নিয়ে ঝিলিক ভাবে না। গরিবের পেট লাথি খেলে ও মুখ বুজে করে যেতে হবে। রইসের কানে উড়ে উড়ে সব কথায় ভাঙ্গায় রইসের ছোট ভাই গিয়াস। গিয়াসের যে খুব লোভ ঝিলিকের দিকে। তা তো কোন দিন পাত্তা পাওয়ার না এই গিয়াস জেনে বুজে ঝিলিকের পিছে লেগেছে। করে এনএখাবাবে আবার ঘরে মার্ খাবে এ এক জীবন সওয়া হয়ে গেল ঝিলিকের। ছোট ছেলেটা মাদ্রাসায় দিয়ে মাওলানা বানাবে ঝিলিক। ছেলেটা কে খেতে দিত না হুজুরেরা। কি জানি ভয়ে ছেলেটি আবার বার বার বাড়ি চলে আসত। মুখ ফুটে মা কে কিছু বলত না। ঝিলিক আবার পাঠাত মাদ্রাসায়। একবার তো হুজুরের পায়ের নিচে বসে ছিল , হুজুর ই ছেলেটাকে একটু দেখেন। সকালে যে দিয়ে আসল পরের দিন আবার চলে আসল। ঝিলিকের বুজা হয়ে গেল যেমন করে হোক , হৃদয়কে সে মাওলানা বানাবে। মেয়েটা বড় হচ্ছে। মায়ের মত সুন্দর না হলেও মায়ের চেয়ে লম্বা হয়ে গেল এতটুকু ১৪-১৫ বছরে। মেয়েকে নিয়ে কোথায় ও কাজে যেতে পারে না। সবার চোখের সামনে ওদের নিয়ে থাকা ঝিলিকের থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। রইসুদ্দিন আর হিংস আর মারকুটে হয়ে গেল। কোন এক অজানা ভয় ঝিলিকের পিছে পিছে ধাওয়া করছিল। একদিন তুমুল জগড়া হচ্ছিল। রইসুদ্দিন ৩ তালাক দিয়ে দিল ঝিলিককে। জীবনের পদে পদে ধাক্কা খাওয়া ঝিলিক ২ ছেলে মেয়েকে নিয়ে চলে আসল ঢাকায়। মেন্দিবাগের এক চাপড়ি ঘরে ঠাঁই করে নিল। বুক ভরে কেঁদে আর কি হবে ? জীবনের প্রবাহমান ধারা নিয়ে আসল নতুন মোড়ে। রিদয় কে দিল গাড়ির হেলপার হতে। আর ঝিলিক মেসে রান্না করে আর বাসার কাজ করে। দিনটা নতুন করে ভাল চলছে ওদের।
দিনযায়রাত যায় রইসুদ্দিনের কথা ভেবে ঝিলিকের। কেমন আছে কি খায় ! এই ভাবনায়। পাড়ার দোকানে বসে আড্ডা দিয়ে পান খেয়ে আসে ঝিলিক। গল্প করে গ্রামের বাড়ির কথা, আত্মীয় স্বজনের কথা কিন্তু বলে না রইসুদ্দিনের সাথে তার ছাড়া চারি হওয়ার কথা। যে কথা তার বুকে সবসময় তীরের মত বিঁধে সে কথা বলে সে কেমন করে। একটা হলুদ রঙের ৩পিচ্ পরে কাজে যায় মেয়েকে ঘরে রেখে। মাসে পাশে সবাই পুন্নিকে শাসনে রাখে। পুননি ও কম না বরিশালের মেয়ে ছেড়ে দেয়ার মত মেয়ে কি ও ! হুম ! যে যাই বলুক না কেন মুখে উত্তর রেডি। একদিন গিয়ে দেখি রান্না করছে মাটির চুলায়। ভাল রান্নার গুন্। নোয়াখালীর খালাম্মা জিগায় , ও চেরি তুই কি নামাজ কালাম পারিস। উত্তরে বলে , বিয়ার পর শিখে নেব ানী। . এখন না পড়লেও চলবে মা বলেছে। তা নামাজ কালাম না পারলে তোমারে কেন নিবে পোলা? শুতে আর ঢং দেখতে? পুন্নির উত্তর , ও লো বুড়ি তুমি যে নামাজ কালাম থুয়ে সিনেমা দেখ কাগা কি বাহির কইরা দিচ্ছে তোমারে? আর কোন প্রতি উত্তর পাওয়া গেল না।
দিন কয়েক যাওয়ার পর , পুন্নির খুব মোবাইলের শখ। মায়ের হাতে ধরে পায়ে পরে মোবাইলের জন্যে। জীবনের এই সময় মোবাইল যেন গলার বিষ। অনেকবলে মেসের ছেলে একটা ভাঙ্গা মোবাইল দিল ঝিলিক কে। মা ওঁৎ বুজে না। ঢাকায় যে যে আত্মীয় আছে সবার খোঁজ নেয় এই মোবাইল দিয়ে। কেউ পাত্তা দেয় আবার কেউ দেয় না। এ নিয়ে ঝিলিকের মাথা ব্যথা নাই।
একদিন চাচাত বোনের বাড়ি মিরপুর যায়। খুব সুন্দর করে সাজুগুজু করে। কিন্তু ফায়ার এসে আর কারো সাথে কোন কথা বলল না।
এক দিন রাতে পুননি বলে , মা আমাকে বিয়ে দাও। বিয়ে না দিলে আমি মারা যাব। ছেলে পাবে কোথায় ? এদিকে মেয়ে যে এত বড় হয়ে যাবে ঝিলিক তা বুজতে পারছিল না। রইসুদ্দিনের একটাই মেয়ে। তাকে কি জড়তার সাথে বিয়ে দেয়া যায়? যায় না ! ঝিলিক ভাবলো মেয়ে বুজি এমনি বলছে। কদিন পরে আবার মেয়ে বলল মা আমাকে বিয়ে দাও। না হলে আমি মরে যাব।
ঝিলিক েকে বলে ওকে বলে কিন্তু একটা ভাল ছেলে পাওয়া যায় না। সবারই ২-৩ তা বিয়ে। লিয়াকত একদিন এই বস্তিতে এসেছিল কাঠের কাজ কোরতে। পুন্নিকে তার ভাল লেগে গেল। লিয়াকতের বাড়ি নাকি নন্দদিপাড়া। এক দিন ৪-৫ জন মহিলা আসল পুন্নিকে দেখতে। দেখে ৫০০ টাকা দিয়ে গেল। বুজল যে মেয়ে তাদের পছন্দ। বলে গেল , লিয়াকত কাজের বেলায় কাজ করে আর ঘুমালে ওরে জাগান যায় না। নেশা করে। আগের বৌ ছিল ২ তা। ওরাই চলে গেছে ওরে ফেলে। নেশা করলে ও আরো হামলে পরে বৌদের উপর। আশেপাশে সবাই লিয়াকতের হাত থেকে বাঁচতে চিৎকার দেয়া। তুমি অল্প বয়সী মেয়ে তোমাকে ও ভালবেসে নিয়ে যাচ্ছে। বসে বসে খাওয়াবে। লিয়াকতের নানী আর বোন আসে বেশ কয়েক বার দেখে বলে গেছে , পুননি তুমি ভাইকে ভালবেসে কাছে টেনে রেখ।
পুন্নির মনে ফাগুনের হাওয়া। যারা ওরে ওখানে দেখতে পেত না তাদের ও ওর জন্যে মায়া হয়। কত গল্প গুজুব ওরে ঘিরে। মনে হচ্ছে ওরাই বুজি ওর আত্মীয়। সবার চোখে পুননি যেন ভুল করছে। অথচ ও র কথা- ও বিয়ে করবেই। এক দিন ছেলের নানী আর ঝিলিক হাটে গেল ৩০০০ টাকা নিয়ে বিয়ের বাজার করবে। এক বস্তা ভরা চাল, মুরগি, মসলা , গুঁড়া দুধ ,আর ও অনেক বাজার অন্লো। খুলে খুলে দেখাচ্ছে মেয়েকে। বলছে তোর বাপকে ফোন দিয়ে বল , কি কি করলাম। পুন্নির উত্তর - হেকি তোমারে টাহা দিসে যে জানামু ?
বৃহস্পতিবার বিকালে সবাইকে নিয়ে গায়ে হলুদ করল , সবাইকে ডেকে ডেকে ফিরনি দিল খেতে। সবাই মাইল নাচলো। শুক্রবার সকালে ফোন আসলো থানা থেকে , রিদয় পকেট মারতে গিয়ে ধরা খেল। পুলিশি হেফাজতে। দুপুর ১১ তখন , ঝিলিক ভাবলো পুন্নিকে বিয়ে দিবেই। সবাইকে ডাকল , দেয় গো তোমরা পুন্নিকে গোসল দাও। সবাই মিলে গোসল দিল গান করল। পুন্নিকে কাপড় পড়ান হল। বিকাল বেলাতে সবাই রান্না করতে বসল। রান্না হচ্ছে আর সবাই কানাঘুষা করছে। তাতে ঝিলিকের কিছু যায় আসে না। রাত ৮ টার দিকে বর আসছে , একটা cng করে সাথে বন্ধু আর নানী। লিয়াকত হাটতে পারছে না নেশা করে বুদ্ হয়ে হাটছে। পাড়ার ছেলে মেয়েরা গেটে দাঁড়িয়ে আছে। ছেলে খুঁড়ে খুঁড়ে হাটছে আর পুননি পুননি বলছে। সবাই তো ছেলেকে এভাবে দেখে ঝিলিক কে বলে , ছেলে নেশা করে বিয়ে করতে আসছে। দৌড় দেয় ঝিলিক লিয়াকতের কাছে , কোলে করে নিয়ে আসে ঘরে। তেতুল পানি লেবু পানি দিয়ে বমি করায় ঝিলিক। মেয়েকে আর এক ঘরে সাজতে দিয়ে আসে। কাজী চুপ করে বসে আছে , পরিস্থিতি শান্ত হতে হময় লেগে যায় আরো ২-৩ ঘন্টা। লাল বেনারসি জড়িয়ে বসে আছে পূর্ণি। পাশে লিয়াকত। ঝিলিক মেয়ের জামাইকে একটা ঘড়ি আর গোটা কয়েক শত টাকা তুলে দেয় যা সে সবার কাছ থেকে সাহার্যের জোনীয় তুলে ানে। বলে , আমার পূর্ণিকে খেতে দিও , মের না। মারলে মেয়েকে আমি নিয়ে আসব। আর দিব না। লিয়াকত কি বুজল তা বুজা গেল না।
No comments:
Post a Comment
Thanks a lot
Regards,
morsalina