অনুদের শুক্র বার ।
অনুর বাবা সরকারি চাকরিজীবী । মাস ফুরুলে যে
বেতন পান তেতে সংসার চালাতে হয় পুরো মাস জুড়ে। ৩ মায়ে আর ১ ছেলের পড়াশুনা আগে
প্রাধান্য থাকে। মাস্টারে বেতন, স্কুল ফিস আর খাতা কলম তার পর থাকে সখের খাবার
দাবারের লিস্ট। হুম , শুক্রবার এই সংসারে সব চেয়ে খুসির দিন । না খাবারের জন্য নয়।
বাবা থাকেন বাসায় এই আনন্দে । বাবা আবদুল খায়ের জীবনে ১০ পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন ।
আর একটু পড়লে উপরের পোস্টে যেতে পারতেন। এই কথা অণুদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেন ।
শুক্রবার সকাল মা সুলতানা বেগম রুটি করে
টেবিলে খেতে ডাকেন।
অণু, টিয়া , হিয়া , রাসেল খেতে আস।
সবার পড়ার শব্দে মায়ের কথা কেঊ শূণলো না ।
বাবা উঠবেন , বাবা পড়া দেখবেন তাড় পর একসাথে
সাথে খাবেন ।
বাবা রাসেল কে খুব বকা দেন কিন্তু ৩ মেয়ে
চোখের মণি।
বাবা হয়ত বলবেন , আজও তোর পড়া শূনতে পাই নি ।
আমার হিয়া ছাড়া কেউ তো ঠিক করে পোড়লো না । তোদের পিছনে খাটার চেয়ে গরু মহিষের
পিছনে খাটলে ভাল হত । এতে কার ও মনে কিন্তু বাবার জন্য রাগ হয়না । কারণ বাবা তখনি
বলবেন, চল খেতে বসি । সবাই মিলে খওয়ার রহমত আছে । বলতে বলতে বাবার চা চলে আসবে ।
মা বলবেন আজ তো বাঁজার নাই ।
বাঁজার নিয়ে সংসারে নানা ঝামেলা । মা বলবেন
আমী কিছু লিখতে পারবনা হিয়া । তুই তোর বাবাকে বল না হোয় লিখে দে ।
৩ বোন আর ভাই মিলে লিখবে ।
মুরগি, মাছ , আলু , কুমড়া ,চিংড়ি , নূডূল,
বিস্কুট ...।
বাবা নিয়ে আসলেন ছোট মাছ , কচু , লাঊ আর আলু ।
এতে কারো মনে কষ্ট নাই । বাবা এমনটাই করেন ।
কিন্তু দুপুরে গরম ভাতের সাথে আদর আর মায়ের ঘোমটা দেয়া মূখটা বড় অদ্ভুত মজার ।
ঐ দিন টা সবাই একসাথে খাবে আর ভাইবোন গুলা কী
হল সারা সপ্তাহ জূড়ে তাই শূণাবে। গল্প গুলা সাদারঙের কিন্তু বাবা তাও মোণ দিয়ে
শুনবেন । এক গল্প ১০ বার শুনলেও বাবা না করবেন না ।
বাবা গান শূনতে পছন্দ করেন। টিয়া মণি একটা
গান শুনাও । “ও পদ্মা নদী তোর কাছে শুধাই বল আমারে তোর কীরে ভাই কূল কিনারা নাই ও নদী
কূল কিনারা নাই ।“ শূনতে শূনতে চোখ টা বূজে আসবে । আর এমন করে সকাল গড়িয়ে বিকাল হবে ।
সন্ধ্যায় বাবা পড়াতে বসাবেন ।
রাসেল ভয়ে থাকে যদি আগের পড়া ধরায় , ও তো সবই
ভুলে গেছে ।
অণু , টিয়া যে যার মত পরছে ।
বাবা নিয়ে বসছেন হিয়া আর রাসেল কে নিয়ে ।
বাবা বলছেন , আমার চা দিয়ে দাও । ওদের অংক
দেখব আজ ।
তখনই সবার ভয় হয় বাবা যেন কম পড়ান না হলে আজ
১০টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখবেন ।
হূম,অণু খাতা টা রেখে যা , দেখি তোর কি
অবস্থা ।
টিয়া , তোর English খুব খারাপ হচ্ছে । মন দিয়ে রুলেস দেখ ।
হারামজাদা তো কিছুই পারেনা ।
আবার সেই শুক্র বারের অপেক্ষা ।।
No comments:
Post a Comment
Thanks a lot
Regards,
morsalina