Tuesday, 7 April 2020

মাসুদের মেয়েরা।

মাসুদের সাথে শেষ কথা হয় গত ৫-৬ মাস হয়ে গেল।  আমার সহযাত্রী ছিল সে।  আমাদের পরিচিত রুদ্রের খোঁজ নিতে শেষ কথা হয়।  আলাপের শেষে বলছিল ১১লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়েছিল পুলিশের চাকরি তা পেতে।  আমি বললাম তুমি কি সব টাকা পরিশোধ করেছ? উত্তর টা দিল না।  বুজে নিলাম অনেক চাপে আছে।  শেষে জিজ্ঞাসা করলাম , তোর মেয়েদের সাথে কবে দেখা হয়েছিল ? বলল - গত ডিসেম্বরে ছুটিতে। 
মাসুদের বৌ ২ মেয়ে নিয়ে কুমিল্লায় থাকে বাপের বাড়িতে। মাসুদ চাকরি করে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে।  খুব চালাক নয় ছেলেটা। অনেকের সুবিধা করে দিয়ে ও নিজে কিছু করতে পারল না।  বাবা -মা থাকে কুষ্টিয়ায়।  ওদের ওষুদের টাকা দিয়ে বৌকে সামান্য কিছু টাকা দিলে ওর পকেট প্রায় ফাঁকা পরে থাকে।  মাঝে মাঝে রুটি ডিম্ খেয়ে সপ্তাহ পার হয়ে যায়। 

রোজিনা কে বিয়ে করে মোটামুটি বাবা -মা থেকে বিচ্ছিন্ন।  প্রেমের বিয়ে মেনে নিতে ওদের খুব অনীহা।  যে মাসুদ প্রেম করে বিয়ে করেছিল সে হয়ত ভাবেনি , সামনে দিন গুলোতে সময় আরো খারাপ হবে।  হজ্ব করে বাবা তার সব সঞ্চয় শেষ করে।  বোনেদের জামাইদের কাছে ঋণ নিয়ে এই চাকরি টা জোগাড় করে।  যদি ও অনার্সে ফাটাফাটি রেসাল্ট ছিল।  দেখতে লিকলিকে হলে ও মনের দিক থেকে মাসুদ মাসুদের মতোই। 

দিয়া আর রিয়া ওরমেয়ে ২ টা। বাবা কে কাছে পেতে ওদের কত বাহানা।  দিয়ার বয়স ৬ আর রিয়ারর বয়স ৪।  দেখতে ফুটফুটে সুন্দর।  মেক বায়না ধরে কখন বাবাকে দেখবে ইমো তে।  যখনি সময় পে ওদের কে ইমো তে দেখা ওর আর একটা কাজ। 
দিয়া বাবাকে বলে বলতো বাবা , পাখি কেন ডাকে ? ওর উত্তর - োর ওদের বাবা কে ডাকে।  তাই োর ডাকে।  রিয়া তো ডাকে দেখে দেখে শিখে।

দিয়া কিছু খায় না যতক্ষন বাবা না বলে 'খাও'।  ওর বাবা হল ওদের প্রাণ ভ্রমর।  গুমাতে গেলে ইমোতে কথা বলে গুমাতে হয়।  প্রায় সময় ২ বোন মারামারি করে মোবাইল নিয়ে। 
সবার যখন কোয়ারেন্টাইন নিয়ে ব্যস্ত ঠিক অন্য দিকে ওর উপর দায়িত্ব সকলকে ঘরে রাখার।  যখনি ও ভাবে ২ মেয়ের কথা ২ চোখ  দিয়ে পানি ঝরে।  ওদের কি হবে যদি কোরনা আক্রমন বেড়ে যায়। 
একজন ডাক্তার যখন পিপিপি বলে চিৎকার দেয়।  তখন ওঁৎ শুদু ইন্সপেক্টর।  সব দেখেশুনে চুপ থাকা ছাড়া করার  কিছু নাই। 

বলেছিল , ছুটি দিবে , বাতিল করে দিল। মেয়েদের জন্যে কিছু জামা কিনিছে।  যাবার সময় নিয়ে যাবে।  কবে যে এই কোয়ারেন্টাইন সময় যাবে।  ওদের নিরাপদ রাখতে ওর প্রানান্ত চেষ্টা। 
আজ মাসুদের ডিউটি বটতলিটির এলাকায়।  সব দোকান বন্ধ আছে কিনা দেখতে হবে। 
মাইকিং করছে ঘরে থাকুন , নিজে নিরাপদ থাকুন , অন্যকে নিরাপদ রাখুন। 
বার বার মোবাইল খুলে দিয়া আর রিয়ার কেদেখে নিচ্ছে।  দিয়া আর রিয়া খুব বুচ্চে।  ওর বাবা বসে আছে দোকানের সামনে , আর বলছে দোকান খুললে আমাদের জন্যেই চকলেট কিনে বাড়ি চলে এস।  দিয়া রিয়া জন্যে নতুন করে ঘুম চোক নিয়েও ওঁৎ রাতে বসে আছে , সবার নিরাপত্তার জন্যেই। 

No comments:

Post a Comment

Thanks a lot
Regards,
morsalina

রমা

 রমা  আমার বয়স ৩০। গত ৩০ বছরে ৪টা বড় বড় Certificate আছে আমার । আমার অনেক বড় পাওয়া আমার ছাত্র জীবনে রমা মেম কে পাওয়া। ক্লাস ৪ থেকে তিনি আমাদে...