কখনো লাশ গোসল করিয়েছেন? অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা সুখকর কিছু না। আমরা সাধারণ মৃতদের সম্মানিত করার একটা চেষ্টা করি। মৃত মানুষদের স্মৃতিকে পবিত্র একটা রূপ দেওয়ার চেষ্টা আমরা করি। মৃত মানুষকে গোসল করানো কত টা স্বাভাবিক কাজ তা আমার জানা ছিল না। কাছ থেকে যত মৃত্যু দেখেছি তার মধ্যে অনেকের কথা মনে পড়ে। আমার বাড়ির পাশে এক মধ্যে বয়সী তিনি মারা গেলেন , আমরা ছোট হওয়াতে আসে পাশে গুড় ঘুরে করতাম আর আমাদের এক দিক থেকে সরিয়ে দিলে আমরা অন্য দিকে হানা দিতাম। তখ দেখলাম ৪ জন পুরুষ এক জন পুরুষকে কি অগোছালো নিথর দেহ তাকে পানি দিয়ে দুচ্চে। আবার তাদের পাশে মারা গেল চাচা বাতিঝি। এক জন কারেন্ট এ আর একজন আত্তহত্তা করে কিন্তু গোসল করানো সেইবার দেখলাম না। আমাদের বাড়িতে আনুর মা বলে একজন আছেন তিনি ধাঁই আবার মৃত নারীদের গোসল দেন। একবার আমাদের পিছনের বাড়িতে একজন মুরব্বি মারা গেলেন , তখন তিনি কোস্কো সাবানকে এক বোল পানিতে নিয়ে একদম ফেনা বানিয়ে ফেললেন গোসল দেয়াবেন বলে। আমরা ছোট তাই এগুলা দেখতে পেতাম। কিন্তু ছুঁয়ে দেখা কিংবা কি করে এগুলা হয় তা জানা ছিল না। আর একটু বড় হবার পর কেউ মারা গেলে সেখানে কুরআন পড়তে হয় তা জানা ছিল। আমি কুরআন পড়তে পারতাম। আমার চাচির বাবা মারা গেলেন। আমি ওখানে বসে বসে কুরআন পড়ছিলাম। সবাই জানতে চাচ্ছিল মেয়েটি কে ?
আমার মায়ের অনেক দায়িত্ত্ব ছিল যখন আমরা ভাই বোনেরা এক সাথে পড়তাম। সেইসব মনে হয় সব মায়েদের করতে হয়। মা যখন একা থাকতে শুরু করলেন , মা কি করবে বুঝে উঠতে পারেন নি। েকে তো উনি ছিলেন সল্প জানা মানুষ। কিন্তু ধর্ম জানা মানুষ। কুরআন তার অন্তরে। মায়ের গুন্ গুন্ কুরআনের আয়াত গুলা আমাদের অন্তরে অজান্তে গেথে বসে আছে। এরই মধ্যে মা আসে পাশে সবাইকে নিয়ে বসে ধর্ম চর্চা করতেন। আমি শশুর বাড়ি থেকে ঘুরে এসে জানতে পারি মা লাশ গোসল করিয়েছেন। আমি তো ধরলাম কেন তুমি ভয় পাওনা ? কেন তুমি নিজের বিপদ টেনে আনছো ? মা বললেন , যিনি জীবিত ছিলেন তিনি অনেক কর্ম করে গেছেন আমরাজারা জীবিত তাদের দায়িত্ব তাকে সম্মান দিয়ে বিদায় জানানো। তিনি আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন ভয় পাব কেন আজ তোমার মা মারা গেলে তোমাদের দায়িত্ব আমাকে গোসল করানো , আমি মারা গেলে তুমি কি ভয় পাবে ? আমাকে গোসল করবে না ? যাদের আমি গোসল দিলাম তারা কত দুআ দিছ্চেন আমাকে। নিষ্পাপ শিশুর মত যেন তারা ফিরে যায় তার জন্যে আমার গোসল করানো। মা আজ অব্দি যেখানে খবর পান , ছুতে যান অনুর মা ও যায় গিয়ে গোসল দেন মৃত্ কে। বাবা কিছুই বলেন না। শুদু দেখি মা ২-৪ দিন কারো সাথে কথা বলেন না। আরো ও গভীর ভাবে ধর্ম চর্চা করেন। এতে তার শান্তি।
No comments:
Post a Comment
Thanks a lot
Regards,
morsalina